জাতীয় সংবাদ

গাইবান্ধায় স্কুল কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব, শিবির নেতাকে ও যশোরে বিএনপি কর্মীকে গলা কেটে হত্যা

# গলাকেটে হত্যার ট্রেডিশন ভালই চলছে দেশে! #

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ গাইবান্ধা সাঘাটায় বিদ্যালয়ের কমিটি গঠন নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে প্রকাশ্যে সাইফুল বারী (২২) নামে এক ছাত্রশিবির নেতাকে গলা কেটে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। হামলায় আহত হয়েছেন তার বন্ধু সালাউদ্দিন (৩০)। রোববার (২১) জুন বিকেলে উপজেলার বোনারপাড়ার চারমাথা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সাইফুল্লাহ বারী বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি। তিনি ওই ইউনিয়নের শিমুলতাইর গোরস্থানপাড়া গ্রামের হবিবার রহমানের ছেলে। রংপুর ধাপের সাতগড়া মডেল কামিল মাদরাসার তৃতীয় বর্ষের আল কুরআন বিভাগের ছাত্র ছিলেন সাইফুল্লাহ। গুরতর আহত সালাউদ্দিন একই ইউনিয়নের ফুটানি বাজার এলাকার দুদু মিয়ার ছেলে। এদিকে অভিযুক্ত মুকুল ও পলাশ আপন দুই ভাই। তারা একই ইউনিয়নের বাটি গ্রামের জাহিদুল ইসলামের ছেলে। মুকুল বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি। বিতর্কিত কর্মকা-ের অভিযোগে আগেই তাদের যুবদল থেকে বহিষ্কার করা হয়। নিহতদের স্বজন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বোনারপাড়া বাজারের (উপজেলা চত্বরে) চারমাথা মোড়ে কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে দুটি পক্ষের মধ্যে বাগবিত-া হয়। একপর্যায়ে সাইফুল্লাহকে মারধর করতে শুরু করেন মুকুল ও তার ভাই পলাশ। পরে পলাশ হঠাৎ সাইফুল্লাহর গলায় লোহার শাবল দিয়ে আঘাত করেন। এসময় সাইফুল্লাহর সঙ্গে থাকা তার বন্ধু সালাউদ্দিনকেও ছুরিকাঘাত করেন তারা। পরে স্বজনরা আহতদের উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক সাইফুল্লাহকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অন্যদিকে গুরতর আহত সালাউদ্দিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পরে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে থাকা নিহত শিবির নেতার আরেক বন্ধু মোবাশ্বের জানান, কচুয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তার চাচা হাবিবুল্লাহ। দীর্ঘদিন থেকে ওই স্কুলে কমিটি নেই। সম্প্রতি স্কুলে কমিটি গঠনের কথা চলছিল। বিকেলে বোনারপাড়া বাজারে চা খাচ্ছিলেন প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লাহ। এসময় মুকুল-পলাশসহ বেশ কয়েকজন এসে কমিটির বিষয় নিয়ে শিক্ষক হাবিবুল্লাহর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। পরে বিষয়টি নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হলে স্থানীয়রা দুই দলকেই সরিয়ে দেন। কিন্তু চলে যাওয়ার সময় তারা এ হামলা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পবিত্র কুমার বলেন, সার্বিক বিষয়টি তদন্তসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। গাইবান্ধা জেলা যুবদলের সভাপতি রাগীব হাসান চৌধুরী বলেন, অভিযুক্ত মুকুল বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি। অনৈতিক কোনো কাজ এবং দলের শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে স্থানীয় উপজেলা যুবদলের নেতৃবৃন্দ তাকে আগেই বহিষ্কার করে। তাদের ব্যক্তিগত কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার দায়ভার কোনোভাবেই দল নেবে না। অপরদিকে আমাদের যশোর ব্যুরো থেকে পাঠানো সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, যশোরে বিএনপি কর্মীকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। যশোরের চৌগাছায় আতিয়ার রহমান (৪২) নামে একজন বিএনপি কর্মীকে গলাকেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় ওসমান (৩০) নামে এক যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ । রোববার (২১ জুন) আছর নামাজের পর উপজেলার চৌগাছা, সিংহঝুলী ও ধুলিয়ানী ইউনিয়নের মধ্যবর্তী বেড়গোবিন্দপুর বাওড়ের সিংহঝুলী ইউনিয়নের খালে ভাসমান অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত আতিয়ার রহমান উপজেলার চৌগাছা সদর ইউনিয়নের লস্কারপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতা ছবেদ আলী চৌগাছা সদর ইউনিয়ন বিএনপির নির্বাহী সদস্য। শারীরিকভাবে কিছুটা প্রতিবন্ধী আতিয়ার বেড়গোবিন্দপুর বাওড়ে পাহারাদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। একইসঙ্গে বাওড়ের পাশে থাকা তার একটি গভীর নলকূপের মাধ্যমে কৃষি ও সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। পিতা ছবেদ আলী ও ছোট ভাই রাশেদ লাশ উদ্ধারের স্পট থেকে জানান, আতিয়ার প্রতিদিন সকালে বাড়ি গেলেও রোববার বাড়ি যাননি। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না। এক পর্যায়ে রোববার (২১ জুন) বিকাল ৫টার দিকে নিহতের ভাতিজা হাসান (২৬) বেড়গোবিন্দপুর বাওড়ের ক্যানালের (বাওড়ে পানি প্রবেশের খাল) কচুরিপানার নিচে পানিতে ভাসমান অবস্থায় তার লাশ দেখতে পান। তার চিৎকারে পরিবারের অন্যান্য লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে চৌগাছা থানা পুলিশে সংবাদ দেন। পরে চৌগাছা থানার ওসির নেতৃত্বে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় সন্দেহজনকভাবে ফতেপুর গ্রামের হাফিজুরের ছেলে ওসমানকে (৩০) ধরে মারপিট করেন নিহতের স্বজনরা। পরে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়। চৌগাছা উপজেলা বিএনপি সভাপতি এমএ সালাম জানান, আতিয়ার বিএনপির কর্মী ছিলেন। তার বাবা চৌগাছা সদর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য। তিনি জানান, বেড়গোবিন্দপুর বাওড়কেন্দ্রীক তাদের সাথে কিছু লোকের বিরোধ ছিল। তারা আগেও তাকেসহ তার পরিবারের লোকজনকে আহত করেছিলেন। সে বিষয়ে মামলাও হয়েছিল। তিনি বলেন, যে বা যারাই এই নিকৃষ্ট হত্যাকান্ডে জড়িত থাকুক তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হোক। সন্ধ্যায় চৌগাছা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হোসেন পাটোয়ারীর নেতৃত্বে লাশের সুরাহতল রিপোর্ট প্রস্তুতের কাজ চলছিল। সুরাহতল শেষে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশীদ বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, ধারালো অস্ত্র দিয়ে নিহতের গলা ও পেট এবং পিঠের ডানপাশে বগলের নীচে কাটার দাগ রয়েছে। ওসি মামুনুর রশীদ আরও জানান, এ ঘটনায় অপরাধীদের চিহ্নিত করে আটকের অভিযানে রয়েছে পুলিশ।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button