স্থানীয় সংবাদ

পাইকগাছায় যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘিরে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি ঃ খুলনার পাইকগাছা উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নে হাসান ওরফে কিং (৪০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রহস্য ও ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি, ঘরের পাশে প্রস্রাব করতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হামলাকারীরা পুলিশের উপস্থিতিতেই তাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে পিটিয়ে হত্যা করেছে। তবে স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, ঘটনাটির নেপথ্যে রয়েছে দীর্ঘদিনের আধিপত্য বিস্তার ও মাদক বাণিজ্যকেন্দ্রিক বিরোধ।
রবিবার (৭ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চাঁদখালী গরুর হাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসানকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চাঁদখালী গ্রামের মালেক সরদারের ছেলে হাসানের একটি গোলপাতার ঘর রয়েছে। ঘটনার সময় কালিদাসপুর গ্রামের খালেক গাজীর ছেলে কুদ্দুস ঘরের পাশে তার স্ত্রীর সামনে প্রস্রাব করতে বসলে হাসান তাকে বাধা দেন। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে বাকবিত-া শুরু হয়। একপর্যায়ে কুদ্দুস মোবাইল ফোনে নাজমুল হাসান মিন্টু, আজহারুল, জহিরুল, জাহাঙ্গীর, মনিরুল, কবির, খায়রুল, খোকন হাজীসহ আরও কয়েকজনকে ঘটনাস্থলে ডেকে আনেন। নিহতের স্বজনদের দাবি, পরে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে হাসানের ওপর হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, তাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে দীর্ঘ সময় ধরে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। নিহতের স্ত্রী তাসলিমা বলেন, “আমার স্বামী শুধু ঘরের পাশে প্রস্রাব করতে নিষেধ করেছিলেন। এরপর কুদ্দুস লোকজন ডেকে এনে তাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে মারধর করে। নাজমুল হাসান মিন্টুর নেতৃত্বে আজহারুল, জহিরুল, জাহাঙ্গীর, মনিরুল, কবির, খায়রুল, খোকন হাজী সহ আরও কয়েকজন হামলায় অংশ নেয়। পুলিশের উপস্থিতিতেই আমার স্বামীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।” পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার একপর্যায়ে পাইকগাছা থানার এসআই মঞ্জুর সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। কিন্তু তখনও মারধর চলতে থাকে। এ অভিযোগ ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যেও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তবে ঘটনার আরেকটি ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। তাদের দাবি, হাসানের মৃত্যুর পেছনে শুধু তাৎক্ষণিক বাকবিত-া নয়, বরং এলাকায় মাদক বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধও কাজ করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, চাঁদখালী ও আশপাশের এলাকায় মাদক ব্যবসা ঘিরে কয়েকটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল। সাম্প্রতিক সময়ে সেই বিরোধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি ঘটনাটি শুধুই প্রস্রাব করাকে কেন্দ্র করে হয়ে থাকে, তাহলে এত অল্প সময়ে এত সংখ্যক লোকের সংঘবদ্ধভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ার কারণ কী? আবার মাদক বাণিজ্যকেন্দ্রিক বিরোধের অভিযোগও কতটা সত্য, সেটিও তদন্তে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। চাঁদখালীতে হাসানের মৃত্যু এখন শুধু একটি হত্যাকা-ের অভিযোগ নয়; এটি স্থানীয় আধিপত্য, সম্ভাব্য মাদক সিন্ডিকেটের প্রভাব এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। ঘটনাটি কি কেবল একটি তাৎক্ষণিক বিরোধের পরিণতি, নাকি এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের আধিপত্যের লড়াই—সেই উত্তর খুঁজছে স্বজন, এলাকাবাসী এবং তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে এসআই মঞ্জুরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। তবে এ বিষয়ে মন্তব্য করা আমার জন্য সমীচীন হবে না। এ বিষয়ে ওসি মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলতে হবে।” পুলিশ জানায়, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছিল।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button