খুলনায় ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে রাস্তার কাজের টাকা আত্মসাতের ঘটনায় জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টারঃ খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার ৮নং ওয়ার্ডের রাস্তা সংস্কারে অনিয়ম ও সরকারি বরাদ্দকৃত চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. রানা শেখের বিরুদ্ধে। কাজ শেষ না করেই প্রকল্পের সম্পূর্ণ বরাদ্দ তুলে নেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর পক্ষে শেখ মোঃ গোলাম হোসেন। অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, দিঘলিয়া ইউনিয়নের ব্রহ্মগাতী গ্রামের সরকারি পুকুরের মোড় থেকে হিজলতলার ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ১৮শ’ ফুট দীর্ঘ রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল দশায় পড়ে ছিল। জনদুর্ভোগ লাঘবে সরকারিভাবে রাস্তাটি মাটি দ্বারা সংস্কারের জন্য দু’টি প্রকল্পে মোট ১২ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব পান ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. রানা শেখ। রাস্তার কাজ সম্পন্ন না করেই চূড়ান্ত বিল উত্তোলন করে নিয়েছেন ইউপি সদস্য রানা শেখ। বর্তমানে রাস্তার অবস্থা পূর্বের মতোই শোচনীয় রয়ে গেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। এই বিষয়ে এলাকাবাসী ইউপি মেম্বরের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর না দিয়ে কাজ আর হবে না বলে শ্রেফ জানিয়ে দেন। স্থানীয়দের দাবি, ইউপি সদস্য রানা শেখ গত ৪-৫ বছর ধরে এলাকায় দুর্নীতির একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছেন। বিগত আ্’লীগ সরকারের ছত্রছায়ায় থেকে তিনি ৮নং ওয়ার্ডকে অনিয়মের আখড়ায় পরিণত করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। আরো উল্লেখ্য, তিনি দিঘলিয়া থানা শ্রমিক লীগের প্রচার সম্পাদক পদে এখনও বহাল আছেন এবং তিনি এখন ও পর্যন্ত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা এবং পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে চলেছেন। তার বিরুদ্ধে মাদক কারবারিদের সাথে সখ্যতা এবং বিধবা ভাতা ও প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দেওয়ার নাম করে অসহায় মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এমনকি অনেকের ভাতার টাকা কৌশলে নিজের মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে আত্মসাৎ করার অভিযোগও তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। এক ভুক্তভোগী প্রতিবন্ধী হাসি বেগমের স্বামী জহুর শেখ জানান, তার স্ত্রীর প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা ইউপি সদস্য তার নিজের নাম্বারে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও তার পরিবারের অগোচরে দীর্ঘদিন যাবত গ্রহন কর আসছেন, যা পরে প্রতিবন্ধীর স্বামী সমাজসেবা অফিসে খবর নিয়ে জানতে পারেন। জনস্বার্থে এবং সরকারি সম্পদের অপচয় রোধে এলাকাবাসীর পক্ষে গত ১৪/৩/২৬ তারিখে মো. গোলাম হোসেন জেলা প্রশাসক বরাবর এই আবেদন জমা দেন। আবেদনে ঘটনার সরেজমিন তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, উক্ত অভিযোগের অনুলিপি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জেলা পরিষদ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত রানা শেখের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি জয়বাংলার লোক, আমার বিরুদ্ধে আরও যত পারে অভিযোগ করুক, আমার কিছুই করতে পারবে না। রাস্তা সংস্কার করেছি এবং বরাদ্দকৃত অর্থও উত্তোলন করেছি এখন এই নিয়ে অভিযোগ করে কোনো লাভ নেই।”



