অনলাইনে আয়ের লোভ দেখিয়ে ৪০ লাখ টাকা আত্মসাৎ : গ্রেপ্তার ২

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ অনলাইনে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎকারী চক্রের দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডির ঢাকা মেট্রো- পূর্ব ইউনিট। বুধবার (২২ এপ্রিল) রাতে রাজধানী থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন মো. সাজ্জাদ হোসেন (৩৩) মো. রাজিব খাঁন (৩৩)। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দীন খান বিষয়গুলো গণমাধ্যমকে অবগত করেন। গত ২০২৫ সালের ১ জুলাই মতিঝিল থানাধীন এলাকায় অবস্থানকালে একজন ভুক্তভোগী ব্যক্তি টেলিগ্রাম অ্যাপসের মাধ্যমে ‘সাবরীনা ইসলাম’ নামের একটি আইডির সঙ্গে পরিচিত হন। ওই আইডি থেকে তাকে অনলাইনে সহজে আয় করার প্রলোভন দেখিয়ে ‘এটমিক মার্কেট’ নামের একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কাজ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী সরল বিশ্বাসে প্রস্তাবে সম্মত হয়ে তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী একটি অ্যাকাউন্ট খোলেন। প্রথমে প্রতারকরা স্বল্প অঙ্কের টাকা বিনিয়োগের বিপরীতে কমিশন ও বোনাস প্রদান করে ভুক্তভোগীর আস্থা অর্জন করে। এতে ভুক্তভোগীর নিকট বিষয়টি বৈধ ও লাভজনক বলে প্রতীয়মান হয়। পরবর্তীতে অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে ধাপে ধাপে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বড় অঙ্কের টাকা জমা দিতে বলা হয়। ভুক্তভোগী বিভিন্ন সময়ে তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী টাকা জমা দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে ভুক্তভোগীর অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ লাভ দেখানো হলেও সেই অর্থ উত্তোলনের সময় ‘সিকিউরিটি ফি’, ‘সার্ভিস চার্জ’, ‘এনএফটি’ স্কোর বৃদ্ধি ইত্যাদি বিভিন্ন অজুহাতে পুনরায় অর্থ দাবি করা হয়। ভুক্তভোগী সরল বিশ্বাসে এসব অর্থও প্রদান করেন। এভাবে প্রতারক চক্রটি ধাপে ধাপে তার কাছ থেকে সর্বমোট ৩৯ লাখ ৫৬ হাজার ৪৬৯ টাকা আত্মসাৎ করে। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী টাকা উত্তোলনের চেষ্টা করলে প্রতারকরা বিভিন্ন টালবাহানা করতে থাকে এবং একপর্যায়ে সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। তখন ভুক্তভোগী বুঝতে পারেন যে তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী মতিঝিল থানায় মামলা একটি মামলা করেন। মামলাটি অধিগ্রহণের পর সিআইডির ঢাকা মেট্রো-পূর্ব ইউনিটের একটি চৌকস দল আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে আসামি মো. সাজ্জাদ হোসেনের অবস্থান শনাক্ত করে। পরবর্তীতে রাতে হাজারীবাগ থানাধীন নতুন রাস্তা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন রাতে নিউমার্কেট থানাধীন প্রিয়াঙ্গণ শপিং সেন্টার এলাকা থেকে তার সহযোগী মো. রাজিব খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় আসামিদের কাছ থেকে অপরাধ কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও সিম কার্ড জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা স্বীকার করে যে, তারা ভুয়া টেলিগ্রাম আইডি ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন চাকরি ও সহজে আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করে আসছিল। তদন্তে আরও জানা যায়, আসামি মো. সাজ্জাদ হোসেন পূর্বেও এ ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকা-ে জড়িত এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। অপর আসামি মো. রাজিব খাঁন বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব খোলা ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সরবরাহের মাধ্যমে এ প্রতারণা কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করতো। গ্রেপ্তারদের রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলাটির পূর্ণ রহস্য উদ্ঘাটন ও সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনার লক্ষে সিআইডির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সিআইডি এ ধরনের অনলাইন প্রতারণা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে বদ্ধপরিকর এবং সাধারণ জনগণকে এ ধরনের প্রতারণামূলক অনলাইন অফার থেকে সতর্ক থাকার জন্য নিয়মিত পরামর্শ প্রদান করে যাচ্ছে।



