কুয়েটে উৎসবমুখর ও বর্ণিল আয়োজনে বর্ষবরণ ১৪৩৩ উদযাপন

খবর বিজ্ঞপ্তি ঃ উৎসবমুখর ও বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন করেছে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)। দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসজুড়ে বিরাজ করে প্রাণের উচ্ছ্বাস, ঐতিহ্যের আবহ এবং আনন্দঘন পরিবেশ। সকাল ৯টা ১০ মিনিটে স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার সেন্টারের সামনে ‘বৈশাখী উৎসব ১৪৩৩’-এর শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ। এরপর সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার সেন্টার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় বর্ষবরণ সংগীত। পরে সকাল সাড়ে ৯টায় একই প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ বের হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক ও পার্শ্ববর্তী এলাকা প্রদক্ষিণ করে। শোভাযাত্রায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো ক্যাম্পাস উৎসবের রঙে রঙিন হয়ে ওঠে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে ঐতিহ্যবাহী ‘বৈশাখী মেলা’র আয়োজন করা হয়। মেলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হল, লালন শাহ হল, খানজাহান আলী হল, ড. এম. এ. রশীদ হল, রোকেয়া হল, অমর একুশে হল এবং শহীদ স্মৃতি হলের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন আঙ্গিকে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য তুলে ধরে স্টল স্থাপন করেন। ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ এবং পরিচালক (ছাত্র কল্যাণ) প্রফেসর ড. মোঃ হাসান আলী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়ে স্টল পরিদর্শন করেন। এ সময় ভাইস-চ্যান্সেলর শিক্ষার্থীদের প্রকৌশল শিক্ষার পাশাপাশি গ্রামবাংলার ঐতিহ্যকে সৃজনশীলভাবে উপস্থাপনের জন্য প্রশংসা করেন। দিনব্যাপী খেলার মাঠে অস্থায়ী মঞ্চে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। এছাড়া মেলায় ছিল গ্রামবাংলার চিরচেনা নানা আয়োজন, যেমনÑসার্কাস, মোরগ লড়াই, বাউল সংগীত, ম্যাজিক শো, ট্রেজার হান্ট, ঘুড়ি উৎসব, নাগরদোলা ও বিভিন্ন রাইড, ঘোড়ার গাড়ি এবং পালকিসহ বিভিন্ন বিনোদনমূলক কার্যক্রম। পাশাপাশি শিক্ষক বনাম ছাত্র দড়ি টানাটানি এবং শিক্ষকগণের জন্য হাড়িভাঙা প্রতিযোগিতাও অনুষ্ঠিত হয়। বর্ষবরণ-১৪৩৩ উপলক্ষে বৈশাখী শোভাযাত্রা, আলপনা ও বৈশাখী মেলায় সেরা স্টল প্রদানকারী হলসমূহের মধ্যে বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদান করা হয়। বৈশাখী শোভাযাত্রায় প্রথম স্থান অর্জন করে ফজলুল হক হল, দ্বিতীয় হয় রোকেয়া হল এবং তৃতীয় হয় লালন শাহ হল। আলপনা প্রতিযোগিতায় প্রথম হয় লালন শাহ হল, দ্বিতীয় রোকেয়া হল এবং তৃতীয় খানজাহান আলী হল। বৈশাখী মেলায় সেরা স্টল নির্বাচিত হয় শহীদ স্মৃতি হল; দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে রোকেয়া হল এবং তৃতীয় হয় ফজলুল হক হল। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ, পরিচালক (ছাত্র কল্যাণ) প্রফেসর ড. মোঃ হাসান আলী এবং বিভিন্ন হলের প্রভোস্টগণ। অনুষ্ঠানসমূহে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, “বাংলা নববর্ষ আমাদের বাঙালি সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক। এই উৎসব আমাদের মাঝে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য এবং নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা যোগায়। কুয়েট পরিবার যেভাবে ঐতিহ্যকে ধারণ করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।” অনুষ্ঠানসমূহে সভাপতিত্ব করেন পরিচালক (ছাত্র কল্যাণ) প্রফেসর ড. মোঃ হাসান আলী। তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবারের বৈশাখ উদযাপন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজনের মাধ্যমে আমাদের ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।”উল্লেখ্য, এর আগে ১৩ এপ্রিল ক্যাম্পাসজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়। শিক্ষার্থীরা আলপনা অঙ্কন, প্যান্ডেল নির্মাণ, শোভাযাত্রার উপকরণ তৈরি এবং সাংস্কৃতিক মঞ্চ প্রস্তুতের কাজ সম্পন্ন করে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কল্যাণ দপ্তর। দিনব্যাপী সকল অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে।


