স্থানীয় সংবাদ

উপকূলের সুবিধাবঞ্চিত সকল মানুষের জন্য সুপেয় পানি নিশ্চিত করা হবে… মোংলায় নাগরিক সংলাপে পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

এইচ.এম.দুলাল মোংলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছন, উপকূলের সুবিধাবঞ্চিত সকল মানুষের জন্য সুপেয় পানি নিশ্চিত করা হবে। উপকূলী মোংলা, রামপাল, শরণখোলা, মোড়েলগঞ্জ, দাকোপ ও বটিয়াঘাটাসহ সব জায়গার সুপেয় পানির ব্যবস্থায় কাজ শুরু করা হয়েছে। উপকূলের প্রত্যেক জেলা ও উপজেলা নিয়ে আমরা কাজ করছি। যাতে উপকূলের সকলে সুপেয় পানি পেতে পারে। উপকূলের মানুষের সুপেয় পানির যে সমস্যা এটা হলো মৌলিক সমস্যা। যে কোন মূল্যে পানির এই মৌলিক সমস্যাকে সমাধান করা হবে। এটা প্রাকৃতিকভাবে সমাধানেরও চেষ্টা করতে হবে। এজন্য আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সরকারী পুকুরগুলো সংস্কার করা। তাহলে পানির চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে। তিনি আরো বলেন, আমি সারা বাংলাদেশের উপকূলের মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। আমরা চাই বৃষ্টির প্রত্যকটা ফোটা সংরক্ষণ করতে। এক ফোটা বৃষ্টির পানি যেন নষ্ট না হয়। ভূগর্ভস্থ পানির উপর চাপ কমিয়ে বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি ট্যাংকি ও পুকুরগুলোতে সংরক্ষণ করে চাহিদা পূরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। জলবায়ু বিপর্যয়ের কবল থেকে মোংলাসহ উপকূলীয় অঞ্চলের সুপেয় পানির সংকট নিরসনে শনিবার দুপুরে মোংলা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত নাগরিক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। সুপেয় পানির সমাধানে নেয়া পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নে বাগেরহাট জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগকে জরুরী ভিত্তিতে কাজ শুরু করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
এ নাগরিক সংলাপের আয়োজন করেন মোংলা উপজেলা প্রশাসন, ক্লাইমেট এ্যাকশন ফোরাম ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা লিডার্স।
নাগরিক সংলাপে সুপেয় পানির সংকট নিরসনের উপর মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশন করেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা লিডার্স’র নির্বাহী পরিচালক মোহন কুমার মন্ডল ও উন্নয়নকর্মী তৃপ্তি সরকার।
সংলাপে বক্তারা বলেন, উপকূলের ৭৩% মানুষ সুপেয় পানি থেকে বঞ্চিত। আধারযোগ্য পানি সরবরাহ করতে পারেনা ৩ কোটি মানুষ। দেড় কোটি মানুষ ভূগর্ভস্থ লবণাক্ত পানি পানে বাধ্য থাকে। মোংলার ৬৫% মানুষের সুপেয় পানি সংগ্রহের কোন ব্যবস্থা নেই। বাকী ৩৫% মানুষকে বৃষ্টির পানি সংগ্রহের জন্য সরকারি এবং বেসরকারি ভাবে পানির ট্যাংকি বিতরণ করা হলেও তা দিয়ে ৬ মাসের পানি ধারন করা সম্ভব। সংলাপে সুপারিশ আকারে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ পানি আইনের ধারা ১৭ অনুযায়ী উপকূলীয় অঞ্চলকে পানি সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করতে হবে। জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থ জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ মোংলাসহ উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যয় করতে হবে। বাগেরহাট জেলা পরিষদের শতাধিক পুকুর বাণিজ্যিক ভাবে মাছ চাষের ইজারা বাতিল করে খাবার পানি সরবরাহের কাজে ব্যবহার করতে হবে। পুকুর খনন ও সংরক্ষণের মাধ্যমে গ্রামে পাইপ লাইনের মাধ্যমে খাবার পানি সরবরাহ করতে হবে। মোংলা বন্দরের ৩টি পুকুর পৌরসভাকে ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দিতে হবে যা দিয়ে সুপেয় পানি সরবরাহ করা সম্ভব। এডিপি ও টিআর এর বরাদ্দ উপকূলীয় অঞ্চলে সুপেয় পানির সংকট নিরসনে প্রকল্প গ্রহন করতে হবে। আশু সমাধান হিসেবে মোংলাসহ উপকূলীয় অঞ্চলে সুপের পানির সংকট নিরসনে বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করার জন্য ব্যাপক ভাবে ট্যাংকি বিতরণ করতে হবে।
এ নাগরিক সংলাপে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম, বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, বাগেরহাট জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জয়ন্ত মল্লিক, মোংলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার সুমী, ক্লাইমেট এ্যাকশন ফোরাম মোংলার সভাপতি পরিবেশকর্মী মোঃ নূর আলম শেখ, উপসচিব আলমগীর হুসাইন, মোংলা সার্কেল’র সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার মোঃ রেফাতুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ শাহীন হোসেন, মোংলা থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ আতিকুল ইসলাম, মোংলা পোর্ট পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর বিএনপির সভাপতি মোঃ জুলফিকার আলী, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনি ও পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক। #

এইচ.এম.দুলাল মোংলা
মোংলা, ০২-০৫-২৬ ইং

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button