সৈয়দ ঈসা শুধু কলমযোদ্ধাই ছিলেন না, ছিলেন রাজপথেরও এক নির্ভীক সৈনিক: এড. মনা

স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা বলেছেন, প্রখ্যাত সাংবাদিক ও বরেণ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ ঈসা ছিলেন এক আলোকিত সংগ্রামী মানুষ, যার জীবন ও আদর্শ আজও অনুপ্রেরণা জোগায়। তিনি রাজনীতির পাশাপাশি সাংবাদিকতায় রেখে গেছেন অনন্য অবদান, যা দেশের গণমাধ্যমের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। রবিবার (৩ এপ্রিল) বিকাল ৫টায় কেডি ঘোষ রোডস্থ বিএনপি কার্যালয়ে খুলনা জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও প্রখ্যাত সাংবাদিক সৈয়দ ঈসার ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মনা বলেন, সাতক্ষীরা মহাকুমার তালা থানার তেতুলিয়া গ্রামে ১৯৪৬ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া সৈয়দ ঈসা ছোটবেলা থেকেই ছিলেন মেধাবী ও সমাজসচেতন। ১৯৬২ সালে তালা বি.কে. ইনস্টিটিউশন থেকে ম্যাট্রিক এবং দৌলতপুর সরকারি বিএল কলেজ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। ছাত্রজীবনেই তিনি সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত হয়ে ১৯৬৪ সালে সাপ্তাহিক জনতার খুলনা সংবাদদাতা হিসেবে যাত্রা শুরু করেন। পরবর্তীতে সাপ্তাহিক দেশের ডাক, সাপ্তাহিক স্বাধিকার পত্রিকায় সহকারী সম্পাদক, দৈনিক সংবাদের খুলনা প্রতিনিধি এবং সাপ্তাহিক মুক্তি ও স্বকাল পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তিনি সাংবাদিকতায় নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেন। বাংলাদেশ বেতার খুলনা কেন্দ্রের সংবাদপাঠক হিসেবেও তিনি ছিলেন সুপরিচিত কণ্ঠস্বর। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষা এবং ১৯৭৪ সালের বিশেষ কালাকানুনের বিরুদ্ধে সাংবাদিক আন্দোলনে তার সাহসী ভূমিকা আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। তিনি আরও বলেন, সৈয়দ ঈসা শুধু কলমযোদ্ধাই ছিলেন না, ছিলেন রাজপথেরও এক নির্ভীক সৈনিক। ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতি দিয়ে শুরু করে ন্যাপ (ভাসানী), জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট হয়ে বিএনপিতে যোগ দিয়ে দীর্ঘদিন খুলনা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৬ সালে মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে ফারাক্কা অভিমুখে ঐতিহাসিক লংমার্চ এবং ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ তার সংগ্রামী চেতনারই প্রমাণ। সভায় বক্তারা আবেগভরে বলেন, সৈয়দ ঈসার জীবন ছিল সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবিচল থাকার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তার স্মৃতিকে অম্লান রাখতে ডুমুরিয়া উপজেলার আঠারোমাইল এলাকায় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ‘সৈয়দ ঈসা জেনারেল ও টেকনিক্যাল কলেজ’, যা আগামী প্রজন্মকে তার আদর্শে অনুপ্রাণিত করবে। সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক স ম আব্দুর রহমান ও বদরুল আনাম খান, মুক্তিযোদ্ধা দলের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলমগীর হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশরেফ হোসেন, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনার সভাপতি মো. রাশিদুল ইসলাম, শ্রমিকদলের আহ্বায়ক মজিবর রহমান, আনোয়ার হোসেন, মুস্তাফিজুর আকন্দ তুহিন, মিজান,গাউস,থানা সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির ইকবাল বাপ্পী, স্বেচ্ছাসেবক দলের ইস্তিয়াক আহম্মেদ ইস্তি ও মুন্তাসির আল মামুন, ছাত্রদলের মাজাহারুল ইসলাম রাসেল, নিবির মাহমুদ নিবিড় ,সহিদুল ইসলাম, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ের সভাপতি ইফতেখার হোসেন বাবু, মাসুদউল হক হারুন, মো. সালাউদ্দীন মোল্লা (বুলবুল), এস এম নুরুল আলম দিপু, শেখ মোস্তফা কামাল, আজিজুর রহমান, কাজী নজরুল ইসলাম, মো. মাহমুদ আলম মোড়ল, ইকবাল হোসেন মিজান, শেখ আলমগীর হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান রুনু মো. নুরুল ইসলাম, মো. বায়েজিদ, মঞ্জুরুল আলম, মো. আমিন আহমেদ, মো. শওকত আলী বিশ্বাস লাবু, মো. ওহিদুজ্জামান হাওলাদার, কাজী মো. মিজানুর রহমান, মো. আবুল ওয়ারা, মো. আরিফুল ইসলাম বিপ্লব,ওলামা দলের সদস্য সচিব হাফেজ মো. আল-আমিন, মহিলা দলের নাসরিন হক শ্রাবণী, এ্যাডঃ হেনা, মুন্নি জামান, ইরিনা আক্তার, সৈয়দা নওরিন, আনিকা সুলতানা, সাহিদা আক্তার, লায়লা পারভীন,বিএনপি নেতা মাইনুল ইসলাম কিরন, ইয়াজুল ইসলাম এপোলো, হেলাল ফারাজী, হারুন অর রশিদ, ইয়াসিন গাজী, নুরুল হুদা পলাশ, মাহমুদ হাসান শান্ত, মো. জাহিদুর রহমান রিপন, ফারুক প্রমূখ। আলোচনা শেষে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।



