স্থানীয় সংবাদ

নগরীতে চার সাংবাদিককে লক্ষ্য করে গুলি : লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় রক্ষা

প্রতিবাদ-বিক্ষোভে রাজপথে সাংবাদিকরা
এমইউজে’র প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন
খুলনা প্রেসক্লাবের নিন্দা ও প্রতিবাদ

স্টাফ রিপোর্টার : নগরীতে চারজন সাংবাদিককে লক্ষ্য করে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। তবে, তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় রক্ষা পেয়েছেন তারা। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাত সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর জাতিসংঘ শিশুপার্কের পশ্চিম পাশে জলিলের দোকানের সামনে ঘটনা ঘটে।
এদিকে, প্রকাশ্যে সাংবাদিকদের ওপর এমন ন্যক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন খুলনার বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন। জড়িত দুর্বৃত্তদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা। এ ঘটনার প্রতিবাদে মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনার উদ্যোগে বুধবার বেলা ১২টায় খুলনা প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ২২ টারদিকে নগরীর জাতিসংঘ পার্ক সংলগ্ন জলিলের দোকানের পাশে বসে কয়েকজন সাংবাদিক গল্প করছিলেন। এ সময় একটি মোটরসাইকেল যোগে আসা দু’জন যুবক তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। একটি গুলি একটি চেয়ারে বিদ্ধ হয়। গুলি ছুড়ে মেরেই দুর্বৃত্তরা দ্রুত মোটরসাইকেলযোগে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। গুলির শব্দে চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং উপস্থিত সাংবাদিকরা আত্মরক্ষার্থে নিরাপদে সরে যান।
ঘটনাস্থলে থাকা এসএ টিভির খুলনা প্রতিনিধি রকিবুল ইসলাম মতি জানান, “আমরা প্রতিদিনের মতো কয়েকজন সহকর্মী মিলে সেখানে আড্ডা দিচ্ছিলাম। হঠাৎ করেই মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি আমাদের ওপর হামলা চালায় এবং এক রাউন্ড গুলি ছোড়ে।” এই ঘটনায় পাশেই থাকা সাংবাদিক আওয়াল আহত হলে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ঘটনাস্থলে থাকা দৈনিক খুলনাঞ্চলের সিনিয়র রিপোর্টার সৈয়দ রানা কবির বলেন, দুর্বৃত্তের ছোড়া গুলিটি চেয়ারে বিদ্ধ হয়। এর একটি স্প্রিন্টার সাংবাদিক আওয়ালের বুকে লেগে কিছু অংশ ছিলে যায়। তবে, তিনি সুস্থ আছেন।
খবর পেয়ে রাতেই স্থানীয় থানা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
খুলনা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল থেকে ফায়ারকৃত বুলেটের অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে, কি কারণে গুলির ঘটনা ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অপরদিকে মঙ্গলবার রাতে নগরীর নূরনগর মোড়ের বিশ্বাস পাড়ায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। রাত ১১টায় নাগাদ এঘটনা ঘটে। তিনটা ককটেল ছুড়ে দ্রুত পালিয়ে যায় দুষ্কৃতকারীরা। দুইটা বিস্ফোরিত হলেও একটি ককটেল অবিস্ফারিত থেকে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
এমইউজে’র প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন : এদিকে, এমইউজে খুলনার কোষাধ্যক্ষ ও এসএ টিভির খুলনা বিভাগীয় প্রধান রকিবুল ইসলাম মতিসহ চার সাংবাদিককে লক্ষ্য করে দুর্বৃত্ত্বদের গুলিবর্ষণের প্রতিবাদ ও হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুর ১২টায় খুলনা প্রেসক্লাবের সামনে মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন (এমইউজে) খুলনার উদ্যোগে এ প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) চেয়ারম্যান ও মহানগর বিএনপির সভাপতি এডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার ন্যক্কারজনক ঘটনায় গভীর উদ্বেগ এবং তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সাংবাদিকদের উপর এ ধরনের হামলা সংবাদপত্রের স্ব্ধাীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি স্বরূপ। যারা এই হামলার সঙ্গে জড়িত, তারা আইনের শাসন ও বাকস্বাধীনতার শত্রু। সাংবাদিকরা যদি নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত থাকেন, তবে তা মুক্ত সাংবাদিকতার পথকে সংকুচিত করে দেয়।
হুমায়ুন কবীর বালু, মানিক চন্দ্র সাহা, শেখ বেলাল উদ্দিন ও হারুন অর রশীদ খোকনসহ তিনি খুলনায় নিহত সকল সাংবাদিক হত্যাকান্ডের বিচার দাবি করে বলেন, বিগত দিনে এ সব হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু বিচার হলে সন্ত্রাসীরা আজ এমন ন্যাক্কারজনক হামলা করার সাহস পেত না।
তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদ ও তার দোসররা সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলার জন্য একের পর এক ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। তার অংশ হিসেবে খুলনায় সাংবাদিক মতি, টুটুল, আওয়াল ও রানা কবীরের উপর হামলা করেছে। তিনি অবিলম্বে হামলার সাথে জড়িত দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে এবং তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে, খুলনা মহানগরীতে কর্মরত সকল সাংবাদিকের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
