স্থানীয় সংবাদ

সুন্দরবনে বনরক্ষী-বনদস্যু বন্দুকযুদ্ধ অপহৃত ৪ জেলেসহ বন্দুক উদ্ধার

বাগেরহাট প্রতিনিধি ঃ বাগেরহাটের পুর্ব-সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সিঙ্গারটেক এলাকায় বনরক্ষীদের সাথে বনদস্যু শরিফ বাহিনীর প্রায় আধাঘন্টা ধরে চলা দুই দফা বন্দুক যুদ্ধের পর মুক্তিপনের দাবিতে অপহৃত হাত-পা শিকলবন্দি অবস্থায় ৪ জন জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার সকালে বন বিভাগের শেলারচর টহল ফাড়ি ও স্মার্ট পেট্রোলিং টিমের এই যৌথ অভিযান চলাকালে বনদস্যু শরিফ বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেলে তাদের ফেলে যাওয়া একটি একনলা বন্দুক, এক রাউন্ড তাজা কাতুর্জ, বনদস্যুদের ব্যবহৃত ৪টি ওয়াকিটকি ও একটি ট্রলার উদ্ধার করা হয়েছে। বনরক্ষীদের এই অভিযানে বনদস্যু শরিফ বাহিনীর কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া হলেন, বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সোনাতলা গ্রামের আ. বারেক খানের ছেলে মাসুম, একই উপজেলার দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে মো. হাসান, খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার বুজবুনিয়া গ্রামের আবছার আলীর ছেলে নাসিম ও খুলনার দাকোপ উপজেলার আবু তালেব শেখের ছেলে ইরাক শেখ। বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করে আরো জানান, বুধবার সকাল ১০টার দিকে সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জে শেলারচর টহল ফাড়ি ও স্মার্ট পেট্রোলিং টিমের এই যৌথ অভিযানিক দল শেলারচরের সিঙ্গারটেক খালের মুখে একটি ফিশিং ট্রলার দেখতে পেয়ে সেদিকে এগিয়ে যায়। এ সময়ে ওই ফিশিং ট্রলারে থাকা বনদস্যুরা বনরক্ষীদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ শুরু করে। এ সময়ে শেলারচর টহল ফাড়ি ও স্মার্ট পেট্রোলিং টিমের যৌথ দল পাল্টা গুলিবর্ষণ শুরু করলে বনরক্ষী ও বনদস্যুদের মধ্যে শুরু হয় বন্দুক যুদ্ধ। এক পর্যায়ে বনদস্যুরা রণেভঙ্গ দিয়ে ফিশিং ট্রলারটি ফেলে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে চলে যায়। এরপর বনরক্ষীরা আটক করা ওই ফিশিং ট্রলারটির পাটাতনের নিচে মাছ রাখার হোল থেকে মুক্তিপনের দাবিতে অপহৃত ৪ জেলেকে বন্দি অবস্থা থেকে উদ্ধার করে। এসময়ে ফিশিং ট্রলারটিতে তল্লাশি করে বনদস্যুদের ফেলে যাওয়া একটি একনলা বন্দুক, এক রাউন্ড তাজা কাতুর্জ ও দুটি ওয়াকিটকিও উদ্ধার করা হয়। বনদস্যুদের ব্যবহৃত ফিশিং ট্রলার ও উদ্ধারকৃত অস্ত্র মালামালসহ জেলেদের নিয়ে রওনা দিলে বনরক্ষীদের লক্ষ্য করে আবারো গুলিবর্ষণ শুরু করে বনদস্যুরা। এ সময়ে বনরক্ষীরা পাল্টা গুলিবর্ষণ শুরু করলে বনদস্যুরা সুন্দরবনের গহীনে পালিয়ে পায়। বনদস্যুদের সাথে প্রায় আধা ঘন্টা ধরে চলা দুইদফা বন্দুক যুদ্ধে বনরক্ষীরা রাইফেল দিয়ে ৭ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। পরে উদ্ধার হওয়া জেলেরা বনরক্ষীদের জানায়, তাদের বনদস্যু শরিফ বাহিনীর সদস্যরা অস্ত্রের মুখে গত ১১ মে বিকালে সুন্দরবনের শেলারচর এলাকা থেকে মুক্তিপনের দাবিতে অপহরণ করে ফিশিং ট্রলারের হোলে হাত-পা শিকলবন্দি অবস্থায় আটকে রাখে। উদ্ধার হওয়া জেলেরা সুন্দরবনের শেলারচর টহল ফাড়িতে রয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানান এই বন কর্মকর্তা।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button