মামলার জালে ঘুরপাক খাচ্ছে সোনাডাঙ্গা বাইপাস সড়কের নির্মাণকাজ কাজ

# রাস্তা নির্মাণে চাওয়া হয়েছে অতিরিক্ত ১৪ কোটি টাকা
# মামলা জটিলতায় প্রথম ধাপে ৩শ মিটার রাস্তার টেন্ডার
কামাল মোস্তফা ঃ জটিলতা কাটিয়ে নির্মাণ কাজ শুরু করা যাচ্ছে না খুলনা বাইপাস সড়কের। ৮শ’ মিটার সড়কটিতে কেডিএ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করলেও বিভিন্ন জায়গা পুন:দখল হয়ে যায়। উচ্ছেদ অভিযানের আওতায় পড়া এক বাড়ির মালিক খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও খুলনা সিটি কর্পোরেশনকে বিবাদি করে মামলা ঠুকে দেয়ায় তিন মাসের স্থগিতাদেশ দিয়েছে কোর্ট। ফলে ওই অংশের রাস্তার কাজ করতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। তবে কেসিসি বলছে ওই অংশটুকু বাদে বাকি অংশের কাজ এগিয়ে নেবেন তারা। ইতোমধ্যে ৩শ মিটার সড়ক নির্মাণ কাজের টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে। মামলার সমাধান হলে বাকি কাজের টেন্ডার হবে। কেসিসি সূত্রে জানা যায়, ৬০ ফিট চওড়া সড়কটির বেশিরভাগ অবৈধ দখলে থাকায় কেডিএর ব্যবস্থাপনায় ইতোমধ্যে উচ্ছেদ করা হয়েছে। তবে রাস্তার সীমানার মধ্যে পড়ায় একটি বাড়ির কিছু অংশ ভেঙ্গে ফেলা হয়। বাড়ির মালিক মামলা দায়ের করায় কোর্ট তিন মাসের স্থগিতাদেশ দেয়। এ ছাড়া মৌজা সংক্রান্ত জটিলতা থাকায় রাস্তার কিছু অংশ ৬০ ফিটের পরিবর্তে ৪০ ফিট করা হবে। সূত্রে আরও জানা যায়, মামলা থাকায় ৮শত মিটার সড়কের আপাতত ময়ুর ব্রীজ থেকে সোনাডাঙ্গার দিকে ৩শ মিটারের কাজ করতে চায় কেসিসি। এ জন্য ১৬ কোটি টাকা খরচ ধরা হয়েছে। ইতোমধ্যে নির্মাণ কাজের টেন্ডার আহবান করা হয়েছে। শুরুতে রাস্তাটি দুই লেনের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল ২১ কোট টাকা। পরে পিচের পরিবর্তে সিসি ঢালাই দিয়ে চার লেনে উন্নীত করার প্রয়োজনে নির্মাণ ব্যয় ১৪ কোটি টাকা বাড়িয়ে ৩৫ কোটি টাকা হয়েছে। এর আগে সোনাডাঙ্গা মডেল থানার পাশ থেকে ময়ুর ব্রিজ পর্যন্ত ৮০০ মিটার সড়কটি জার্মান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের অর্থায়নে ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। সড়কের দু’পাশে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রেখে ড্রেন নির্মাণসহ হাইওয়ে স্টান্ডার্ডে এটি তৈরির কথা বলা হয়েছে। ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ থাকলেও জমি সংক্রান্ত জটিলতায় টেন্ডার আহবান করতে পারেনি কেসিসি। ২০১৩ সালে সড়কটি নির্মাণ করা হলেও বছর ঘুরতে না ঘুরতে তা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে যায়। নকশায় রাস্তাটি ৬০ ফিট থাকলেও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অধিকাংশ জায়গায় তা বেদখল হয়ে যায়। কোথাও ৩০ ফিট কোথাও ৪০ ফিট অবশিষ্ট আছে রাস্তাটি। নতুন করে নির্মাণ প্রকল্প হাতে নিয়ে নকশা প্রস্তুত করা হলেও জমি সংক্রান্ত জটিলতায় টেন্ডার আহবান করা যায়নি। দুর্ভোগের কারণে বাসচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, রাস্তাটি খানা খন্দে ভরা। বর্ষা আসলে পুরোপুরি চলাচলের অযোগ্য হয়ে যায়। কর্তৃপক্ষ কিছু ইট ফেলে দায়িত্ব শেষ করে। কয়েক বছর ধরে শুনছি রাস্তার কাজ শুরু হবে। এখন আবার শুনছি কারা মামলা করেছে রাস্তার কাজ বন্ধে। এই রাস্তা গাড়ি চালানোর অযোগ্য হয়ে পড়েছে। অতি দ্রুত রাস্তার কাজ শুরু করা দরকার। নিরাপদ সড়ক চাই খুলনা মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মুন্না বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে এই সড়কটি বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। খুলনা থেকে সড়ক পথে ২১ জেলার প্রবেশ এবং বাহির হওয়ার প্রধান সড়ক এটি। জনস্বার্থে মামলা সংক্রান্ত বিষয়টির দ্রুত সুরাহা করে জনভোগান্তি লাঘবে মনোযোগি হবে বলে প্রত্যাশা। জটিলতা থাকলে তা সমাধান করে দ্রুততম সময়ে কাজ শুরু ও শেষ করতে হবে। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আবির-উল-জব্বার বলেন, জুন মাসে ওয়ার্ক- অর্ডার দিয়ে চলতি বছরের আগস্ট মাস থেকে কাজ শুরু করতে পারবো। মামলা সংক্রান্ত জটিলতার সমাধান হলে রাস্তার বাকি ৫শত মিটারের নির্মাণ কাজ শুরু করতে পারবো। প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত অর্থ ছাড়ের চেষ্টা চলছে। রাস্তাটিতে ড্রেন, ফুটপাত, মিড আইল্যান্ড, ইলেকট্রিসিটি, বিউটিফিকেশান সবই থাকবে।



