দৌলতপুর মুহসিন মহিলা কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভায় অতর্কিত হামলা

# বিদ্যোৎসাহী সদস্য মোঃ আমিনুল ইসলাম রক্তাক্ত জখম #
স্টাফ রিপোর্টার : নগরীর দৌলতপুরে মুহসিন মহিলা কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভা রবিবার সকাল সাড়ে ১১ টায় কলেজ সেমিনার রুমে অনুষ্ঠিত হয়। কলেজ সুত্রে জানা যায়, কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভা শেষে সভাপতি সমাপনী বক্তব্য চলাকালীন কলেজের সভাস্থলে বাহির থেকে ১২/১৫ জন লোক সভাস্থলে অনধিকার প্রবেশ করে সভাপতি সহ অন্যান্য সদস্যদের হুমকি ধামকি দেয় এবং মিটিং বন্ধ করার জন্য বলেন।এসময় পরিচালনা পর্ষদের বিদ্যোৎসাহী সদস্য মোঃ আমিনুল ইসলাম এর উপর অতর্কিত হামলা করে রক্তাক্ত জখম করেন। এসময় মহিলা কলেজ প্রাঙ্গনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে।এ বিষয়ে মুহাসিন মহিলা কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি শেখ কামরুজ্জামান বলেন, কলেজ খোলা থাকা সত্ত্বেও অধ্যাপক নওরোজি কবির কলেজে আসেননি। তিনি আমার নিকট থেকে কোন ছুটিও নেন নি। নওরোজী কবির ইন্ধন দিয়ে বহিরাগত লোক এনে কলেজ ক্যাম্পাস বিশৃঙ্খলা ও হট্টগোল সৃষ্টি করেছে। এটি মেয়েদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান,এখানে বহিরাগত পুরুষ মানুষদের এনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ নষ্ট করেছে। যশোর বোর্ড থেকে নিযুক্ত বিদ্যোৎসাহী সদস্য আমিনুল ইসলামের উপরে হামলা করে রক্তাক্ত জখম করা হয়েছে। কলেজের ভিতরে ঢুকে হামলার ঘটনা দৌলতপুর থানা পুলিশ কে জানানো হলে ঘঠনাস্থলে এসে পরিস্থি নিয়ন্ত্রণে আনেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যারা সন্ত্রাসী তান্ডব চালিয়েছে তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার করা হবে। এ বিষয়ে মুহাসিন মহিলা কলেজ হিতৈষী সদস্য মতলুবুর রহমান মিতুল জানান,আমি কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভায় উপস্থিত হয়ে কলেজের বিষয় নিয়ে সভাপতির সাথে কথা বলেছি। আমিনুল ইসলামের উপরে যে হামলা হয়েছে এটি তার গ্রামের পূর্ব শত্রুতা বসত,এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারি না। কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সকল নিয়ম মেনে আমি হিতৈষী সদস্য হয়েছি। মুহাসিন মহিলা কলেজে হামলার বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নওরোজী কবির বলেন,কলেজে রবিবার পরিচালনা পর্ষদের সভা ছিল কিনা আমি জানিনা। আমাকে সভাপতি বলেনি। আমার ব্যক্তিগত কাজে আমি আজকে যেতে পারিনি।তবে ছুটিও নেইনি। সভাপতির সাথে ফোনে কথা বলে ছুটি নিয়ে নেব। কলেজ সুত্রে জানা যায়,কলেজের সহকারী অধ্যাপক নওরোজী কবির বিধি বহির্ভূতভাবে নিজেকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দাবি করে এবং জোর করে অধ্যক্ষের রুমের চাবিসহ অফিসের আলমারির চাবি দখল করে রেখেছেন। এব্যাপারে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়,শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে নওরোজী কবিরকে চিঠি দিয়ে দায়িত্ব ছেড়ে দিতে বললেও তিনি সবকিছু অমান্য করেন।জানা গেছে কলেজের সাবেক বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ মোঃ আব্দুল লতিফ এর দুর্নীতি ঢাকার জন্য তিনি চক্রান্ত করছেন । মোঃ আব্দুল লতিফ এর বিরুদ্ধে কলেজ থেকে টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগে বর্তমানে সিএমএম কোর্টের মামলায় জামিনে রয়েছেন। পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কলেজের উপাধ্যক্ষ মো মাহফুজার রহমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পেলেও সাবেক বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ মোঃ আব্দুল লতিফ নওরোজী কবিরকে চিঠি দিয়ে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেন। এরিপোর্ট লেখাকালীন সময়ে,কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভা চলাকালে বহিরাগতদের অনধিকার প্রবেশ,হামলা,রক্তাক্ত জখম ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় কলেজ পরিচালনা পর্ষদের বিদ্যোৎসাহী সদস্য আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি লিখিন অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানান ভুক্তভোগী।



