স্থানীয় সংবাদ

নির্বাচনের দাবিতে খালিশপুর নিউ মার্কেটের ব্যবসায়ীরা ফুঁসে উঠছে

# নির্বাচনী মেয়াদ শেষ হলেও সভাপতির খামখেয়ালীর কারণে তা হচ্ছে না #

স্টাফ রিপোর্টারঃ কেসিসি পরিচালিত খালিশপুর নিউ মার্কেটের ব্যবসায়ীরা নির্বাচনের দাবিতে ফুঁসে উঠেছে। প্রায় দু’ বছর আগে নির্বাচনী মেয়াদ শেষ হলেও সভাপতির খামখেয়ালীর কারণে বাজারে স্থতিশীলতা ফিরে আসছে না। এ সুযোগে একটিচক্র বাজার কমিটি দখলের পায়তারা করছে। তবে ক্ষুব্দ ব্যবসায়ীরা তাকে ক্ষমতার লোভী বলে আখ্যা দিয়েছে। তবে তিনি বলেছেন, সমিতির হিসাব নিকাশ ও বকেয়া টাকা না পাওয়ার কারণে তিনি নির্বাচন দিতে পারছেন না। অন্যদিকে ১১নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি এবং ওই বাজারের ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে বাজারে সাধারণ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ নিয়ে ওয়ার্ড বিএনপির একাংশের নেতা-কর্মীদের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে। থানা পুলিশের হস্তক্ষেপে কিছুটা শান্ত হয়েছে। তবে ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ফেইজবুকের ভূয়া আইডি দিয়ে তার বিরুদ্ধে বাজারে চাঁদাবাাজসহ যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ন মিথ্যা বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রনোদীত। খালিশপুর নিউ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাঃ সম্পাদক আল আমিন বলেন, তিনি সভাপতির নিকট একাধিকবার বাজারের হিসাব চেয়েছেন। একই সাথে নির্বাচন দেয়ার প্রস্তাব দেন। কিন্তু সভাপতি এসবের কোন তোয়াক্কা না করেই অবৈধভাবে ক্ষমতা ধরে রাখতে চায়। এসব কথা বললে সভাপতি উল্টো হুমকি ধামকি দেয়। বাজারের নির্বাচনী মেয়াদ তিন বছর সেই মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে। কিন্তু সভাপতি নির্বাচন দেয়ার কোন পরিনকল্পনা নেই। এজন্য বাজারে নানা রকমের বিশৃংখলা হচ্ছে। অবিলম্বে নির্বাচন দেয়ার দাবি জানান এই সাঃ সম্পাদক। তিনি বলেন, এই আনোয়ার ১১নং ওয়ার্ড আ’লীগের জয়েন্ট সেক্রেটারি ছিল। তার ক্ষমতার অপব্যবহার ছিল চরমে। তিনি কাউকে পাত্তা দিতেন না। তিনি ৪ আগস্ট হুইপ বকুল সাহেবের বাড়ি ভাংচুরের মিছিলে অংশ নেন। অথচ এখন বিএনপি সাজতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। আবার বিএনপির একটি গ্রুপ তাকে সহযোগিতা করছে বলে তিনি জানান। বিগত দিনে সভাপতি কমিটির ৯ জনের মধ্যে ৮ জনকেই পাত্তা দিতেন না। তিনি দলের ক্ষমতা দেখিয়ে বাজারের প্রায় ৫ লাখ টাকা আতœসাত করেছেন। হিসাব চাইলে তিনি হুমকি ধামকি দেন বলে সাঃ সম্পাদকের অভিযোগ। তিনি বলেন, ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীরের বাজারে ১০/১২টি দোকান রয়েছে। তিনি প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে তিনি দাবি করেন। বাজারের দোকানদার আঃ সোবহান বলেন, গত দু’ বছর আগে নির্বাচনের মেয়াদ শেষ হয়েছে। কিন্তু সভাপতি আনোয়ার ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখার জন্য নির্বাচন দিতে চান না। জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে বিগত দিনে চাঁদাবাজির কোন অভিযোগ ছিল না। উল্টো সভাপতি আনোয়ার অবৈধভাবে হাউজিং-এর তিনটি প্লট দখল করে রেখেছেন। জালাল আহমেদ বলেন, হাউজিং-এর ৭৪নং প্লটসহ তিনটি প্লট আনোয়ার অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন। বাজারের ব্যবসায়ী আবু সাঈদ বলেন, তিনি বাজারের অফিস সহকারি হিসেবে দীর্ঘ দিন কর্মরত ছিলেন। তার বেতন বাবদ ১৭ হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে। টাকা চাইলে সভাপতি উল্টো হুমকি ধামকি দেন। হারুন অর রশীদ বলেন, নির্বাচনের কথা বললেই মামলা হামলার হুমকি দিয়ে বাজারের ব্যবসায়ীদের ভয়ের মধ্যে রাখেন সভাপতি। বাজারের দোকান বিক্রি করলে সভাপতিকে সালামী বাবদ ১০-১৫ হাজার টাকা দিতে হয়। সেক্রেটারি একাধিকবার সভাপতিকে নির্বাচনের জন্য বললেও তিনি কর্ণপাত করেন না। কারণ তার ক্ষমতার উৎস ছিল মহিলা আ’লীগ নেত্রী ও সাবেক কাউন্সিলর পারভীন আাক্তার। বাজার কমিটির সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, গত ১৩/৩/২৫ তারিখে বাজারে সাধারণ সভা করে বকেয়া টাকা উত্তোলনের জন্য কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন সাঃ সম্পাদক আল আমিন। বাজারে বকেয়া রয়েছে আল আমিনের নিকট ৫০ হাজার টাকাসহ ৪ লাখ টাকা। আল আমিনের নাম বেনামে বাজারে ১৭টি দোকান ঘর রয়েছে। ওই টাকা যাতে দিতে না হয় সে জন্য কমিটির লোকজন অন্য ব্যবসায়ীদের বকেয়া টাকা না দিতে নিরুৎসাহীত করেন। কারণ তাহলে কমিটির লোকদের বকেয়া টাকা আগে দিতে হবে। বাজারের বকেয়ার টাকা না পেলে কিভাবে নির্বাচন দিব। তারপরও নির্বাচন দেয়ার চেষ্টা করছি। বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে সে ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান। অফিস সহকারি আবু সাঈদ উল্টো সমিতির টাকা আতœসাত করেছেন বলে জানান। তিনি বলেন, তিনি ক্ষমতায় আসার পর দোকান বিক্রির এসব সালামী সম্পূর্ন বন্ধ করেছেন। তিনি টেন্ডারের মাধ্যমে হাউজিং-এর প্লট পান বলে জানান। কেসিসির এষ্টেট অফিসার গাজী সালাউদ্দীন বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। বাজারে নির্বাচন দেয়ার ব্যাপারে তিনি কাজ করছেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button