স্থানীয় সংবাদ

লোকসানে খুলনার বোরো চাষিরা ১২শ’ টাকার নীচে মিলছে না কৃষাণ

স্টাফ রিপোর্টার ঃ বোরো ধান কৃষকের গোলায় ওঠার মুহূর্তে কৃষাণের মজুরি বৃদ্ধি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ অতিবৃষ্টির কবলে পড়ে রোরো চাষীরা ক্ষতির মুখে পড়েছে। এপ্রিল এবং মে মাসের প্রথমার্ধের বৃষ্টিতে খুলনার চাষির বোরো ধান ও শীতকালীন শাক-সবজির ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টিতে জেলার ৮৭৩ হেক্টর জমির ধান ও সবজি ক্ষেত ডুবেছে। ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাগুলো হচ্ছে দাকোপ, রূপসা, পাইকগাছা ও ডুমুরিয়া, তেরখাদা, দিঘলিয়া। বীজ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বেশি হওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে। মৌসুমের শুরুতে বীজতলা, রোপণ ও এপ্রিল-মে’তে কৃষি শ্রমিকের মজুরি বাড়ে। ধান কাটা মৌসুমে দৈনিক একজন কৃষি শ্রমিকের মজুরি ছিল ১ হাজার থেকে থেকে ১২শত টাকা। জেলার রূপসা, ডুমুরিয়া ও তেরখাদায় ১২শ’ থেকে ১৩শ’ টাকা দিয়ে দৈনিক সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত শ্রমঘণ্টা কিনতে হয়। তেরখাদার কুষক কওসার হোসেন জানান, খেতে ধান পেকে পড়ে আছে। কিন্তু কাটতে পারছি না ধান কাটা শ্রমিকের অভাবে। তিন বেলা খাওয়া ও ১২শত টাকা না দিলে শ্রমিক মিলছে না। ফুলতলা হাট থেকে একাধিকবার কৃষাণ আনতে গিয়ে ১২শ’ টাকার নীচে কৃষাণ মিলছে না। এতে করে কৃষকের খরচ অনেক বেশী পড়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে কৃষকরা ধান চাষ করতে নিরুৎসাহিত হবেন বলে তিনি মনে করছেন। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সূত্রের তথ্য, এপ্রিলে স্বাভাবিকের চেয়ে ৭৫ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। নয় বছরের মধ্যে এপ্রিলে এবারে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে। গেল মাসে জেলায় গড়ে ৩৩ দশমিক ৭০ মিলিমিটার, ১ মে ১৯ মিলিমিটার, ৩ মে ১০ মিলিমিটার, ৪ মে ৪ মিলিমিটার ও ৫ মে ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। জেলায় এবারের বোরো মৌসুমে ৬৬ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ। ৬৫ হাজার ৭৭৮ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়। সবচেয়ে বেশি আবাদি এলাকা ডুমুরিয়া ও পাইকগাছা উপজেলা। এ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কেজিপ্রতি উৎপাদন খরচ গতবারের চেয়ে দু’টাকা করে বেড়েছে। অন্তবর্তীকালীন সরকারের বিদায়ের মুহূর্তে সারের সংকট দেখা দেয়। তারপরও জেলায় হেক্টর প্রতি ৪ দশমিক ৭৪ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের কথা তুলে ধরেন কৃষি সম্প্রসারণের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক সুবীর কুমার বিশ্বাস। এ কৃষি কর্মকর্তা বলেছেন, উৎপাদন বাড়ানোর জন্য কৃষকরা হীরা-১, হীরা-২, হীরা-১৯, সুবর্ণ-৩, ছক্কা ও সিনজেনটা-১২০৩ জাতের হাইব্রিড বোরো বীজ রোপণ করে। এ দপ্তরের তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, এপ্রিলের শেষ ও মে মাসের প্রথম পাঁচ দিনে বোরো ছাড়াও গ্রীষ্মকালীন সবজি, তরমুজ, ভূট্টা, মুগ ও তিলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মে মাসের প্রথম দু’দিনে অতি বৃষ্টিতে ধান ক্ষেতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ডুমুরিয়ার শিংয়ের বিল, সাহাপুর ও মধুগ্রাম, বিল ডাকাতিয়া, রূপসা উপজেলার বিল জাবুসায় বৃষ্টিতে শীষ থেকে ঝরে পড়ে। দাকোপ, পাইকগাছা ও ডুমুরিয়ায় ৭৭০ হেক্টর জমির বোরো ক্ষেত বৃষ্টিতে ভিজেছে। তেলিগাতী গ্রামের কৃষক বাকী উল্লাহ ঢালী এবং ওলিয়ার রহমান বলেন, বৃষ্টিতে তার পাকা ধান নস্ট হয়েছে। তারপরও কৃষাণের অভাবে ধান সময় মত কাটতে পারিনি। কারণ একজন কৃষাণের দৈনিক মজুরী ১২শত টাকা। এত টাকা খরচ করে কৃষকরা লোকসানের মধ্যে পড়বে। এ জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কৃষকের পাশে দাঁড়ানোর দাবি জানান এই প্রবীন কৃষক। রূপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামের কৃষক মোঃ খোরশেদ আলম, মোঃ ওমর আলী শেখ ও আলেমান শেখ জানান, অতিবৃষ্টিতে বিল জাবুসায় তাদের বোরো ক্ষেত তলিয়ে যায়।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button