স্থানীয় সংবাদ

যশোর শহরে ২৩ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করলেন প্রতিমন্ত্রী অমিত

যশোর ব্যুরো ঃ যশোর শহরের আট কিলোমিটার বেহাল সড়কের উন্নয়ন, সাত কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ এবং তিন কিলোমিটার স্ট্রিট লাইট স্থাপন কাজ উদ্বোধন করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। শুক্রবার (৮ মে) দুপুরে প্রতিমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে যশোর শহরের পাঁচ ও সাত নম্বর ওয়ার্ডের পৃথক সড়ক উন্নয়ন, ড্রেন নির্মাণ এবং স্ট্রিট লাইট স্থাপন কাজ উদ্বোধন করেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, পৌরসভার প্রশাসক রফিকুল হাসান, জেলা বিএনপির সভাপতি ও পাবলিক প্রসিকিউটর সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম, সাবেক প্রচার সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাজি আনিছুর রহমান মুকুল, নগর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুল্লুক চাঁদ, সাধারণ সম্পাদক এহসানুল হক সেতু এবং পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী বি এম কামাল আহমেদ। যশোর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মোকলেছুর রহমান জানান, পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের চোরমারা দীঘি ( উত্তরপাড়) থেকে হাজামপাড়া মোড় পর্যন্ত সড়কের উন্নয়ন এবং ড্রেন নির্মাণ করা হবে। এছাড়া সাত নম্বর ওয়ার্ডের চোপদারপাড়া, পিয়ারিমোহন সড়ক ও সংলগ্ন এলাকায় সড়ক উন্নয়ন এবং ড্রেন নির্মাণ করা হবে। এসব এলাকায় তিন কিলোমিটার স্ট্রিট লাইট স্থাপন করা হবে। এই কাজের ব্যয় ধরা হয়েছে ২৩ কোটি টাকা। আগামী বছর জুনের মাসের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা। প্রতিমন্ত্রী এদিন দুপুরে যশোর খাদ্য গুদামে চলতি বোরো মৌসুমে সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ উদ্বোধন করেন। এসময় তিনি বলেন, সরকারের কৃষকবান্ধব সাহসী সিদ্ধান্তে এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে আমেরিকা ও ইসরায়েলের যুদ্ধে বিশ্বে জ্বালানি সরবরাহ চ্যাঞ্জেলের মধ্যে পড়েছিল। বাংলাদেশও ঝুঁকির মধ্যে ছিল। তারেক রহমানের তাৎক্ষণিক সাহসী সিদ্ধান্তে জনগণের সহযোগিতায় সেই পরিস্থিতি মেকাবেলা সফলভাবে করতে পেরেছি। সরকারের সিন্ধান্ত ছিল প্রয়োজনে গাড়ির জ্বালানি সরবারাহ বন্ধ রেখে কৃষকের সেচের জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের সিন্ধান্ত ছিল, প্রযোজনে শহরের মানুষের বাসাবাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে, কিন্তু কৃষকের সেচ পাম্পে বিদ্যুৎ বন্ধ থাকবে না। আমরা নানা সংকটেও কৃষকের বিদ্যুৎ জ্বালানি কৃষকের ধানক্ষেতে পৌঁছে দিতে সমর্থ হয়েছি। সরকারের কৃষকবান্ধব এই সিদ্ধান্তের ফলে সারাদেশে এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। এই বোরো ধান দেশের মূল ফসল। এটি ভালো হলে দেশের অর্থনীতি ভালো থাকে।’ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের বেধে দেওয়া ধানের দাম প্রতিকেজি ৩৬ টাকা; এটা ভালো দাম। এর ফলে কৃষক তার উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম পাবে; অপরদিকে এই খাদ্য অধিদপ্তরও তার প্রয়োজনীয় ধান ও চাল সংগ্রহ করতে পারবে। যার প্রভাবে বাজার স্থিতিশীল করা সম্ভব হবে। প্রতিমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দেন, ধান সংগ্রহকালে বিভিন্ন অসাধু কর্মকর্তা কৃষকদের ওজনে ঠকান। এই ধরনের কার্যক্রমের কোনো অভিযোগ পেলে সেইসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন খোকন, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সেফাউর রহমান এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহরিয়ার হক। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সেফাউর রহমান জানান, চলতি বোরো মৌসুমে যশোর জেলায় ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ১৫ হাজার ১৬৬ মেট্রিক টন। সরকারিভাবে ধান ক্রয়ের এই উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষকেরা ন্যায্য মূল্য পাবেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button