মাশরুম চাষে নারীদের সাবলম্বীতা অর্জন ও দারিদ্রহ্রাসে সহায়ক হবে

# খুলনায় তিন দিনব্যাপী মাশরুম মেলা উদ্বোধনে কেসিসি প্রশাসক #
স্টাফ রিপোর্টার : মাশরুম চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র হ্রাসকরণ প্রকল্পের আওতায় অঞ্চল পর্যায়ে খুলনা বিভাগে প্রথমবারের মতো আয়োজিত তিন দিনব্যাপী মাশরুম মেলা উদ্বোধন অনুষ্ঠান বুধবার বিকালে খুলনা শহীদ হাদিস পার্কে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
প্রধান অতিথি কেসিসি প্রশাসক বলেন, আমরা এই মেলার মাধ্যমে একটি নতুন বার্তা পেলাম মাশরুম চাষ বাংলাদেশে কিভাবে সফল হলো। এটি অল্প শ্রমে, অল্প পুঁজি বিনিয়োগে, অল্প জায়গায় উৎপাদনযোগ্য একটি লাভজনক ফসলে পরিণত হয়েছে। ব্যাংক সেক্টর কে আমাদের পরামর্শ দিতে হবে,তারা যেন স্বল্প সুদে পুজিহীন নারীদের ব্যাংক ঋণ দিয়ে সহযোগিতা করেন। যাতে করে নারীরা স্বাবলম্বী হতে পারে। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ যখন একটি আইটেমকে নিয়ে প্রচার প্রচারনা শুরু করেন তখন সেটি সারা বাংলাদেশে অবশ্যই প্রসার লাভ করে। আগে আমরা বিভিন্ন নামী-দামী রেস্টুরেন্টে মাশরুমের স্যুপ খেতাম। এখন আমরা এই মাশরুম কেক,মাশরুম চপ,মাশরুম জিলাপি,মাশরুম পাউডার, চিপস ইত্যাদি নানাভাবে প্রক্রিয়াকরণ করে বাজারজাত করতে পারবো। তিনি আরও বলেন, মাশরুমে ঔষধি গুণ রয়েছে। এই মেলার মাধ্যমে দর্শনার্থীরা মাশরুম চাষ পদ্ধতি ও পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জানতে পারবেন। এতে খুলনা অঞ্চলে মাশরুম চাষ ব্যাপকভাবে প্রসার লাভ করবে। বিশেষ করে নারীদের সাবলম্বীতা অর্জনে ও দারিদ্রহ্রাসে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ^াস করেন, প্রধানমন্ত্রীর কৃষক কার্ড কৃষিতে নতুন বিপ্লব সূচিত করবে। আমি বিশ্বাস করি এই মেলার মাধ্যমে মাশরুম সাধারণ মানুষের কাছে পৌছে যাবে। সাধারণ মানুষ গুনাগুন সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে পারবে। এছাড়া বর্তমান সরকার শিক্ষা,স্বাস্থ্যসহ সব ক্ষেত্রেই নানান উন্নয়নে কাজ করছে।
স্বাগত বক্তৃতায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের মেলার উদ্দেশ্য হলো মাশরুমকে জনপ্রিয় করা।মাশরুম যে একটি পুষ্টিগুণ ও ঔষধি খাবার জানতাম না। আগে জানতাম মাশরুম মানে ব্যাঙের ছাতা। মাশরুমের একটি পাতা থেকে মাশরুম উৎপাদন করার মত উদ্যাক্তা তৈরি হয়েছে খুলনা অঞ্চলে। এখন আর মাশরুমের জন্য ঢাকার সাভারে যেতে হয় না। খুলনা অঞ্চলে মাশরুমে র্স্পন পাওয়া যায়।
সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামার বাড়ির হর্টিকালচার উইং এর পরিচালক ড.মোঃ হজরত আলী। খুলনা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিতান কুমার মন্ডলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ রফিকুল ইসলাম। মাশরুম চাষ বিষয়ক কী-নোট পেপার উপস্থাপন করেন মাশরুম চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র হ্রাসকরণ প্রকল্পের পরিচালক ড.মোছাঃ আক্তার জাহান কাঁকন। অনুষ্ঠানে জেলা কৃষক দলের সভাপতি মোল্যা কবীর হোসেন, মাশরুম উদ্যোক্তা মোঃ আনোয়ার হোসেন ও মোঃ আক্কাস আলী বক্তব্য রাখেন।অনুষ্টান সঞ্চলনা করেন সাতক্ষীরার এডিডি কৃষ্ণা রানী মন্ডল।তিন দিনব্যাপী মাশরুম মেলায় খুলনার বিভিন্ন জেলা থেকে অংশগ্রহণকারী ২২টি স্টলে মাশরুম বিক্রি ও প্রদর্শন করা হচ্ছে। মেলা প্রতিদিন সকাল নয়টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। অনুষ্ঠান শুরুর আগে মেলা উপলক্ষ্যে এক শোভাযাত্রা বের করা হয়।



