স্থানীয় সংবাদ

খুলনায় এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ, স্মারকলিপি প্রদান

শিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি

স্টাফ রিপোর্টার : সাম্প্রতিক বন্যা ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে চলতি ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিতের দাবিতে নগরীতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা বিক্ষেভ মিছিল ও সমাবেশ এবং জেলা প্রশাসকের কাছে স্বারকলিপি প্রদান করেছে। মঙ্গলবার বিকেলে নগরীর শিববাড়ি মোড়ে বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা এ বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। বিক্ষোভ শেষে তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করে।
এ কর্মসুচিতে খুলনার সরকারি বিএল কলেজ, সিটি কলেজ, খুলনা কলেজ, হাজি মুহসীন কলেজ, আহছানউল্লাহ কলেজ, নৌ বাহিনী কলেজ, দৌলতপুর দিবা-নৈশ কলেজ, হাজি আব্দুল মালেক কলেজ, খালিশপুর সরকারি হাজী মুহাম্মদ মুহসিন কলেজসহ বিভিন্ন কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা অংশ নেন। এ সময় পরীক্ষার্থীরা স্লোগান দিতে থাকে ,”দফা এক দাবি এক শিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগ, পরীক্ষা পিছাতে হবে “ইত্যাদি।
পরীক্ষার্থীরা বলেন, সারাদেশে বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারনে অনেক মানুষ মারা গেছে। একজন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। বিভিন্ন এলাকায় পরীক্ষা কেন্দ্রে যেতে রাস্তায় কোমর সমান পানির মধ্যে ভিজে ও আহত হয়ে বেগ পোহাতে হচ্ছে। তাছাড়া প্রশ্নপত্র কমন হয়নি, পদার্থ বিজ্ঞান পরীক্ষার আগে একদিন ছুটি বেমানান,পুরা বই পড়ে রিভাইস দেয়ার সময়ে সঙ্কুলান হয়না। তাই আমরা সরকারের নিকট দাবি রাখছি পরীক্ষা স্থগিত করে পরবর্তীতে নেয়া হোক। সমাবেশ শেষে পরীক্ষার্থীরা বিকেল ৪টার দিকে শিববাড়ি থেকে মিছিল নিয়ে খান এ সবুর রোড হয়ে জেলা প্রশাসকের দপ্তরের দিকে অগ্রসর হয়। সেখানে পরীক্ষার্থীরা তাদের দাবির কথা তুলে ধরে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণে জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। অনেক এলাকায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পরীক্ষাকেন্দ্র পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ফলে বহু শিক্ষার্থীর পক্ষে নিরাপদে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, অনেক পরিবারের বসতবাড়ি, শিক্ষা-উপকরণ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিকভাবে প্রস্তুত হয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা অত্যন্ত কঠিন। তাই দেশের সব পরীক্ষার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত রেখে পরে নতুন সময়সূচি ঘোষণা করার দাবি জানানো হয়।
শিক্ষার্থীরা বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, ন্যায্য সুযোগ এবং সুষ্ঠু পরীক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করতে আন্তরিক ভূমিকা রাখবে বলে তারা প্রত্যাশা করেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button