স্থানীয় সংবাদ

খুলনায় ছয় দফা দাবিতে চিকিৎসকদের কর্মবিরতি

স্টাফ রিপোর্টার ঃ ছয় দফা দাবিতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েগন এবং বেসরকারি পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেনি চিকিৎসকদের কর্মবিরতি চলছে। সকালে বিক্ষোভের পর বিকাল তিনটা থেকে এই অনির্দিষ্টকালের এই কর্মবিরতি শুরু হয়েছে। এতে মেডিসিন, সার্জারি ও গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসক সংকটে ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ রোগীরা।
হাসপাতাল পরিচালক বলছে , তাদের অনেক দাবি যৌক্তিক, কিন্তু হাসপাতালের রোগীদের সেবা বিঘিœত হয় এমন কোন কাজের সাথে আমি একমত নই। এটা তাদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।
৬ দফা দাবিতে গত ৪ দিন ধরে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসাবে রবিবার(৭ জুন) দুপুর ১২টায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন এর উদ্যোগে আয়োজিত এই বিক্ষোভে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে অংশ নেয় সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ৩ শতাধিক চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থী এই বিক্ষোভে অংশ নেয়।
ইন্টার্ন ক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডাঃ শেখ আল আমিন এর সভাপতিত্বে বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন ডা. মো. তৌফিক হাসান, ডা. হাফিজুল হক, ডা. সানজিদা আফরোজ, ডা. অশ্রুত বসু হৃদ্য, ডা. এস এম শামসুল ইসলাম, ডা. জয়ী ঘোষ। ডা. তাহমিদ এম তাওসিফ নূর, ডা. মো. ফেরদৌস আহমেদ, ডা. পুষ্পিতা দাশ সৃষ্টি, ডা. মারিয়া ইসলাম মিতু, ডা. তামান্না তাবাসসুম লামিয়া, ডা. প্রত্যয় রায় এবং ডা. মানস মল্লিক কাঁকন ও ডা. নিলয় বিশ্বাস, ডা. এস এম রাহাত সাকির, ড. তরফদার মো. ফয়সাল, ডা. শ্রী রিপন চন্দ্র পাল, ডা. মো. মেহেদী হাসান কুসুম, ডা. প্রতাপ কু-ু জয়, ডা. মো. মিরাজ পারভেজ প্রমুখ।
বিক্ষোভ থেকে সংগঠনের সভাপতি ডাঃ শেখ আলামিন বলেন, এফসিপিএস ট্রেনিং সংক্রান্ত সরকারের কিছু ভুল নীতি সংশোধনের দাবিতে আমরা সুনির্দিষ্ট ৬ দফার আলোকে যৌক্তিক আন্দোলন করছি। গত কয়েকদিনের কর্মসূচিতে এর সমাধান না হওয়ায় আজ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি ঘোষণা করা হয়েছে। আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন কর্মসূচি চলমান থাকবে।
এদিকে বিকালে হাসপাতালের পরিচালকের কক্ষে অবস্থান নেয় বেসরকারি পোস্ট গ্রাজুয়েশন ট্রেনি ডক্টরস এসোসিয়েশন। শতাধিক উচ্চ শিক্ষার্থী চিকিৎসকরা স্মারকলিপি প্রদান করেন এবং ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে কর্মবিরতি ঘোষণা প্রদান করেন।
হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ কাজী আইনুল ইসলাম বলেন, আমরা ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনেক দাবির সাথেই একমত তবে হাসপাতাল এর সেবা বিঘিœত হয় এমন আন্দোলন কর্মসূচি না দিতে তাদের অনুরোধ করেছি। এখন মিড লেভেল ট্রেনিং চিকিৎসক যারা বেসরকারি অথচ এখানে উচ্চ শিক্ষা ট্রেনিং করছে তারাও আন্দোলন এর অংশ হিসাবে কর্মবিরতি ঘোষণা করেছে এবং স্মারকলিপি দিয়েছে। কিন্তু আমি তাদের স্পষ্ট বলেছি রোগীদের কথা বিবেচনায় নিয়ে এমন কোন কর্মসূচি নেয়া যাবে না যাতে সাধারণ রোগীদের কষ্ট হয় এবং তাদের চিকিৎসা বিঘিœত হয়। আমি তাদের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা সাফ জানিয়ে দিয়েছি।
এদিকে হাসপাতালের মেডিসিন ইউনিট ২ এবং সার্জারি ৯-১০ ওয়ার্ডে ঘুরে দেখা যায়, ইন্টার্ন এবং এইচএমও না থাকায় ভর্তিরোগী রিসিভ থেকে শুরু করে চিকিৎসায় দারুণ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে সাধারণ রোগীরা। মুমূর্ষু অবস্থায় ঘুরে বেড়াচ্ছে তারা। সহকারী রেজিষ্ট্রারা কয়েকজন থাকলেও তা পর্যাপ্ত নয়।
বাগেরহাট থেকে ইলিয়াস মোল্লা নামে রোগী বলেন শ^াসকষ্ট নিয়ে মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার পর অনেকক্ষণ কোন সেবা পাইনি। বলে আন্দোলন চলতেছে আর যে ডাক্তার আছে সেও খাইতে গেছে। তাই অক্সিজেন দিয়ে কোন রকম ছিলাম। এখন নাজিমুদ্দিন নামে এক চিকিৎসক আসছেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button