‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন না হলে সরকার জনবিচ্ছিন্ন হবে: ড. দিলারা চৌধুরী

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিলম্ব হলে সরকার জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে এবং দেশে সাংবিধানিক সংকটের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী। তিনি বলেন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ছাড়া দেশের কাক্সিক্ষত উন্নয়ন সম্ভব নয়। রোববার (২১ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক আয়োজিত ‘বর্তমান সরকারের চার মাস: প্রত্যাশা, অর্জন ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান আলোচক হিসেবে ড. দিলারা চৌধুরী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সুজনের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, অধ্যাপক ড. ওয়াহেদুজ্জামান করিম, অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী, নাগরিক কোয়ালিশনের সহ-সমন্বয়ক ফাহিম মাশরুরসহ বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণেই প্রয়োজনীয় অন্যান্য সংস্কারও এগোচ্ছে না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এর পেছনে কোনো আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তার মতে, সরকার যদি দ্রুত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে, তাহলে জনগণের আস্থা হারানোর ঝুঁকি তৈরি হবে। তিনি আরও বলেন, কৃষকদের জন্য সাময়িক ভাতা বা কার্ডের পরিবর্তে কৃষির আধুনিকায়ন, সংরক্ষণব্যবস্থা উন্নয়ন এবং উৎপাদনশীল বিনিয়োগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। একইসঙ্গে দুর্নীতি দমন, শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের ওপরও জোর দেন তিনি। ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, অতীতের শাসনামলে বাকস্বাধীনতা সংকুচিত হয়েছে, মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো দুর্বল হয়েছে। এসব সংকট থেকে উত্তরণে কার্যকর সংস্কার অপরিহার্য হলেও সরকার এখনো কাক্সিক্ষত গতিতে এগোতে পারেনি। তিনি জুলাই সনদ-সংক্রান্ত গণভোটের রায় বাস্তবায়নে গড়িমসিকে গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত ছিল সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন। জুলাই-আগস্টের ঘটনাবলির বিচার দ্রুত সম্পন্ন করা এবং জ্বালানি খাতে অনিয়ম ও মজুতদারির অভিযোগ তদন্তেরও দাবি জানান তিনি। একইসঙ্গে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচিকে দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ড. ওয়াহেদুজ্জামান করিম বলেন, সরকার দৃশ্যমান কিছু উদ্যোগের মাধ্যমে জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে, কিন্তু প্রকৃত প্রয়োজন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক সংস্কার। তিনি জানান, ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে এবং এ খাতে ব্যাপক সংস্কার জরুরি। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারের অনীহাকে তিনি হতাশাজনক বলে উল্লেখ করেন। ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী বলেন, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা স্বাভাবিকভাবেই বেশি। তাই প্রত্যাশা ও বাস্তব অর্জনের ব্যবধান যত কমবে, ততই জনগণের আস্থা বাড়বে। তিনি ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন, শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ফাহিম মাশরুর বলেন, সরকারের প্রথম কয়েক মাসে ইতিবাচক কিছু পদক্ষেপ থাকলেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ঘাটতি স্পষ্ট। দুর্নীতি প্রতিরোধ ও আর্থিক খাতের সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও তিনি মত দেন।



