স্থানীয় সংবাদ

খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের দাবিতে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে খুকৃবি ছাত্রদলের স্মারকলিপি প্রদান

স্টাফ রিপোর্টর ঃ খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের দাবিতে গত ২৫ জুন (বৃহস্পতিবার) শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন-এর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল। ছাত্রদলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বর্তমান বিশ্বে কৃষি শিক্ষা কেবল শ্রেণিকক্ষভিত্তিক পাঠদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং আধুনিক গবেষণাগার, স্মার্ট ক্লাসরুম, ফার্মভিত্তিক ব্যবহারিক শিক্ষা, প্রযুক্তিনির্ভর গবেষণা, উদ্ভাবন ও মাঠপর্যায়ের সম্প্রসারণ কার্যক্রমের সমন্বয়ে পরিচালিত হয়। কিন্তু স্থায়ী ক্যাম্পাসের অভাবে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যা একুশ শতকের কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সক্ষমতা অর্জনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব গবেষণাগার, গবেষণা খামার, পরীক্ষামূলক ক্ষেত্র, আধুনিক লাইব্রেরি ও আবাসন সুবিধার ঘাটতির কারণে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মানসম্পন্ন গবেষণায় প্রত্যাশিত অবদান রাখতে পারছেন না। ফলে কৃষিক্ষেত্রে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন, জলবায়ু সহনশীল ফসল উন্নয়ন, লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতা মোকাবিলা, উপকূলীয় কৃষির আধুনিকায়ন এবং টেকসই খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থার উন্নয়নে গবেষণার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ছে।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল জলবায়ু পরিবর্তন, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড় ও কৃষিজমির উৎপাদনশীলতা হ্রাসের মতো বহুমাত্রিক সমস্যার সম্মুখীন। এই অঞ্চলের কৃষির গুণগত পরিবর্তন ও আধুনিকায়নের জন্য একটি শক্তিশালী কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা অপরিহার্য। কিন্তু প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও স্থায়ী ক্যাম্পাসের অভাবে বিশ্ববিদ্যালয়টি তার পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারছে না, যার নেতিবাচক প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে কৃষি উন্নয়ন ও মানবসম্পদ সৃষ্টির ওপর পড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ও পূর্ণাঙ্গ স্থায়ী ক্যাম্পাস না থাকায় শিক্ষার্থীরা একটি আদর্শ বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, গবেষণাগার, আবাসন, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সুবিধার অভাব তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা, হতাশা এবং মানসিক চাপ সৃষ্টি করছে। অনেক শিক্ষার্থী মনে করছে যে দেশের অন্যান্য কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তুলনায় তারা প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা থেকে পিছিয়ে রয়েছে, যা তাদের আত্মবিশ্বাস ও শিক্ষার প্রতি আগ্রহকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে। পর্যাপ্ত গবেষণা ও ব্যবহারিক শিক্ষার সুযোগ না থাকায় ভবিষ্যৎ কর্মজীবন এবং পেশাগত দক্ষতা অর্জন নিয়েও তারা উদ্বিগ্ন। একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশের অনুপস্থিতি শিক্ষার্থীদের সামাজিক বিকাশ, নেতৃত্বগুণের চর্চা এবং সৃজনশীল কর্মকা-েও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। ফলে শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক মানসিক সুস্থতা ও শিক্ষার গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এসময় উপস্থিত উপস্থিত ছিলেন মাহদী হাসান সীন, মো.আসিফ হোসেন,নুর মুহাম্মদ,মুশফিকুর রহমান,নাজিউর রহমান নাহিদ,হাদিসুর রহমান,সোহেল রানা,তামজিদ,ইস্তায়াক,জিয়ান,নাঈম সহ প্রমুখ।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button