স্থানীয় সংবাদ

আকাশ ছোঁয়া শ্রমিকের মুজরী, ধানের নেই কাঙ্খিত মূল্য

ডুমুরিয়ায় ধান চাষীরা মহাবিপদে

সুজিত মল্লিক, ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি ঃ খুলনার ডুমুরিয়ায় ধান চাষীরা মোটেও ভালো নেই। ধানের কাঙ্খিত মূল্য না থাকা, শ্রমিকদের আকাশ ছোঁয়া মুজরী আর বর্ষার প্রভাবে এবার পড়েছেন মহাবিপদে। ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ২২হাজার ১’শ ৩২ হেক্টর জমিতে হয় ধানের আবাদ। রোপনের শুরু থেকেই মৌসুমটা বেশ ভালোই ছিল। ধানে রোগ-বালাই, পোকা-মাকড় বা বৈরী প্রভাব, কোন কিছুই ছিল না। এখন ধান কাটার সময়ে দেখা যাচ্ছে যত সমস্যা। তারমধ্যে প্রথমতঃ হল ধানের মূল্য। উৎপাদন খরচের তুলনায় এবার ধানের মূল্য নেই। বাজারে চলছে মোটা জাতের ৮’শ হতে সাড়ে ৮’শ আর চিকন চলছে হাজার থেকে সাড়ে ১১’শ পর্যন্ত। এই দরে ধান বিক্রি করে কৃষক পড়ছেন লোকসানের মুখে। কারণ ধান উৎপাদন খরচ হয়েছে অনেক বেশি। এরপর দ্বিতীয়তঃ হল শ্রমিকের মুজরী। এ বছর ধানের কাজে শ্রমিকের মুজরী উঠেছে ১২’শ টাকা। সারাদিন একজন শ্রমিক কাজ করলে তাকে দিতে হবে ওই পরিমাণে টাকা। এমনি ভাবে খরচের ঘানি টানতে গিয়ে কৃষকদের হতে হচ্ছে সর্বশান্ত। তারপরও চলছিল ধান কাটা-ঝাড়ার কাজ। কিন্তু এরই মধ্যে চাষীরা পড়েছেন মহা বিপদে। হঠাৎ বর্ষা শুরু হওয়ায় এ বিপদের যেন অন্ত নেই। পানিতে ডুবে আছে কেটে রাখা সারি সারি ধানের গোছা। আবার কারো কারো আছে বড় বড় ধানের গাদি। যা রক্ষায় দিয়েছেন পলিথিনের ছাউনি। এছাড়াও বাড়ির উঠানে, রাস্তার পাশে রাখা ধানও আছে ওই অবস্থায়। বর্ষার প্রভাবে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক। শেষ পর্যন্ত কি আছে কপালে, এই চিন্তায় কাটছে তাদের দিন।
এ প্রসঙ্গে রঘুনাথপুর ইউপি চেয়ারম্যান মনোজিত বালা সাংবাদিকদের জানান, এবারের ইরি ধান মৌসুমে উত্তর ডুমুরিয়ায় বেশির ভাগ কৃষক পড়েছেন চরম ক্ষতির মুখে। এ অঞ্চলে সবে মাত্র ধান কাটা চলছিল। এরই মধ্যে শুরু হল বর্ষা। ক্ষেতের ধান ভিজে ডব-ডব করছে। এমন ক্ষতি কেটে ওঠা খুবই কঠিন। এ বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ নাজমুল হুদা জানান, ডুমুরিয়া উপজেলা ব্যাপি চলতি ইরি বোরো মৌসুমে মোট ২২ হাজার ১’শ ৩২ হেক্টর জমিতে ধান চাষ করা হয়েছিল। তবে এবার শ্রমিকের মুজরী অনেক বেশি আর ধানের মূল্য কিছুটা কম। ফলে কৃষকরা লোকসানে আছেন এটা সঠিক। এরই মধ্যে আবার বর্ষার প্রভাব। এমন পরিস্থিতি সামলানো অত্যন্ত কঠিন। ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবিতা সরকার জানান, শ্রমিকের মুজরী নিয়ে একটা নিদের্শনা দেয়া হয়েছে। আর বিশ্ব বাজার অস্থিরতার কারণে হয়তঃ ধানের মূল্য কম হতে পারে। সর্বশেষ প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে তো কারো কিছু করার থাকে না। তারপরও সরকারি ভাবে কোন প্রকার সহায়তার সুযোগ থাকলে তা করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button