খুলনায় মসজিদে ঢুকে গুলির ঘটনায় লিটনকে আদালতে প্রেরণ

# পুলিশের ফোন রেকর্ড ফাসের জেরে ফাঁসানো হয়েছে তাকে দাবী স্ত্রীর
# অস্বীকার পুলিশের #
স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনার দৌলতপুর থানার আলোচিত মসজিদে ঢুকে গুলির ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া লিটন ওরফে আজা লিটনকে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। এদিকে গ্রেপ্তারকে ঘিরে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের দাবি, মামলায় লিটনের সম্পৃক্ততার ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তার স্ত্রী রেহেনা পারভীনের অভিযোগ, এসআই পলাশের একটি ফাঁস হওয়া ফোন রেকর্ডের ঘটনার জেরেই তার স্বামীকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। আদালতে দাখিল করা তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জাকিরুল ফিরোজের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৪ জুন দৌলতপুর থানার একটি মসজিদের ভেতরে গুলির ঘটনায় লোকমানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় একজন গুলিবিদ্ধ হন। মামলার তদন্তে লিটনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে আরও উল্লেখ করেন, আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার, অস্ত্র উদ্ধার এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
অন্যদিকে লিটনের স্ত্রী রেহেনা পারভীন দাবি করেন, তার স্বামীকে পূর্ব শত্রুতার জেরে আটক করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের পরিবারের সঙ্গে লোকমানের কোনো পরিচয় বা বিরোধ নেই। আমার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে।
রেহেনা আরও অভিযোগ করেন, এর আগে খালিশপুর থানার এসআই পলাশের সঙ্গে আমাদের একটি ঘটনার অডিও ফোন রেকর্ড প্রকাশ পেয়েছিল। সেই ঘটনার পর থেকেই আমাদের পরিবারকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। বর্তমান মামলাটিও ওই ঘটনার ধারাবাহিকতার অংশ বলে আমাদের সন্দেহ। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জাকিরুল ফিরোজ ও এসআই পলাশ একই ব্যাচের কর্মকর্তা।
তবে এ অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুরাদুল ইসলাম। তিনি বলেন, “মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। যাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে তদন্তে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। এসআই পলাশের ফাঁস হওয়া ফোন রেকর্ডের সঙ্গে এই মামলার কোনো সম্পর্ক নেই। অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন।
এদিকে এসআই পলাশের কথিত ফাঁস হওয়া ফোন রেকর্ড নিয়ে এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হলেও, সেই রেকর্ডের সত্যতা বা এ বিষয়ে কোনো বিভাগীয় তদন্তের ফলাফল প্রকাশ্যে আসেনি। একইভাবে, রেহেনা পারভীনের অভিযোগের পক্ষেও এখন পর্যন্ত স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।


