বেনাপোলে ইউনুছ আলী হত্যাকা-ের প্রধান আসামী সোহেল রানা গ্রেফতার

যশোর ব্যুরো ঃ যশোরের সীমান্তবর্তী বেনাপোল পোর্ট থানার অন্তর্গত গাতিপাড়া গ্রামের ইউনুছ আলী (৪৭) হত্যা কান্ডের প্রধান আসামী সোহেল রানা পিবিআই পুলিশের হাতে আটক হয়েছে। আটকের পর সে হত্যাকান্ডের বর্ণনা দিয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছে। সোহেল রানা বেনাপোল পোর্ট থানাধীন রহমতপুর গ্রামের কুদ্দুস সিকদারের ছেলে। পিবিআই পুলিশ হত্যা কান্ডে ব্যবহৃত গামছা উদ্ধার করেছে। পিবিআই দপ্তরের এসআই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রতন মিয়া জানান, হত্যাকান্ডের শিকার ইউনুস আলী বেনাপোল পোর্ট থানাধীন গাতিপাড়া গ্রামস্থ তার শ্বশুর বাড়িতে তার মা এবং স্ত্রী তাসলিমা খাতুনের সাথে বসবাস করতো। এই মামলার ঘটনার তিনদিন পূর্বে তাসলিমা খাতুন তার মেয়েকে সাথে নিয়ে খুলনাস্থ মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে যায়। গত ২২ এপ্রিল ইউনুস আলী এবং তার মা বাড়িতে থাকাকালীন ঐদিনই বিকাল ৩ টার সময় তরিকুল ইসলাম ইউনুস আলীকে তার বাড়ি হতে কাজের উদ্দেশ্যে ডেকে নিয়ে রহমতপুর গ্রামের রানা এর বাড়িতে নিয়ে যায়। এই হত্যাকান্ডের মূল আসামী আনোয়ার হোসেন এবং তার সাথে থাকা রানা ইউনুস আলীকে পেয়ে ধাক্কাতে ধাক্কাতে রুমের ভিতরে নিয়ে যায় এবং সেখানেই ইউনুস আলীকে মারপিট এবং শারীরিক নির্যাতনসহ শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে। পরবর্তীতে মরদেহ সবুজের মোটর সাইকেল যোগে বেনাপোল পোর্ট থানাধীন বেনাপোল টু পুটখালী রোডস্থ চারা বটতলা নামক স্থানে ফেলে আসে। বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ মৃত দেহের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুুত করে মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, যশোর মর্গে প্রেরণ করেন। উক্ত ঘটনা সংক্রান্তে ভিকটিমের ভাই ইউসুফ আলী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামী উল্লেখ করে বেনাপোল পোর্ট থানায় মামলা করেন। মামলা নং ১৫, তারিখ-২৩/০৪/২০২৬ , ধারা-৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড রুজু হয়। উক্ত মামলাটি পিবিআই যশোর জেলা স্ব-উদ্যোগে গ্রহণ করে মামলার তদন্তভার এসআই রতন মিয়া এর উপর অর্পণ করে। তদন্তকালে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হত্যাকান্ডে জড়িত আসামী তরিকুল ইসলাম (৪০) ও মোঃ সবুজ হোসেন (২১) কে গত ২৭/০৪/২০২৬ গ্রেফতার পূর্বক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করে। এর মধ্যে আসামী তরিকুল ইসলাম বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। অত্র মামলার ঘটনার পরপরই হত্যাকান্ডের অন্যতম আসামীসহ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামীরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চয়ে যায়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা স্থানীয় তদন্ত ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় মামলার অন্যতম আসামীর অবস্থান নিশ্চিত হয়ে এসআই রতন মিয়া, এসআই মাসুদসহ একিিট চৌকস দল অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে গত ২৪ মে রোববার রাত সোয়া ১১ টার সময় পলাতক অন্যাতম আসামী সোহেল রানা (২৬)কে যশোর জেলার শার্শা থানাধীন গোগা এলাকা হতে গ্রেফতার করেন। ধৃত আসামী সোহেল রানা এর স্বীকারোক্তি এবং দেখানো মতে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত গামছা তদšে Íপ্রাপ্ত পলাতক আসামী আনোয়ার হোসেনের বসত ঘর থেকে সাক্ষীদের সম্মুখে উদ্ধারপূর্বক জব্দ তালিকা মূলে জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ধৃত আসামী সোহেল রানা, তদšে Íপ্রাপ্ত পলাতক আসামী আনোয়ার হোসেন ও পূর্বে গ্রেফতারকৃত আসামী তরিকুল ইসলামগণ মিলে গত ২২ এপ্রিল ইউনুস আলীকে রানা এর বসত ঘরের ভিতর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং ঘটনার দিন রাতেই লাশ গোপন করার উদ্দেশ্যে তদন্তে প্রাপ্ত আসামী সবুজ হোসেনের মোটরসাইকেলযোগে মৃতদেহ উল্লেখিত স্থানে ফেলে রাখা হয়। আটক সোহেল রানা কে সোমবার ২৫ মে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ৪র্থ আদালতে সোপর্দ করলে আসামী ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারা মোতাবেক বিজ্ঞ আদালতে হত্যাকান্ডে জড়িত মর্মে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। পরে আদালতে বিজ্ঞ বিচারক তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।


