স্থানীয় সংবাদ

জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন সরকারের দেশ পরিচালনায় ব্যর্থতায় জনদুর্ভোগ ক্রমশই দীর্ঘায়িত হচ্ছে : মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এমপি

# খুলনা জেলা জামায়াতের উপজেলা মজলিসে শূরা ও ইউনিয়ন আমীর-সেক্রেটারি শিক্ষাশিবির #

স্টাফ রিপোর্টার ঃ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল সহকারী পরিচালক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এমপি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে নতুন সরকারের দেশ পরিচালনায় ব্যর্থতায় জনদুর্ভোগ ক্রমশই দীর্ঘায়িত হচ্ছে। ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশে ক্ষমতায় গিয়ে বিএনপি জুলাই সনদ উপেক্ষা করছে এবং গণভোটের রায় নিয়ে জাতির সাথে প্রতারণা শুরু করছে। দলীয় সিন্ডিকেটের কারণে দেশে জ্বালানি নিয়ে চরম নৈরাজ্য চলছে। তিনি বলেন, নিত্যপণ্যের দাম হু হু করে বাড়ছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। ১৫ দিনের ব্যবধানে ২ বারের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৫০০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। কিন্তু সরকারের মন্ত্রী এমপিরা ব্যর্থতার দায় স্বীকার না করে উল্টো জাতিকে নিয়ে তামাশা করছে। এভাবে কোন দেশ চলতে পারেনা। তিনি হুশিয়ারী দিয়ে বলেন, দেশে আর কোন ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে দেয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং সমাজে ইনসাফ কায়েমের লড়াইয়ে জামায়াতের দায়িত্বশীলদের আপসহীন ভূমিকা পালন করতে হবে। একটি বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন করতে হলে সকলকে সর্বোচ্চ ত্যাগের মানসিকতা নিয়ে ময়দানে কাজ করতে হবে। বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রতিটি দায়িত্বশীলকে ধৈর্যের সাথে জনগণের পাশে থাকতে হবে।
শুক্রবার (৮ মে) সকালে নগরীর সোনাডাঙ্গা থানাধীন আল ফারুক সোসাইটি মিলনায়তনে খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত উপজেলা মজলিসে শূরা ও ইউনিয়ন আমীর, সভাপতি-সেক্রেটারি শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও খুলনা জেলা আমীর মাওলানা এমরান হুসাইনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল টিম সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এমপি, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও নড়াইল জেলা আমীর আতাউর রহমান বাচ্চু এমপি। খুলনা জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মুন্সী মঈনুল ইসলামের সঞ্চালনায় আলোচনা করেন ও উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা কবিরুল ইসলাম, সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট মুস্তাফিজুর রহমান, অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস ও গাউসুল আযম হাদি, কর্মপরিষদ সদস্য শেখ সিরাজুল ইসলাম, এডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্লা, অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা আল মুজাহিদ, মুহা. আশরাফুল আলম। শিক্ষশিবিরে দারসুল কুরআন পেশ করেন মাওলানা মুহা. মনিরুজ্জামান।
মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক আত্মসমালোচনার সুরে বলেন, ‘আল্লাহ তা’আলা আমাদের এখনো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দান করেননিÑএর অন্তর্নিহিত অর্থ হলো আমরা এখনো সেই বিশাল গুরুদায়িত্ব পালনের জন্য নিজেদের যথাযথভাবে যোগ্য করে গড়ে তুলতে পারিনি। আমাদের চারিত্রিক ও আদর্শিক মানে আরো উন্নতি সাধন করতে হবে।’ তিনি ইসলামের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সাহাবায়ে কেরামদের (রা.) অতুলনীয় ত্যাগ ও কুরবানির উদাহরণ টেনে দয়িত্বশীলদের সেই আদর্শ ও দৃঢ়তা নিজেদের জীবনে প্রতিফলিত করার আহ্বান জানান।
মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ইসলামী আদর্শের ভিত্তিতে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র বিনির্মাণে জামায়াত কর্মীদের বহুমুখী যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। বর্তমান পৃথিবীতে ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র অব্যাহত আছে, রুকনদের দাওয়াতি কাজের মাধ্যমে দেশের সকল মানুষদের ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। আমাদের আলেম সমাজ এই দেশের সম্মানিত অভিভাবক, তাদেরও মানুষের পরিবর্তনের কাজে উৎসাহিত করতে হবে। অনেক সাহাবীদের হুদায়বিয়ার সন্ধির শর্তের ব্যাপারে আপত্তি সত্ত্বেও আল্লাহর রাসূল সেই চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করে হুদাইবিয়ার সন্ধিকে কার্যকর করেছিলেন এবং সমস্ত আরব বিশ্বে দাওয়াতের বাণীকে ছড়িয়ে দেয়ার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। নতুন প্রেক্ষাপটে আমরা সকল জায়গায় দাওয়াত পৌঁছানোর যে সুযোগ পাচ্ছি এটাকে গণিমত হিসেবে কাজে লাগাতে হবে।
মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে গণভিত্তি অর্জন ও সংগঠনকে মজবুত করতে হবে। গণভিত্তি গড়ে তোলার জন্য আন্তরিকতার সাথে মানুষের সমস্যা চিহ্নিত করে তার যৌক্তিক সমাধানের চেষ্টা ও সামাজিক কাজের কোনো বিকল্প নেই। তিনি আরো বলেন, সংগঠনকে মজবুত করতে অবশ্যই যোগ্য কর্মী প্রয়োজন, তা না হলে সংগঠনিক মজবুতি অর্জন করা সম্ভব না।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button