ভারতে তেলাপোকা পার্টির প্রধানের নেতৃত্বে প্রথম বিক্ষোভ : জনতার ঢল

৫ দফা দাবি
প্রবাহ ডেস্ক : ককরোচ বা তেলাপোকা জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে শনিবার (৬ জুন) সকালে ভারতে ফিরে এসে দিল্লির জন্তর মন্তরে একটি বৃহৎ বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেন। দলটি প্রকাশ্যে আসার পর এটিই তাদের প্রথম বিক্ষোভ-সমাবেশ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়, কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভে বিপুল সংখ্যক তরুণ-তরুণী অংশ নিয়েছেন।
এ সময় বিভিন্ন পরীক্ষা ও নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে অভিজিৎ দিপকে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানান। এছাড়াও বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে উপস্থাপন করা হয় ৫ দফা দাবি।
সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে দিপকে বলেন, ‘বন্ধুরা, এটি দীর্ঘ লড়াই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবির আন্দোলন শুরু করার এক মাস হয়ে গেছে। কিন্তু তারা পদক্ষেপ নেয়ার পরিবর্তে আমাদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা এবং পোস্ট মুছে ফেলার মতো কাজে ব্যস্ত ছিল। আপনারা পোস্ট মুছে ফেলতে পারেন, কিন্তু আমাদের অস্তিত্ব মুছে ফেলতে পারবেন না।’
দলটির পাঁচ দফা দাবিতে যা আছে : যথাযথ প্রশিক্ষণের পর শিক্ষাক্ষেত্রে ডিজিটালায়ন: দিল্লিতে উচ্চশিক্ষায় অধ্যয়নরত তিন শিক্ষার্থীর বাবা ৫০ বছর বয়সী রাধেশ্যাম কৈথাল বলেন, ‘ব্যাংকিং থেকে শিক্ষা—সবকিছু ডিজিটাল করা হচ্ছে। কিন্তু অনিয়ম কি বন্ধ করা যাচ্ছে? উত্তর হলো না। ব্যাংক জালিয়াতি চলছে, এখন শিক্ষাক্ষেত্রেও ডিজিটাল ব্যবস্থার নেতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে। আমি ডিজিটালায়নের বিরোধী নই, তবে শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও সঠিক মূল্যায়নের পর এটি চালু করা উচিত।’
মণিপুরে শিক্ষাব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রম নিশ্চিত করা: বর্তমানে নয়ডায় কর্মরত এবং দুই বছর আগে মণিপুর ছেড়ে আসা ৩২ বছর বয়সী সমাজউদ্যোক্তা উইনসন বলেন, ‘তিন বছর ধরে মণিপুরে অস্থিরতা চলছে। আমার রাজ্যে স্কুল-কলেজসহ কোনো কিছুই স্বাভাবিকভাবে চলছে না। শিক্ষার্থীরা চরম মানসিক চাপে রয়েছে।’
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করা: দিল্লিতে বসবাসকারী জয়পুরের বাসিন্দা ৩৪ বছর বয়সী গায়ত্রী সিং বলেন, ‘আমার এক আত্মীয় পরিবার থেকে দূরে কোটায় একটি ছোট্ট ঘরে থেকে নিট পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সে ভেবেছিল কম র্যাংকের কলেজে সুযোগ পেলেও ভর্তি হবে। কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা সবকিছু নষ্ট করে দিয়েছে। তিন বছরের বেশি সময় ধরে সে প্রস্তুতি নিয়েছে। এখন তাকে আবার পরীক্ষায় অংশ নিতে কীভাবে উৎসাহ দেব, বুঝতে পারছি না।’
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বাস্তব সমস্যাগুলোকে অগ্রাধিকার দেয়া: দিল্লির ১৮ বছর বয়সী রোনক কুমার বলেন, ‘আমি অনলাইনে দলটিকে অনুসরণ করছিলাম, কিন্তু বিক্ষোভে আসব কি না নিশ্চিত ছিলাম না। সকাল ১০টায় অফিসে যাওয়ার পথে হঠাৎ সিদ্ধান্ত বদলে এখানে চলে আসি। দলের ভবিষ্যৎ কী হবে জানি না, তবে অন্তত তারা এমন বিষয় নিয়ে কথা বলছে, যা শিক্ষার্থী ও অভিভাবক—সবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’
শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা: মনোবিজ্ঞানী সুগন্ধা বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আন্দোলনকে মাঠে নামাতে পেরেছে সিজেপি। এর অর্থ হলো তারা এমন বিষয় নিয়ে কথা বলছে, যার সঙ্গে মানুষ নিজেদের সম্পৃক্ত মনে করছে। অনেক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে, লাখো শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপে রয়েছে, অথচ কোনো জবাবদিহি নেই।’
তরুণদের ব্যাপক অংশগ্রহণ ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি : বিক্ষোভে শত শত মানুষ অংশ নেন, যাদের বেশিরভাগই তরুণ। অনেককে ককরোচের মুখোশ পরে এবং হাতে ফুল নিয়ে উপস্থিত হতে দেখা যায়। অভিভাবকদের সঙ্গে কয়েকজন স্কুলশিক্ষার্থীও কর্মসূচিতে অংশ নেয়। সমাবেশে স্কুল ও কলেজ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি তরুণ পেশাজীবীদেরও উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি ছিল।
বিক্ষোভস্থলে সিজেপি নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস, সিবিএসইর অন-স্ক্রিন মূল্যায়ন পদ্ধতিতে অনিয়মের অভিযোগ এবং বিভিন্ন পরীক্ষা-সংক্রান্ত ত্রুটির প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করা হয়। সমাবেশে ‘ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে’, ‘ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করুন’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেয়া হয়।


