স্থানীয় সংবাদ

সুন্দরবনে কোস্টগার্ডের সাথে ‘দুলাভাই বাহিনী’র গেলাগুলি : নিহত ১

# নিহত জেলের পরিবারে শোকের মাতম
# গুলিবিদ্ধ ২ বনদস্যু চিকিৎসাধীন
# ২ জনের নাম উল্লেখ সহ অজ্ঞাত আসামী করে মামলা দায়ের
# ৬ টি বন্দুক ও ৭২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার

স্টাফ রিপোর্টার ও কয়রা প্রতিনিধি ঃ সুন্দরবনে কোস্টগার্ডের সঙ্গে বনদস্যু ‘দুলাভাই বাহিনীর’ সদস্যদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় শওকত সরদার (৬০) নামের এক জেলে নিহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন দুলাভাই বাহিনীর প্রধান রবিউল ইসলাম ও তার সহযোগী ইসরাফিল হোসেন নামের ২ বনদস্যু। তারা ২ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।ঘটনাস্থল হতে কোষ্টগার্ডের সদস্যরা ৬ টি একনালা বন্দুক, ৭২ রাুউন্ড গুলি সহ বনদস্যুদের ব্যবহৃত মালামাল উদ্ধার করেছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাত সাড়ে ১১ টার দিকে খুলনার কয়রা উপজেলার সুন্দরবনসংলগ্ন ময়দাপাশা খাল এলাকায় গোলাগুলির এই ঘটনা ঘটে। নিহত শওকত সরদার (৬০) উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মহেশ্বরীপুর গ্রামের বাসিন্দা। তবে সে তেতুলতলারচরা এলাকার গুচ্ছ গ্রামে নদীর পাড়ে বসবাস করতো। ২০/২১ দিন আগে তাাকে বাড়ি হতে জিম্মি করে নিয়ে যায় ঐ বাহিনীর সদস্যরা । এই সময়টা শওকত বনদস্য বাহিনীর জিম্মিদশায় ছিলো। তার ৩ ছেলে ২ মেয়ে সহ স্ত্রী রয়েছে। কোস্টগার্ড ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঐ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ ৩ জনকে উদ্ধার করে প্রথমে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সওকত সরদারকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ছাড়া গুরুতর আহত বাহিনী প্রধান রবিউল ইসলামকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে শুক্রবার উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অন্যদিকে বনদস্যু ইস্রাফিল (৩০) কে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পুলিশ জেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় কোস্টগার্ডের পেটি অফিসার আরিফুর ইসলাম বাদী হয়ে কয়রা থানায় মামলা দায়ের করে। যার নং-১৫ তাং-২৭-৬-২৬ ইং। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রবিউল ইসলামই সুন্দরবনের কুখ্যাত ‘দুলাভাই বাহিনী’র প্রধান। একসময় সুন্দরবনে ‘ইলিয়াস বাহিনী’ নামে পরিচিত একটি বনদস্যু চক্রের ত্রাস ছিল। সেই বাহিনীর প্রধান ইলিয়াস নিহত হওয়ার পর ২০২৪ সালে তার বোনের স্বামী (দুলাভাই) রবিউল ইসলাম নতুন করে এই দস্যু দলটি গঠন করে। এরপর থেকেই স্থানীয়দের মুখে মুখে এটি ‘দুলাভাই বাহিনী’ নামে পরিচিতি পায়। গোলাগুলির বর্ণনা দিয়ে কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের তেঁতুলতলা গ্রামের বাসিন্দারা জানান, বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে হঠাৎ সুন্দরবনের ভেতরে ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। রাতভর প্রায় শতাধিক রাউন্ড গুলির শব্দের পাশাপাশি আগুনের লেলিহান শিখাও ওপরের দিকে উঠতে দেখা গেছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে গ্রামবাসী রাতভর লাঠিসোঁটা নিয়ে রাস্তায় পাহারা দেন। স্থানীয় আরও জানায়, নিহত শওকত হোসেন একজন জেলে। তাকে ঐ বাহিনীর সদস্যরা কয়েক দিন আগে জিম্মি করে রাখে। কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম জানান, বৃহস্পতিবার রাতে সুন্দরবনের গহীনে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের এক বিশেষ অভিযান পরিচালনাকালে ডাকাত দল কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে অতর্কিত গুলি চালায়। আত্মরক্ষার্থে কোস্টগার্ড সদস্যরাও পাল্টা গুলি ছোড়েন। রাতব্যাপী চলা এই অভিযানে তিন ডাকাত সদস্যকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেই থেকে বনসংলগ্ন এলাকায় এখনও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেজাউল করিম বলেন, কোস্টগার্ড সদস্যরা গুলিবিদ্ধ ৩ জনকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন। এর মধ্যে সওকত সরদার হাসপাতালে আনার আগেই মারা যান, তার শরীরে গুলির চিহ্ন ছিল। এ ছাড়া বাহিনী প্রধান রবিউল ইসলামকে জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপর বনদস্যু ইস্রাফিলকে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা এসআই মোঃ সোহাইল বলেন, নিহত শওকত হোসেনের লাশ ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হবে। কয়রা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহ আলম বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। বনদস্যু কাজের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের আটক করতে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button