স্থানীয় সংবাদ

‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি কোটা সংস্কার আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়

জুলাই আন্দোলনের সেই দিনগুলি-৭ ঃ

এম সাইফুল ইসলাম ঃ চব্বিশের ৭ জুলাই রবিবার। বাংলা ব্লকেডে স্থবির খুলনাসহ সারাদেশ। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে সমন্বয় করে খুলনার জিরোপয়েন্ট কেন্দ্রীক আন্দোলণ ঘনিভ’ত হচ্ছে। এদিকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা করা হয় একই দিনে। একই সাথে দেশের শীর্ষ স্থানীয় একটি গণ মাধ্যমে আন্দোলনের মহানায়ক নাহিদ ইসলামের সাক্ষাৎকার ছাপা হয়। সেখানে তুলে ধরা হয় আন্দোলনের বিস্তারিত। শিক্ষার্থীদের দাবি। যার ফলে আন্দোলন নিয়ে তৃনমূল পর্যায়ের ধোয়াশা কেটে যায়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে এই ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি কোটা সংস্কার আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এই দিনটিতে বিক্ষোভ শুধু রাজধানীতেই সীমাবদ্ধ ছিল না, স্ফুলিঙ্গের মতো ছড়িয়ে পরে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে শুরু করে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক-মহাসড়কে। বাংলা ব্লকেডের গ্রহণযোগ্যতা ও শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের এ কর্মসূচির মধ্যে দিয়েই জুলাই বিপ্লব তার পথ খুঁজে পেয়েছিল।
জুলাই সংগঠক সাদিক কাইয়ুম বলেন, ‘জুলাইয়ের শুরু থেকে আমরা বারবার চিন্তা করছিলাম আমরা যে কর্মসূচিগুলো দেবো, সেগুলোতে আমরা শব্দের খেলা খেলার চেষ্টা করবো। আর বিগত সময়ে আন্দোলন সংগ্রাম বারবার ব্যর্থ হওয়ার কারণে অবরোধ-হরতাল লাগাতার দেয়ার কারণে সেগুলো সফলভাবে বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণে সেগুলোর প্রতি মানুষের বিতৃষ্ণা তৈরি হয়েছিল। আমরা আলাপ করছিলাম, মাহফুজের সঙ্গে আমার আলাপ হচ্ছিলো, আসিফের সঙ্গে আমার আলাপ হচ্ছিলো যে কী কর্মসূচি দেয়া যায়, প্রথমে আলাপ হয়েছে অবস্থান কর্মসূচি। আমরা শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি দিবো। তখন দ্বিতীয় লেয়ারে হান্নান মাসউদ, রিফাত রশীদ, মাহিন সরকারসহ বাকিরাও ছিল। হান্নান মাসুদ থেকে আসছে, বলছে- ভাই আমরা অবরোধ না বলে, ব্লকেড বলি। একইসঙ্গে এটা বাংলা ব্লকেড। মূলত এ মাধমেই শাহবাগে ৬ জুলাই থেকে বাংলা ব্লকেড কর্মসূচি শুরু হয়।’

পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি সফল করতে দুপুরের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে খ- খ- মিছিল জড়ো হতে থাকে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে। মিছিল আর স্লোগানে শাহবাগ, নীলক্ষেত, সায়েন্সল্যাব, বাংলামোটর, চাঙার পুলসহ পুরো শহর পরিণত হয় অবরোধের নগরীতে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক রিফাত রশীদ বলেন, ‘ ফার্মগেটটা তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থীরা ব্লকেড করছিল। আমরা যখন মতিঝিলের ওইদিকে যাচ্ছিলাম তখন দেখতাম নটরডেমের শিক্ষার্থীরা অনেক বেশিমাত্রায় নেমে এসেছে। সিটি কলেজ, ঢাকা কলেজ সায়েন্স ল্যাবের এদিকে ছিল। ইডেন কলেজের মেয়েরা নীলক্ষেতের দিকে ছিল। প্রত্যেকে আসলে নিজে নিজের দায়িত্বটা ফিল করছিল।
ব্লকেডের বিস্তার, গ্রহণযোগ্যতা ও শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের স্লোগানের দৃঢ়তা নতুন মাত্রা পায় এর মধ্যে দিয়ে। ফলে বাংলা ব্লকেডের হাত ধরে জুলাই বিপ্লব অনিবার্য হয়ে পড়েছিল।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button