শ্রম আইন পুরোপুরি বাস্তবায়ন এবং শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে : অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ এমপি

# খুলনা মহানগরী শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের শ্রমিক সমাবেশ ও বর্ণাঢ্য র্যালী #
খবর বিজ্ঞপ্তি ঃ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ এমপি শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো শ্রমজীবী মানুষ। অথচ অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকরা তাঁদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। শ্রম আইন পুরোপুরি বাস্তবায়ন এবং শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি বলেন, ‘ইসলাম শ্রমিক ও মালিকের মধ্যে ভাই ভাই সম্পর্কের কথা বলেছে। শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকানোর আগেই তাঁর পারিশ্রমিক পরিশোধ করার তাগিদ দিয়েছে ইসলাম। এই নীতি আদর্শ মেনে চললে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত হবে।’ ১ মে (শুক্রবার) বিকেলে মহান মে দিবস ও আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে খুলনা মহানগরী শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র্যালী পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন।
মহানগরী শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আজিজুল ইসলাম ফারাজীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মাস্টার শফিকুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও জেলা সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক খান গোলাম রসুল, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের খুলনা মহানগরী সভাপতি রাকিব হাসান। মহানগরী শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ডা. সাইফুজ্জামানের পরিচালনায় অন্যানের মদ্যে বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক নজিবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট শাহ আলম ও প্রিন্সিপাল জাহাঙ্গীর আলম, কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আ ন ম আব্দুল কুদ্দুস, মো. ইকবাল হোসেন, আব্দুল গফুর, শফিকুল ইসলাম লিটন, সোনাডাঙ্গা থানা আমীর জি এম শহিদুল ইসলাম, সদর থানা আমীর এস এম হাফিজুর রহমান, খালিশপুর থানা আমীর শেখ আব্দুল্লাহ আল মামুন, দৌলতপুর থানা আমীর মুশাররফ হুসাইন আনসারী, আড়ংঘাটা থানা আমীম মুনোয়ার হুসাইন আনসারী, লবণচরা থানা আমীর মোশাররফ হোসেন এবং হরিণটানা থানা আমীর মো. সেলিম, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের খুলনা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক আজিজুর রহমান, মহানগরীর সহ-সভাপতি এস এম মাহফুজুর রহমান, সাখাওয়াত হোসেন, কাজী মাহফুজুর রহমান, বায়তুল মাল সম্পাদক মো. আনিচুর রহমান, খালিশপুর থানা সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ও সেক্রেটারি বুলবুল কবির, দৌলতপুর থানা সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম ও সেক্রেটারি খান মাহবুবুর রহমান জুনাইদ, আড়ংঘাটা থানা সভাপতি অধ্যাপক শাহিনুল ইসলাম, হরিনটানা থানা সভাপতি হেলাল উদ্দিন, সোনাডাঙ্গা থানা সভাপতি খান আব্দুল অহেদ ও সেক্রেটারি নুরুল হক, সদর থানার সেক্রেটারি মুরাদ সোহাগ, দৌলতপুর থানা কাঠমিস্ত্রি ইউনিয়নের সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি মো. বাদল মুন্সি, দৌলতপুর থানা রিক্সা ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি মো. কামরুল ইসলাম ও সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হাসানুল বান্না, দৌলতপুর থানা ইমারত নির্মান শ্রমিক ইউনিয়নের সেক্রেটারি আব্দুল হাকিম, দৌলতপুর থানা দর্জি শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম ও সাংগঠনিক সম্পাদক মো. দ্বীন ইসলাম, দৌলতপুর থানা ইলেক্ট্রিশিয়ান শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি মো. সিদ্দিক জমাদ্দার ও সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মহসিন, খালিশপুর থানা কাঠমিস্ত্রি ইউনিয়নের সভাপতি মহিব্বুর রসুল ও সেক্রেটারী ইমদাদ হোসেন, খালিশপুর থানা রিক্সা ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. রকিবুল হাসান ও সেক্রেটারি মুজিবুর রহমান, খালিশপুর থানা ইমারত নির্মান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাসুদ হোসেন ও সহ-সভাপতি মো. মাসুদ হোসেন, খালিশপুর থানা দর্জি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি বিপ্লব হোসেন ও সেক্রেটারি শাহিন হোসেন, খালিশপুর থানা ইলেক্ট্রিশিয়ান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি বদরুল রশিদ মিন্টু ও সাংগঠনিক সম্পাদক তাজ মোহাম্মদ, সোনাডাঙ্গা থানা ইলেক্ট্রিশিয়ান শ্রমিক ইউনিয়নের মো. নজরুল ইসলাম, লবণচরা থানা ইমারত নির্মান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. তাইফুর রহমান, লবনচরা দোকান কর্মচারী শ্রমিক ইউনিয়নে সভাপতি মো. সাখাওয়াত হোসেন, আড়ংঘাটা থানা ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল