খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালে ২৮ টি ডায়ালাইসিস মেশিনের মধ্যে ১৯ টি সচল

# মেশিনগুলোর বয়স বেশি থাকায় কার্যক্ষমতা হারাচ্ছে : কর্তৃপক্ষ
শেখ ফেরদৌস রহমান: খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালে ২৮টির মত ডায়ালাইসিস মেশিন থাকলেও সচল আছে ১৯টি। দীর্ঘদিনের পুরাতন মেশিন থাকায় বারবার বিকল হচ্ছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালে নেফ্রোলজি বিভাগের কিডনি রোগীদের জীবন রক্ষাকারী ডায়ালাইসিস মেশিন কয়েকটি বিকল থাকায় ডায়ালাইসিস সেবা থেকে মাসে প্রায় ৩৬০ জন থেকে থেকে ৩৭৫ জন কিডনী রোগী ডায়ালাইসিস সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পাশাপাশি হাসপাতালটিতে সিডিউল প্রাপ্ত কিডনি রোগীরা পড়ছেন ভোগান্তিতে। প্রাইভেট হাসপাতালে একদিনে ডায়ালাইসিস খরচ পড়ছে চার হাজার টাকা। এ দিকে খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালে ৬ মাসের ডায়ালাইসিস সিডিউল খরচ মাত্র বিশ হাজার টাকা। মুলতঃ কিডনি সমস্যা হলে কিডনি যদি ঠিক মতো কাজ না করে তবে বর্জ্য শরীরে জমা হতে শুরু করে যা শরীরের জন্য ক্ষতিকারক। শরীর তখন ফুলে যায়। এমন পরিস্থিতিতে জমাট বাধা পানি বের করার জন্য ডায়ালাইসিস করা হয়। কিডনি ব্যর্থ হলে রক্তের ফিল্টারিং যা দেহকে অযাচিত বিষাক্ত পদার্থ , বর্জ্য পদার্থ এবং অতিরিক্ত তরল পদার্থ দ্বারা সংক্রামিত করে। কিডনি যখন ব্যর্থ হয় তখন শরীরে রক্ত পরিষ্কার করা এবং রাসায়নিকভাবে সিস্টেমের ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হয় পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত কিডনি রোগীদের শেষ ভরসা থাকে ডায়ালাইসিস। বটিয়াঘাটা থেকে ডায়ালাইসিস সেবা প্রত্যাশি রোগীর স্বজন আহম্মদ আলী বলেন, আমার মায়ের দুটি কিডনি নষ্ট যে জন্য ডায়ালাইসিস প্রয়োজন। খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালে ৬ মাসের ডায়ালাইসিস প্যাকেজ ২০,০০০ টাকা। তাছাড়া প্রতি মাসে ৬ থেকে ৭ বার ডায়ালাইসিস দেয়া হয়। আমাদের দাবি সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষর নিকট গরীব অসহায় কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস সেবা বৃদ্ধির জন্য ডায়ালাইসিস মেশিন আরও বেশি স্থাপন করবেন। এখানে গরীব অসহায় মানুষেরা সেবা নিতে আসে। প্রায় মানুষের এত খরচ বহন করা সামর্থ নেই। এই রোগটি এমন রোগ যে পরিবারকে নিঃস্ব করে দেয়। প্রাইভেট হাসপাতাল থেকে এই ডায়ালাইসিস একবার দিতে খরচ ৪ হাজার টাকা। মাসে ডায়ালাইসিস দিতে হয় ছয়বার মানে এক মাসে ২৪ হাজার টাকা এত খরচ মানে আমাদের মত গরীব মানুষদের কাছে একটি অতিরিক্ত কষ্টের ব্যাপার। বিষয়টি নিয়ে খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালের নেফ্রোলজি বিভাগের প্রধান ডাঃ এনামুল কবীর বলেন, বর্তমানে হাসপাতালটিতে ডায়ালাইসিস মেশিন ২৮টির মধ্যে ১৯টির মত সচল আছে। বাকি গুলো দীর্ঘদিন ব্যবহার করার কারণে বিকল হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি সচল করার জন্য। না করতে পারলে নতুনভাবে ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপনার জন্য চিঠি আগেও দেয়া হয়েছে আবারও দেয়া হবে। বিষয়টি নিয়ে খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ শেখ আবু শাহীন বলেন, হাসপাতালটিতে ৯টির মত মেশিন বিকল আছে আগে বেমি ছিল গেলসপ্তাহে নিমুউ থেকে এসে চারটির মত মেরামোত করে দিয়েছে। গেল মাসেও এক হাজার চুয়াল্লিশ জন রোগী ডায়লাইসিস সেবা নিয়েছে। এর আগে গড়ে প্রতি মাসে ১২শ’র বেশি রোগী সেবা নিত। আমরা চেষ্টা করছি পুরাতন গুলো সচল করার জন্য।


