স্থানীয় সংবাদ

বিধি বহির্ভূত অধ্যক্ষ দিয়ে চলছে খুলনা সেন্ট্রাল ল’ কলেজ

# কমিটির তদন্তে মিলছে সত্যতা #

স্টাফ রিপোর্টার ঃ ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত খুলনা শহরের প্রাণকেন্দ্র বেনীবাবু রোডে অবস্থিত খুলনা সেন্ট্রাল ল’কলেজ। কলেজটিতে দীর্ঘদিন যাবৎ বিধিবহির্ভূত ভাবে অধ্যক্ষ দিয়ে চলছে একাডেমিকসহ যাবতীয় কার্যক্রম। গত ২৮ মে ২০২৫ তারিখে সাবেক অধ্যক্ষ এ্যাড. আহমদ উল্লাহ পিলুর মৃত্যুর পর ২৮জুলাই ২০২৫ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহন করেন এ্যাড. মোল্লা হারুন অর রশীদ। যার জন্মতারিখ উল্লেখ রয়েছে ১৯৪৮ সালে, সে অনুযায়ী তার বয়স বর্তমানে প্রায় ৭৮ বছর। অথচ “জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত আইন কলেজ শিক্ষক/কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরির শর্তাবলী রেগুলেশন-২০২২” অনুযায়ী একজন অধ্যক্ষ’র বয়স ৬৭ বছর পূর্ণ হলে তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে যেতে হবে। তাছাড়া ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদনের ক্ষেত্রে যথাযথ বিধি অনুসরণ করা হয়নি বলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক বরাবর গত ১৫ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে একটি অভিযোগ করেন অত্র কলেজের নিয়মিত শিক্ষক এ্যাড. সরদার আবুল হোসেন। অভিযোগ পত্রে আরো উল্লেখ করেন, এ্যাড. হারুন অর রশীদ তার বয়স গোপন রেখে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগের জন্য কমিটির কাছে সুপারিশ করেন। সেই মোতাবেক ১৪/০৯/২০২৫ তারিখে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগের অনুমোদন চেয়ে আবেদন করা হয়। কিন্তু জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনুমোদন না হওয়ায় বা কোন চিঠি না আসায় তিনি নিজ উদ্যোগেই কলেজকে অবগত করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় যেহেতু কোন চিঠি দেয়নি বা আপত্তি করেনি সেহেতু তিনি অধ্যক্ষ মোনোনীত বা অনুমোদিত হয়েছেন বলে ধরে নিয়েছেন। গত ২৭ জুলাই ২০২৫ তারিখ থেকে কাউকে কিছু না জানিয়ে এ্যাড. হারুন অর রশিদ নিজেকে অধ্যক্ষ দাবি করে কলেজ পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগকারী নিজেও অধ্যক্ষ পদে নিয়োগের জন্য একজন যোগ্য প্রার্থী হিসেবে আবেদন রেখেছেন। এ্যাড. হারুন অর রশিদের অধ্যক্ষ নিয়োগের যথাযথ বিধি অনুসরণ না করার অভিযোগপত্রের বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক নাজিম উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত গত ১০/০৩/২০২৬ ইং তারিখে ওঘঝ ০২-১০/০০০৭৮/২০২৬/০৩৫২/১১৭৩৭ স্মারকে মতামত চেয়ে কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি খুলনার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আবু সায়েদ মোঃ মনজুর আলম বরাবর একটি পত্র প্রেরণ করা হয়। সভাপতি অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কমিটি করে দেন এবং কমিটি তার সত্যতা পেয়েছেন মর্মে জানান। সভাপতি ১৪মে’২৬ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক বরাবর মতামত প্রদান করেন। কলেজের অধ্যক্ষ দাবি করা শিক্ষক এড. হারুন অর রশিদ এর সঙ্গে মুঠোফোনে অধ্যক্ষ নিয়োগের বিধি প্রতিপালনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “যতই নিয়ম-কানুনই থাকুক না কেন এসমস্ত কলেজ এভাবেই চলে।” কলেজে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ ও অনুমোদনের বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শকের কাছে মুঠোফোনে জানার চেষ্টা করলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এদিকে অভিযোগকারী শিক্ষক এ্যাড. সরদার আবুল হাসেম জানান, অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিকার চেয়ে চিঠি লেখায় তার এপ্রিল মাসের বেতন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় অফিসকে অথচ অধ্যক্ষসহ অন্য শিক্ষকদের বেতন ভাতা নিয়েছেন। এবং তিনি আরো ক্ষোভ জানিয়ে বলেন,”তদন্ত চলমান অবস্থায় একজন অভিযুক্ত কিভাবে বেতন ভাতা পায় এবং আমার বেতন ভাতা আটকায় এমন ব্যবস্থায় আমি হতাশ হয়েছি”। এছাড়া কলেজের হিসাবরক্ষক কাম কম্পিউটার অপারেটর সৈয়দ ওমর ফারুক সভাপতি বরাবর একটি আবেদন জমা দিয়েছেন সেখানে উল্লেখ করেছেন, অধ্যক্ষ কর্তৃক তাকে প্রাণ নাশের হুমকি প্রদান করা হচ্ছে এবং বলছেন তোমরা এখানে চাকরি কর কিভাবে আমি তা দেখে নিব পাশপাশি অফিসের যাবতীয় ফাইল কাগজপত্র অধ্যক্ষের নিকট বুঝিয়ে দিতে চাপ প্রয়োগ করছে। এমতাবস্থায় সৈয়দ ওমর ফারুক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও উল্লেখ করেন। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন অনাকাংখিত ঘটনা ঘটায় তাদের মধ্যে হতাশা ও অশান্তি বিরাজ করছে বলে মন্তব্য করেন। ১৯৯৭ সালে খুলনার সাবেক আওয়ামী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এ্যাড. মঞ্জুরুল ইসলাম কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়াও নগরে দু’টি প্রতিষ্ঠানে আইন কোর্স চালু রয়েছে সিটি ল’কলেজ খুলনা ও খুলনা ইউনিভার্সিটি। অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) আবু সায়েদ মোঃ মনজুর আলম ও কলেজ কমিটির সভাপতি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button