স্থানীয় সংবাদ

নগরীতে অসুস্থ পিতা-মাতাকে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ ছেলের বিরুদ্ধে

প্রতিকার চেয়ে পুলিশ কমিশনার বরাবর অভিযোগ ভুক্তভোগী মা’য়ের

স্টাফ রিপোর্টার : খুলনার মহানগরীর লবণচরায় উগ্র ও নেশাগ্রস্থ ছেলে নুরুল ইসলাম সুমনের বিরুদ্ধে অসুস্থ পিতা ও গর্ভধারিণী মায়ের ওপর অমানবিক নির্যাতন ও নিজ গৃহ থেকে বিতাড়িত করার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে সম্প্রতি ঢাকায় সন্তানদের অবহেলায় মায়ের মৃত্যু ও লাশে পোকা ধরার মত চাঞ্চল্যকর ঘটনার অনুরূপ ঘটনাও ঘটতে পারে বলে স্থানীয়রা আশংকা করছেন। এ ঘটনার প্রতিকারের দাবিতে ভুক্তভোগী বৃদ্ধা মা আনোয়ারা বেগম খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, নগরীর লবনচরা থানার মহিরবাড়ি বড় খালপাড় সংলগ্ন ৬৭নং মুজাহিদপাড়া গলি এলাকার আনোয়ারা বেগমের স্বামী আনোয়ার হোসেন মৃধা দীর্ঘ ৫ বছর যাবত অসুস্থ হয়ে শয্যাশয়ী অবস্থায় বিছানায় পড়ে রয়েছেন। তার স্বামীর অর্জিত অর্থ দিয়ে তিনি সেমিপাকা ঘর করে সেই ঘরে অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে বসবাস করে আসছেন। তাদের ছেলে নুরুল ইসলাম সুমনও একই সাথে বসবাস করে। কিন্তু অত্যন্ত সুঃখের বিষয় ছেলে সুমন ও তার স্ত্রী রিমা মিলে শয্যাশায়ী জন্মদাতা পিতা ও গর্ভধারিণী মাকে উক্ত বসত ঘর থেকে বের করে খোলা আকাশের নিচে ফেলে দেয়। ফেলে দেওয়ার একপর্যায়ে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের সহায়তায় গরীব ও অসহায় কন্যা তাসলিমা আক্তার অন্য ছেলে মেয়েরা জামাতা ও আত্মীয় স্বজন তুলি, এর বাসায় আশ্রয় নিয়ে কোনরকম জীবনযাপন করে আসছে। এমনকি এসব ঘটনার প্রতিবাদ করলে ওই হিংস্র সন্তান সুমন সকলকে আপমান করে এবং মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সুমনের বাবা আনোয়ার হোসেন মৃধা প্রায় চার বছর আগে ছেলের এমন আচরণের কারণে স্ট্রোক করে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হন। এরপর থেকে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ অবস্থায় রয়েছেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে, এই যুবকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত হয়ে নিজের বাবা-মা, ভাই-বোনের ওপর নির্যাতন চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া নিয়মিত মাদক সেবনের জন্য টাকা না পেলে মারধর, গালিগালাজ এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। সুমনের ভাই-বোনও একই ধরণের অভিযোগ করেছেন।
তাদের দাবি, মাদকাসক্তির কারণে সুমনের আচরণ দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। যার কারনে পুরো পরিবার রয়েছে আতঙ্কের মধ্যে।
ভুক্তভোগী মা আনোয়ারা বেগম অভিযোগ করেন, তাদের কষ্টার্জিত অর্থে নির্মিত ছোট্ট ঘর থেকেই ছেলে তাদের বের করে দিয়েছে। বর্তমানে তিনি ও তার অসুস্থ স্বামী চরম মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।
তিনি আরও বলেন, আমাদের খরচ দেওয়া তো দূরের কথা, উল্টো নিয়মিত গালিগালাজ ও মারধর করে। বসত ঘরে ফিরে যেতে পুলিশ-প্রশাসনের প্রতি জোরালো দাবি জানিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রায়ই মাদক সেবন করে এলাকায় বিশৃঙ্খল আচরণ করেন। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে কুলাঙ্গার ছেলের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি এলাকাবাসীর।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button