মশিয়ালীতে গভীর রাত্রে প্রতিবন্ধি বৃদ্ধার চারটি গরু চুরি

# জীবিকার একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে দিশেহারা পরিবারটি #
স্টাফ রিপোর্টর ঃ খুলনার নগরীর খান জাহান আলী থানার মশিয়ালী গ্রামে গভীর রাত্রে প্রতিবন্ধী বৃদ্ধা শুকুর রানি’র চারটি গরু চুরি হয়েছে। এ দিকে গরু চুরির ঘটনায় প্রতিবন্ধী শুকুররানির জীবিকার একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছেন। এমনকি কিভাবে সামনের দিনগুলো পাড়ি দিবেন, কিভাবে চলবে তার সংসার এ নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা। স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, প্রতি দিনের মতো গরুগুলো গোয়ালঘরে বেঁধে রেখে রাতে ঘুমিয়ে পড়েন বৃদ্ধা শুকুরানী ও তার পরিবারের সদস্যরা। এরপরে গভীর রাত্রে সুযোগ বুঝে সংঘবদ্ধ চোর চক্র গোয়াল ঘরের তালা ভেঙে চারটি বড় আকারের গরু চুরি করে নিয়ে যায়। যার বাজার দর প্রায় তিন লাখ টাকা। বিষয়টি নিয়ে কান্নাজড়িত কন্ঠে প্রতিবন্ধি বৃদ্ধা শুকুরানী বলেন, আমি খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে গোয়াল ঘর ফাঁকা দেখে কাছে যেয়ে দেখি কোন গুরু নেই গরুগুলোর দুধ বিক্রি করে চলতো আমাদের সংসার। সেই আয়ের টাকায় কোনো মতে সংসার সহ চিকিৎসা ও দৈনন্দিন খরচ মেটানো হতো। এখন গরু নেই । এই গরুগুলো ছিল আমাদের বাঁচার এক মাত্র ভরসা আমাদের সংসার কিভাবে চলবে সামনের দিনগুলো চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার করবে। এছাড়া গরু চুরির ঘটনায় শহর জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি দ্রুত চোরদের শনাক্ত ও গরুগুলো উদ্ধারে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের প্রতি আহ্বান জানান। তবে বিষয়টি নিয়ে খানজাহান আলী থানার অফিসার ইনচার্য মোঃ বাসার বলেন, এখনও পর্যন্ত থানায় লিখিত কোন অভিযোগ করেনি ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। তারপরও আমি আমাদের অফিসারদের নির্দেশ দিয়েছি পরিবারের কাউকে এসে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে। এছাড়াও গরুগুলো উদ্ধারের জন্য কাজ করছে আমাদের বিভিন্ন টিম। এছাড়া বিষয়টি নিয়ে কেএমপি’র উপঃ পুলিশ কমিশনার (উত্তর) সুদর্শন কুমার রায় বলেন, আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি এছাড়া ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যপক প্রচার হচ্ছে। আমার ও খুব কষ্ট হচ্ছে। এর আগে আমি খানজাহান আলী থানার অফিসার ইনচার্যকে ফোন করেছিলাম। বলেছি লিখিত অভিযোগ করার পরপরই গরুগুলো উদ্ধার নিয়ে কাজ করতে হবে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন অফিসার সহ পুলিশের অন্যান্য টিম কাজ করছে।



