ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী নির্দেশনার আলোকে আমরাও কাজ শুরু করেছি মঞ্জু

# মহানগরী এলাকায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও প্রতিরোধ কার্যক্রম বিষয়ে মতবিনিময় #
স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনা মহানগরী এলাকায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও প্রতিরোধ কার্যক্রম বিষয়ে এক মতবিনিময় সভা সোমবার সকালে নগর ভবনের শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালের কর্মকর্তা, মহানগরীর বিভিন্ন বাজার, দোকান, রেস্তোরা ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ, পরিবহন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন। সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় কেসিসি প্রশাসক বলেন, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নির্দেশনার আলোকে আমরাও কাজ শুরু করেছি। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে এবং এডিস মশা নির্মূলে তিনি সভায় উপস্থিত সকলের পরামর্শ এবং সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। সভায় বাজারসমূহের অভ্যন্তরীণ ড্রেনসমূহ ও জমে থাকা বর্জ্য দ্রুত অপসারণ করার পাশাপাশি বাজারসমূহে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক পৃথক কমিটি গঠন, ইজিবাইকের ব্যাটারী সংক্রান্ত দূষণ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ পরিচ্ছন্নতার আওতায় আনাসহ কেসিসি’র সাথে বেসরকারি সংস্থাসমূহের কাজের সমন্বয় করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় কেসিসি’র কঞ্জারভেন্সী বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইতোমধ্যে মহানগরীর প্রত্যেকটি বড় ড্রেন ও খালের পানি প্রবাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে পরিষ্কার করা হয়েছে এবং সকল প্রকার পরীক্ষার মধ্য দিয়ে মশক নিধনে ঔষধ ক্রয় করা হয়েছে। ফলে নগরীর অনেক স্থানে মশা হ্রাস পেয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমও যে কোন সময়ের তুলনায় গতিশীল করা হয়েছে। তবে এখনো ২০ শতাংশ ছোট ড্রেন পরিষ্কারের কাজ বাকি আছে যা বর্ষা মৌসুমের পূর্বেই পরিষ্কার করা হবে। কেসিসি প্রশাসক ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে প্রচার প্রচারণা চালাতে হবে। কেসিসি’র পক্ষ থেকে সচেতনতামূলক লিফলেট ছাপানো হয়েছে তা বিতরণের পাশাপাশি এ বিষয়ে মাইকিংও করা হবে। আগামীতে মিনিবাস, বাস ও ট্রাক মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দের সাথে সভা আয়োজনসহ সকলকে সাথে নিয়ে একেকদিনে একেকটা সড়ক ও ড্রেন পরিষ্কার এবং এ সংক্রান্ত অভিযোগ জানানোর জন্য এ্যাপ তৈরী ও হটলাইন চালু করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালের পরিচালক ডা. শেখ আবু শাহীন, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো: আখতারুজ্জামান, জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো: রফিকুল ইসলাম, নৌবাহিনী হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লে. কমান্ডার মোসাদ্দেকুল, খুলনা শিশু হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. প্রদীপ দেবনাথ ও গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিচালক ডা. মোস্তফা আল মামুন। অন্যান্যের মধ্যে কেসিসি’র প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো: আনিসুর রহমান, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শাম্মীউল ইসলাম, কঞ্জারভেন্সী অফিসার মো: অহিদুজ্জামান খান, ভেটেরিনারী সার্জন ড. পেরু গোপাল বিশ^াস, বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার প্রোগ্রাম অফিসার আসিফ আহমেদ, নাগরিক ফোরামের মহাসচিব এস এম ইকবাল হাসান তুহিন, রেস্তোরা মালিক সমিতির মহাসচিব মো: ওমর ফারুক, কেসিসি পাইকারী বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো: নজরুল ইসলাম, রূপসা পাইকারী কাঁচা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো: জাহান আলী, রূপসা সন্ধ্যা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শেখ মেহেদী হাসান লিটন, কেডিএ নিউ মার্কেট দোকান মালিক সমিতির সহসাধারণ সম্পাদক মো: আমিরুল ইসলাম অলিকসহ কেসিসি’র ওয়ার্ড ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন। এর আগে কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু নগরীর ১৩নং ওয়ার্ডে মিলন মহিলা কল্যাণ সংস্থা আয়োজিত বর্জ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। সম্প্রতি ১৩নং ওয়ার্ডের বর্জ্য ব্যবস্থা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এ সংস্থাটিকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। সংস্থাটি আজ সোমবার থেকে ওয়ার্ডে বাড়ি বাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করেছে। কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রণব কুমার ঘোষ, স্থানীয় সমাজসেবক এ্যাড. ফজলে হালিম লিটন, নিজামুর রহমান লালু, শাহিনুল ইসলাম পাখি, এইচ এম আবু সালেক, কাজী শফিকুল ইসলাম শফি, আশরাফ হোসেন, আবুল কালামসহ সংস্থার কর্মকর্তাগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। সকাল সাড়ে ৯টায় কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু নগরীর গল্লামারী এলাকাসহ ব্রীজের নির্মাণ কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি কাজের গুণগত মান বজায় রেখে এবং জনদুর্ভোগের কথা ভেবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্রীজের কাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানান। ব্রীজের কাজ আগামী ৪০/৪৫ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে সড়ক ও জনপথ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়। এছাড়া তিনি গল্লামারী ব্রীজ সংলগ্ন এলাকায় পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাজার কমিটির নেতৃবৃন্দকে নির্দেশনা দেন। কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, সড়ক ও জনপথ বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সৈয়দ আসলাম আলী, নির্বাহী প্রকৌশলী মো: তানিমুল হক, কেসিসি’র নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মো: মাসুদ করিম, সমাজসেবক নজরুল ইসলাম বাবু, আসাদুজ্জামান মুরাদ, হাফিজুর রহমান মনি, শমসের আলী মিন্টু, খন্দকার ফারুক হোসেন, আসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।