কাদের, আড়ংঘাটা থানা রিক্সা-ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আশরাফ হোসেন, খুলনা সদর কাঠমিস্ত্রি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. আলী হায়দার নিরু ও সদর থানা দর্জি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শাহজাহান হোসেন, পরিবহন শ্রমিক নেতা কামাল হোসেন, আসলাম শিকদার, আব্দুল বারেক, রেলওয়ে শ্রমিক নেতা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, আল-আমীন ও খুলনা বিদ্যুৎ শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি বুলবুল কবির, শহিদুল ইসলাম, ফারুক হাওলাদার, লবণচরা থানা ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন নেতা হেলাল উদ্দিন, তাইফুর রহমান প্রমুখ। খুলনা নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে শ্রমিকরা ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে শ্রমিক সমাবেশ ও বর্ণাঢ্য র্যালিতে অংশগ্রহণ করেন। র্যালিটি শহরের প্রাণ কেন্দ্র নিউমার্কেট প্রদক্ষিণ করে ডাকবাংলো সোনালী ব্যাংক চত্ত্বরে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং শ্রমিকদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। সভাশেষে খুলনা মহানগীর সভাপতি আজিজুল ইসলাম ফারাজী আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উদযাপন ও বর্ণাঢ্য র্যালিতে অংশগ্রহণ জন্য বিপুল সংখ্যক উপস্থিত সকল শ্রেণীর শ্রমজীবী মানুষদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
শ্রমিক সমাবেশ মহানগরী সভাপতি আজিজুল ইসলাম ফারাজী এর সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারী ডাঃ সাইফুজ্জামান এর পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ এমপি । বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরীর আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান , বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মাস্টার শফিকুল আলম , বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী খুলনা জেলা সেক্রেটারী মুন্সী মিজানুর রহমান , বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক খান গোলাম রসুল , বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির খুলনা মহানগরীর সভাপতি রাকিব হাসান।
অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ আরও বলেন, ‘আজকের এই উন্নত সভ্যতার পেছনে খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষের অবদান সবচেয়ে বেশি। শ্রমিকরাই আমাদের প্রকৃত ভিআইপি। তাঁরা হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে দেশের উৎপাদন সচল রাখছেন। অথচ আমাদের দেশে অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকদের যথাযথ পাওনা পরিশোধ না করে অন্যায়ভাবে ছাঁটাই করা হচ্ছে, যা শ্রম আইনের পরিপন্থী।’ তিনি আরও বলেন, সরকার শ্রমিক দিবস পালন করে শ্রমিকদের সাথে তামাশা করে। সরকার শ্রমজীবী মানুষদের অধিকার নষ্ট করার জন্য শ্রম অধিদপ্তর হতে শুরু করে সর্বত্র এমন সব লোকদের নিয়োগ করে যারা শ্রমিকের সাথে ঘৃণ্য আচরণ করে। তারা শ্রমিকের সাথে চরম খারাপ ব্যবহার করে। আমরা সরকারের কাছে এসব লোকদের বাদ দেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি। ঘুসখোর, দুর্নীতিবাজদের বাদ দিয়ে শ্রম অধিদপ্তরে শ্রমিকবান্ধব লোকদের নিয়োগ দিতে হবে।
মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, আজকে শ্রমিকরা অনাহারে-অর্ধাহারে আছে। অথচ দেশের পুলিশ-সেনাবাহিনী হতে শুরু করে যাদের অর্থের অভাব নাই তারা রেশন পায়। শ্রমিকরা পায় না। শ্রমিকদের জন্য রেশনিং দিতে হবে। বিনামূল্যে চিকিৎসা দিতে হবে। শ্রমিকদের সন্তানদের বিনামূল্যে শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। শ্রমিকদের জন্য মানসম্মত আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।
এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এমপি বলেন, শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিতের জন্য ইসলামী শ্রমনীতির বিকল্প নেই। আমাদেরকে অবশ্যই এদেশে ইসলামী শ্রমনীতি বাস্তবায়ন করতে হবে। শ্রমিকদের অধিকার ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। লড়াই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে আজিজুল ইসলাম ফারাজী বলেন, দেশের শ্রমিকরা বৈষ্যম, নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরি পাচ্ছে না। শ্রমিকদের মাত্র বারো হাজার টাকা মজুরি দিয়ে ঠকানো হচ্ছে। গার্মেন্টস শ্রমিকদের অবশ্যই পঁচিশ হাজার টাকা মজুরি দিতে হবে। কথায় কথায় শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ করতে হবে। নারী শ্রমিকদের ওপর হয়রানী বন্ধ করতে হবে। শ্রম অধিদপ্তরের কিছু কর্মকর্তারা শ্রমিকদের অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন করার সুযোগ দিচ্ছে না। ট্রেড ইউনিয়ন শ্রমিকের আইনগত ও সাংবিধানিক অধিকার। এই অধিকার নিয়ে কেউ ছিনিমিনি খেলতে পারবে না। শ্রমিকদের অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার দিতে হবে।



