খুলনা পানি সরবরাহ প্রকল্পের দায়িত্ব থেকে বিতর্কিত বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী নেতা রেজাউল ইসলামকে অব্যাহতি

খুলনা ওয়াসা
স্টাফ রিপোর্টার : অবশেষে খুলনা ওয়াসার ‘পানি সরবরাহ প্রকল্পের (ফেজ-২) রুটিন দায়িত্ব থেকে বিতর্কিত বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী নেতা রেজাউল ইসলামকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। রোববার স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের (পরিকল্পনা-৩ শাখা) উপসচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আফসার স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে প্রকল্পের কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালককে জরুরী ভিত্তিতে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের প্রস্তাব প্রেরণের নির্দেশনা প্রদান করা হয়। খুলনা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. কামরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, খুলনা পানি সরবরাহ প্রকল্পের (ফেজ-২) প্রকল্প পরিচালক (রুটিন দায়িত্ব) থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর এবার প্রকল্প পরিচালকের পদ পেতে রেজাউল ইসলাম ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন মহলে দৌড়ঝাঁপ এবং বড় অংকের অর্থ নিয়ে জোর তদবির শুরু করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলী মো: রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়ম- দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ অফিসিয়াল তদন্তনাধীন রয়েছে। ইতিমধ্যে তার দুর্নীতির বিষয়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। এমনকি তিনি ‘খুলনা পানি সরবরাহ প্রকল্পের (ফেজ-২) প্রকল্প পরিচালক পদ পাওয়ার জন্য তৎকালীন ছাত্র সমন্বয়কদের মাধ্যমে বিভিন্ন স্তরে দৌড়ঝাঁপ করে মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের এবং খুলনা ওয়াসার কর্তৃপক্ষকে বিভিন্নভাবে ম্যানেজ করেন । যে কারণে একাধিক অভিযোগ থাকা স্বত্বেও গত বছরের ১১ ডিসেম্বর মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পন-৩, শাখা থেকে উপসচিব ইবাদাত হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে তাকে অনিয়মের মাধ্যমে প্রকল্প পরিচালকের (রুটিন দায়িত্ব) প্রদান করা হয়। এছাড়া তিনি ইতিপূর্বে বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের ব্যানারে আইবি নির্বাচন করেন।
অভিযোগ আছে, খুলনা ওয়াসার বর্তমান দুইজন বোর্ড সদস্য মোঃ রেজাউল ইসলামরে পক্ষে বিভিন্ন জায়গায় তদবির করেন।
দাতা সংস্থার বৃহৎ এ প্রকল্প পরিচালনা এবং বাস্তবায়নের বাস্তব কোন অভিজ্ঞতা মোঃ রেজাউল ইসলামের নেই। তিনি খুলনা ওয়াসায় চাকুরী জীবনে শুধুমাত্র ওয়াসার জোনাল অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন। ফলে বৃহৎ প্রকল্প পরিচালনার মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা ছাড়েই তাকে প্রকল্পের দায়িত্ব দেওয়ায় নানা মহলে প্রশ্ন ওঠে। এছাড়া ‘খুলনা পানি সরবরাহ প্রকল্প, ফেজ-২’ এর দরপত্র মূল্যায়ন কমিটিতেও রেজাউল ইসলামের অন্তর্ভুক্তির ফলে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
খুলনা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. কামরুজ্জামান খুলনা ওয়াসার ‘পানি সরবরাহ প্রকল্পের (ফেজ-২) রুটিন দায়িত্ব থেকে রেজাউল ইসলামকে অব্যাহতি প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করে এ প্রতিবেদককে বলেন, কোন ধরণের অযোগ্য, অদক্ষ ও বিতর্কিত ব্যক্তিকে ‘খুলনা পানি সরবরাহ প্রকল্পের (ফেজ-২) প্রকল্প পরিচালক পদে নিয়োগ প্রদানের সুপারিশ করা হবে না। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সৎ, যোগ্য ও দক্ষ কর্মকর্তাকে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের সুপারিশ করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রায় ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকার খুলনা পানি সরবরাহ প্রকল্প (ফেজ–২)-এ প্রকল্প পরিচালক (রুটিন দায়িত্ব) হিসেবে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রেজাউল ইসলামকে কোনো ধরণের নিয়োগ পরীক্ষা কিংবা বোর্ড সভা ছাড়াই নিয়োগ দেওয়ায় চরম বিতর্ক তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে ওয়াসা ভবনে চরম অসন্তোষ, বিভাজন ও উত্তেজনাও দেখা দেয়। কারণ তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই সাবেক এমপি শেখ জুয়েলের ঘনিষ্ঠজন এবং বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের নেতা হিসেবে পরিচিত। এছাড়া এ প্রকল্পে প্রকল্প পরিচালক হিসেবে ন্যূনতম ৪র্থ গ্রেডের প্রকৌশলী থাকার বিধান থাকলেও রাজনৈতিক তদবির ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগের মধ্যেই ৬ষ্ঠ গ্রেডের একজন প্রকৌশলীকে পিডি (রুটিন দায়িত্ব) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এতে সংস্থার ভেতরে ক্ষোভের আগুন জ্বলতে থাকে। একাংশ এই নিয়োগে সন্তুষ্ট থাকলেও বড় একটি অংশ একে নীতিবহির্ভূত ও রাজনৈতিক পুনর্বাসনের চেষ্টা হিসেবে অভিযোগ উত্থাপন করেন। যদিও শেষ পর্যন্ত অব্যাহতি প্রদানে ওয়াসা ভবনে সন্তোষ বিরাজ করছে।



