জাতীয় সংবাদ

নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেননি রিটার্নিং কর্মকর্তা

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে জামায়াত জোটের শরিক এনসিপির নেত্রী নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেননি রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দীন খান। বুধবার (২২ এপ্রিল) তিনি সাংবাদিকদের এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেল ৪টায় মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল। নির্ধারিত সময় শেষে মনোনয়নপত্র গ্রহণের কোনো সুযোগই নেই। আইন অনুযায়ী এটা আমরা পারি না। এদিকে মনোনয়নপত্র দাখিলকারীদের জন্য প্রণীত তালিকাতেও এনসিপি নেত্রীর নাম নেই। সেখানে ৫৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বলে উল্লেখ রয়েছে। জানা গেছে, মঙ্গলবার নির্ধারিত সময় শেষের পরে অর্থাৎ ৪টা ১৯ মিনিটে নুসরাত তাবাসসুম মনোনয়নপত্র নির্বাচন ভবনের প্রাপ্তি ও জারি শাখায় জমা দেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তর জানিয়েছে, যে ৫৩ জন প্রার্থীর মনোনয়ন জমা হয়েছে, সেখানে জামায়াত জোটের ১৩ জনের মধ্যে বাছাইয়ে ১২ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। আর এনসিপির নেত্রী মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাছাই কার্যক্রম বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুর ১২টা পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। সরকারি চাকরির পূর্ণাঙ্গ তথ্য না দেওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত দিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এক্ষেত্রে তাকে যথাযথ কাগজপত্র দাখিল করতে বলা হয়েছে। মনিরা শারমিন ২০২৩ সালের ১ নভেম্বর কৃষি ব্যাংকে যোগদান করলেও ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন। ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, আইন অনুযায়ী, সরকারি চাকরি থেকে অবসর বা পদত্যাগের পর তিন বছর অতিবাহিত না হলে সংসদ সদস্য হিসেবে অযোগ্য হবেন সংশ্লিষ্ট প্রার্থী। এক্ষেত্রে মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল হবে। অন্যদিকে নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র গ্রহণ না হওয়ায় জামায়াত জোটের একটি আসন সংসদে কমে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কারণ হিসেবে ইসি কর্মকর্তারা জানান, সাধারণ নির্বাচনে প্রাপ্ত আসনের অনুপাতে ৫০টি সংরক্ষিত আসনের মধ্যে জামায়াতের জন্য ১৩টি আসন বরাদ্দ করে ইসি। এক্ষেত্রে আইন বলছে, কোনো দল বা জোটের জন্য বণ্টন করা আসন সংখ্যার চেয়ে মনোনয়নপত্র কম হলে সংশ্লিষ্ট আসনটি সংসদের প্রতিনিধিত্বকারীদের জন্য উন্মুক্ত হয়ে যায়। ফলে নতুন তফসিলের ওই নির্বাচনে সংসদ সদস্য বেশি থাকায় আসনটি ভোটের মাধ্যমে বিএনপি ঘরে উঠতে পারে। এদিকে বিএনপি জোট ভাগে পাওয়া ৩৬টি আসনের জন্য ৩৬ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মোর্চাও দিয়েছে একজনের মনোনয়নপত্র। আর দল বা জোটের কেউ নন এমন তিন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। তবে এদের মধ্যে মাহবুবা রহমান নামের এক প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। তফসিল অনুযায়ী, ২৩ এপ্রিল প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই হবে। রিটার্নিং কর্মকর্তার দেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আগামী ২৬ এপ্রিল নির্বাচন কমিশনে আপিল করা যাবে। আপিল নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল, প্রতীক বরাদ্দ ৩০ এপ্রিল। আর নির্বাচন হবে ১২ এপ্রিল।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button