জাতীয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায়ে তনু হত্যা মামলার জট খুলছে

# সাংবাদিকদের প্রশ্নে আইনমন্ত্রী #

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অভিপ্রায়ে দীর্ঘ ১০ বছর পর আলোচিত তনু (কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু) হত্যা মামলার তদন্তে জট খুলতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি আরও বলেন, এ মামলার তদন্ত অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে প্রধানমন্ত্রী ঈদের দিন আমাকে ফোনে মেসেজ (বার্তা) পাঠান। সে অনুযায়ী পরবর্তীতে তাকে বিস্তারিত জানানো হয়। শনিবার (২ এপ্রিল) রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে এক পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা (সেলপ) কর্মসূচি এই সভার আয়োজন করে। আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায়েই সুদীর্ঘ দশ বছর পর এ মামলার জট খুলতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে একজন আসামিকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। তিনি জানান, পর্যায়ক্রমে মামলার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ আগ্রহের কারণে ঈদের পর প্রথম কর্মদিবসে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং অগ্রগতির বিষয়ে সবিস্তারে জানানো হয়। প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করাতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি তনু। পরে বহু খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে একটি জঙ্গলের মধ্যে তার লাশ পাওয়া যায়। পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। শুরুতে থানা-পুলিশ, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি তদন্ত করেও কোনো রহস্য বের করতে পারেনি। সর্বশেষ পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর তনু হত্যা মামলার নথি পিবিআইয়ের ঢাকা সদর দপ্তরে হস্তান্তর করে সিআইডি। গত প্রায় চার বছর মামলাটি তদন্ত করেছেন পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান। সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মামলাটির ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পেয়েছেন পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম। মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট পিবিআই সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের মে মাসে সিআইডি তদন্ত টিম তনুর পোশাক থেকে নেওয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে তিনজন পুরুষের শুক্রাণু পায়। তবে পরে আর এগুলো সন্দেহভাজন কারও সঙ্গে ডিএনএ মিলিয়ে (ক্রস ম্যাচ) দেখা হয়নি। ৬ এপ্রিল এ মামলায় তিন সন্দেহভাজন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জাহিদ, সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান ও সৈনিক শাহিনুল আলমের ডিএনএ নমুনা ক্রস-ম্যাচ করার জন্য আদালতে আবেদন করেছিল পিবিআই। আদালতের আদেশ পেয়েই তাদের গ্রেফতারে অভিযানে নামে পিবিআই। ওয়ারেন্ট অফিসার (অব.) হাফিজুর রহমানকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে এই প্রথম সন্দেহভাজন একজনের ডিএনএ ক্রস ম্যাচ (মিলিয়ে দেখা) নমুনা নেওয়া হয়। অপর দুইজনকে গ্রেফতারের পর তাদেরও ডিএনএ নমুনা নেওয়া হবে বলে পিবিআই জানিয়েছে।

নগরজীবনের ব্যস্ততা, সন্তানের প্রবাসে বসবাস আর ভেঙে পড়া পারিবারিক কাঠামোর মাঝে প্রবীণদের জীবনে বাড়ছে একাকিত্ব ও অনিশ্চয়তা। ফলে দিনে দিনে অনেকেরই বাড়ছে কৌতূহলÑজীবনের শেষ অধ্যায় কেমন হবে।

এমন বাস্তবতায় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে গড়ে উঠেছে জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ রিটায়ারমেন্ট হোমস অ্যান্ড হাসপাতাল (জেবিএফআরএইচ)Ñযেখানে ‘বৃদ্ধাশ্রম’ নয়, বরং যতœ, সম্মান ও নিরাপত্তার এক বিকল্প আবাস গড়ে তোলা হয়েছে। এখানে চিকিৎসা, সঙ্গ এবং মানবিক পরিচর্যার মধ্যে নতুন করে জীবনের অর্থ খুঁজে পাচ্ছেন অনেক প্রবীণ।
বদলে যাওয়া সমাজে এটি হয়ে উঠছে শেষ বয়সের এক আশ্রয়স্থল।

বুধবার (২২ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জেবিএফআরএইচ ক্যাম্পাসে অনেক প্রবীণের সঙ্গে দেখা হয়।
অনেকেই নাম-পরিচয় প্রকাশ করে কথা বলতে চাননি। আবার অনেকে খোলামেলাভাবে জানিয়েছেন নিজেদের জীবনের গল্প।
অনেকে এসেছেন প্রতিষ্ঠানটি দেখতে, খোঁজখবর নিতে।

খুলনার প্রবীণ চিকিৎসক কাজী তৈমুর রহমান প্রায় আট মাস ধরে নিজের সিদ্ধান্তে এখানেই বসবাস করছেন। গুলশানে নিজের বাড়ি, প্রতিষ্ঠিত সন্তান, সচ্ছল জীবনÑ সবই আছে তার। তবুও কেন এই সিদ্ধান্ত?

ধীর গলায় তার উত্তরÑ“বাড়ি তো আছে, ছেলে আছে। কিন্তু এখানে থাকতে ভালো লাগে।”

ঢাকার ব্যস্ততা, নিরাপত্তাহীনতা, মসজিদে যেতে অসুবিধাÑ সব মিলিয়ে একসময় তিনি ভাবেন, অন্য কোনো ব্যবস্থা দরকার। ছেলের সঙ্গে একদিন এই প্রতিষ্ঠানে এসে তার ভালো লেগে যায়।

“আমি বললাম, আমার কাপড়চোপড় নিয়ে আসো, আমি এখানে থাকব”Ñ বলছিলেন কাজী তৈমুর রহমান।

এখানে তার দিন শুরু হয় ফজরের নামাজ দিয়ে। এরপর ছাদে হাঁটা, খোলা বাতাসে সময় কাটানো। বিকেলে অন্য বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলা, কখনো চিকিৎসা সহায়তা দেওয়াÑ এভাবেই দিন কাটছে। তৈমুর রহমান বলেন, “জীবনে যা পাওয়ার পেয়েছি। এখন দেওয়ার আনন্দটাই বড়।”

এই প্রতিষ্ঠানে থাকা প্রবীণদের মধ্যে আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সাবেক অধ্যাপক সিরাজুল ইসলামও, যিনি ডিমেনশিয়ায় (স্মৃতিভ্রষ্টতা) ভুগছেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম কাদের বলেন, “অনেক সময় তিনি কাছের মানুষদেরও চিনতে পারেন না। কিন্তু এখানে প্রথম দিন আমাকে চিনেছিলেন, এটা আমাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল।”

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button