ডুমুরিয়ায় এগিয়ে যাচ্ছে বিল ডাকাতিয়াস্থ নিমতলা খালের খনন কাজ

# সম্পন্ন হলে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা দূর হবে ।
# কৃষি ও মাছ চাষে আসবে ব্যাপক সাফালতা, মানুষের মাঝেও ফিরবে প্রাণচাঞ্চল্যতা
ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি ঃ ডুমুরিয়ায় দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বিল ডাকাতিয়ার নিমতলা খাল খনন কাজ। সম্পন্ন হলে বৃহত্তর অঞ্চলের জলাবদ্ধতা হবে অবসান। জনমনে ফিরে আসবে স্বস্তির নিঃশ্বাস। কৃষিকাজ ও মাছ চাষে ঘটবে নতুন বিপ্লব। জানা গেছে, ডাকাতিয়ার বিল। যা খুলনা জেলার মধ্যে বৃহত্তম বিলাঞ্চল। উপজেলার উত্তর ডুমুরিয়াসহ ফুলতলা ও যশোরের মনিরামপুর, কেশবপুর ও অভয়নগরের প্রায় ১২টি ইউনিয়ন জুড়ে ঘেরা এই বিলের পরিধি। বিগত কয়েক বছর ধরে বৃহত্তর এই অঞ্চলে চলতে থাকে জলাবদ্ধতা। ফলে মানুষের জীবনযাত্রা পড়ে অনিশ্চয়তায়। একটু ভারী বর্ষা হলেই ক্ষেতের ফসল, ঘেরের মাছ যায় ভেসে। রাস্তাঘাট ঘরবাড়ি সবই যায় পানিতে ডুবে। চারিদিকে শুধু পানি আর পানি। আর এই সমস্যার মুল কারন ছিল ভরাটি খাল। বিলের একটি খালও স্বাভাবিক ছিল না। জোবা মাটি জমে জমে খালগুলোর হয়েছে এই হাল। কোন রকম ভারী বর্ষা হলেই মানুষের আর ভোগান্তির শেষ থাকে না। বছরের প্রায় ৬ মাস ধরে তাদের করতে হয় মানবেতর জীবন যাপন। যাপিত এই সমস্যা সমাধানে সম্প্রতি বরাদ্দ হয় খাল খনন প্রকল্প। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও ত্রাণ শাখার উদ্যোগে বিগত দুই মাস ধরে চলছে খনন কার্যক্রম। রঘুনাথপুর ইউনিয়নের দেড়–লী-কৃষ্ণনগর নিমতলা স্থান থেকে শুরু করে প্রায় ৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য হবে খালের পরিমাপ। যা শলুয়া বাজারস্থ গেটের সঙ্গে সংযুক্ত করা হচ্ছে। এরই মধ্যে স্কোভেটর মেশিনের কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে চলছে উপকার ভোগী কর্মশৃজন শ্রমিকদের কাজ। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, বর্ষা মৌসুমের আগেই সম্পন্ন হবে খালের খনন কার্যক্রম এবং সরবরাহ হবে বৃষ্টির পানি । ফলে নিরাসন হবে বিল ডাকাতিয়ার জলাবদ্ধতা। বৃষ্টিতে আর ক্ষতিগ্রস্থ হবে না কৃষি ফসল ও মাছের ঘের। রাস্তাঘাট, ঘরবাড়িসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সবই থাকবে স্বাভাবিক অবস্থায়। এ বিষয়ে রঘুনাথপুর ইউপি চেয়ারম্যান মনোজিৎ বালা জানান, বিল ডাকাতিয়ার জলাবদ্ধতা ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ অবস্থায়। বিগত দুই তিন বছর ধরে মানুষের ভোগান্তির শেষ ছিল না। এখানে কে গরীব, কে ধনী, তা বোঝার উপায় ছিল না। সকলের বাড়িতে হাঁটু পানি। সকলের ক্ষেতের ফসল ও মাছের ঘের ডুবে একাকার। রাস্তাঘাট থাকতো তলানো। এমনি পরিস্থিতিতে নির্বাচন পূর্বে এলাকায় পরিদর্শনে এসেছিলেন আমাদের মাননীয় এমপি মহোদয়। তিনি মানুষের কষ্ট আর ভোগান্তি দেখে জলাবদ্ধতা নিরসনে তৎপর হয়ে ওঠেন। এরপর দেন ১কোটি ৩০ লক্ষ টাকার বরাদ্দ। শুরু হয় কাজ। আমি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। এরই মধ্যে শেষ হতে যাচ্ছে স্কোভেটর মেশিনের কাজ। আবার উপকার ভোগী কর্মশৃজন শ্রমিকদের কাজও শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে অল্প দিনের মধ্যেই সম্পন্ন হবে কাযক্রম। খাল খনন নিয়ে কৃষ্ণনগর গ্রামের বাসিন্দা মৃত্যূঞ্জয় মন্ডল, হরশিত রায়, সুজন মন্ডল বলেন – খালটি খনন করায় এই অঞ্চলের মানুষ নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছে। বর্ষায় ডুবে ডুবে মানুষের আর শ্বাস নেই। এবার হয়তঃ আমরা বাঁচতে পারবো। খাল খনন নিয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, বিল ডাকাতিয়া খুলনার মধ্যে বৃহত্তম একটি এরিয়া। উত্তর ডুমুরিয়াসহ ফুলতলা এমনকি যশোর জেলার কেশবপুর মনিরামপুর উপজেলার পানিও এসে জমা হয় এখানে। কিন্তু ছিল না নিস্কাশন ব্যবস্থা। যা সমাধানে এই নিমতলা খাল খনন করা হয়েছে। এ বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা নিবার্হী অফিসার সবিতা সরকার জানান, উত্তর ডুমুরিয়ার প্রধান সমস্যা হল জলাবদ্ধতা। আমি নিজেও অনেক বার ওই এলাকায় গিয়ে দেখেছি মানুষের জীবনযাত্রা কতটা দুর্বিসহ। যাই হোক, এরই মধ্যে খাল খনন করে তা সমাধান হতে যাচ্ছে। আশা করছি, এবারের বর্ষা মৌসুমে কোন ভোগান্তি হবে না। খাল খনন নিয়ে ডুমুরিয়া ও ফুলতলা আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলি আসগার লবি এমপি বলেন, আমার লক্ষ্য একটাই মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা। এলাকার রাস্তাঘাট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা। তবে বিল ডাকাতিয়ার জলাবদ্ধতা নিরসন করা ছিল আমার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। আমি প্রচারণায় গিয়ে দেখেছি মানুষের কষ্ট। আশা করি, মানুষ আর পানি বন্দি থাকবে না। ওখানকার মানুষগুলো আবার তাদের ক্ষেতে ফসল উৎপাদন করবে, ঘেরে মাছ হবে। ছেলেমেয়েরা স্কুলে যাবে। মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই হল আমার একমাত্র লক্ষ্য।