এমইউজে খুলনার সভাপতি মো. রাশিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক রানা এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম নূরের পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) পরিচালক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজের সহকারী মহাসচিব এহতেশামুল হক শাওন ও খুলনা সংবাদ পত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিল্টন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন এমইউজে খুলনার সহ-সভাপতি মো. নূরুজ্জামান, নির্বাহী সদস্য মো. এরশাদ আলী ও কে এম জিয়াউস সাদাত, সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক ও খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সদস্য সচিব রফিউল ইসলাম টুটুল, বিএফইউজে-বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের নির্বাহী সদস্য কৌশিক দে, এমইউজে খুলনার সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসান হিমালয়, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন খুলনা জেলা শাখার সভাপতি এম এ হাসান, সাংবাদিক নেতা কাজী শামীম আহমেদ, কনক রহমান, আহমদ মুসা রঞ্জু, মাকসুদ আলী, সোহেল মাহমুদ, আনোয়ারুল ইসলাম কাজল, কামরুল আহসান, নিয়ামুল হোসেন কচি, শেখ আল এহসান, নূর ইসলাম রকি, এম এ জলিল, শাহজালাল মিলন, প্রবীর বিশ^াস, সৈয়দ রানা কবীর, সাদ্দাম হোসেন, মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক শফিকুল ইসলাম হোসেন, সোনাডাঙ্গা থানা বিএনপির সভাপতি হাফিজুর রহমান মনি, মহানগর বিএনপির দপ্তর সম্পাদক শরিফুল ইসলাম টিপু, খুলনা সদর থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন, খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব এডভোকেট বাবুল হাওলাদার, বিএনপি নেতা মুজিবুর রহমান, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা ইশতিয়াক আহমেদ ইস্তি, জাকির ইকবাল বাপ্পী, সজীব তালুকদার, আফসার উদ্দিন মাস্টার প্রমুখ। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
কেএমপি কমিশনারের সঙ্গে এমইউজে খুলনার নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় : এদিকে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান বলেছেন, চার সাংবাদিককে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনাকে অধিকতর গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে কেএমপি। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। ঘটনাস্থলের আশেপাশের সিসি ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের চিহিৃত করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কেএমপির জিরো টলারেন্স অব্যাহত রয়েছে। অচিরেই হামলাকারীদের গ্রেফতার করতে তিনি সাংবাদিকদের সহযোগীতা কামনা করেন। বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুর ১টায় খুলনা প্রেসক্লাবের মেম্মর লাউঞ্জে মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন (এমইউজে) খুলনার নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ সব কথা বলেন তিনি।
এ সময় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজের সহকারী মহাসচিব এহতেশামুল হক শাওন, খুলনা সংবাদপত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিল্টন, খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সদস্য সচিব রফিউল ইসলাম টুটুল, এমইউজে খুলনার সভাপতি মো. রাশিদুল ইসলাম, সহ-সভাপতি মো. নূরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক রানা, সহ-সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম নূর, নির্বাহী সদস্য মো. এরশাদ আলী ও কে এম জিয়াউস সাদাত, এমইউজে খুলনার সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসান হিমালয় প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া কেএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় খুলনা প্রেসক্লাবের নিন্দা ও প্রতিবাদ : নগরীর শান্তিধাম জাতিসংঘ পার্কের পশ্চিম পাশে বসে থাকা অবস্থায় সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তদের গুলিবর্ষণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন খুলনা প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ। খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সদস্য সচিব ও স্টার নিউজের খুলনা ব্যুরো প্রধান রাফিউল ইসলাম টুটুল, প্রেসক্লাবের স্থায়ী সদস্য ও এস এ টিভির খুলনা প্রতিনিধি রকিবুল ইসলাম মতি এবং ক্লাবের অস্থায়ী সদস্য ও দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকার খুলনা ব্যুরো প্রধান আওয়াল শেখসহ বসে থাকা সাংবাদিকদের উপর মঙ্গলবার রাতে গুলি চালায় সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় সাংবাদিক অওয়াল আহত হয়েছেন।
সাংবাদিকদের উপর গুলি করার ঘটনার সঙ্গে জড়িদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অপরাধীরা যেন পার পাওয়ার সুযোগ না পায়। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের নিরাপদ ও নির্ভয় পরিবেশে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সুযোগ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিও আহ্বান জানায় নেতৃবৃন্দ।
বিবৃতিদাতারা হলেন, খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোস্তফা সরোয়ার, সহ-সভাপতি সোহরাব হোসেন, মো. জাহিদুল ইসলাম ও কাজী শামীম আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মোঃ তরিকুল ইসলাম, যুগ্ম-সম্পাদক মো. বেল্লাল হোসেন সজল, কোষাধ্যক্ষ বিমল সাহা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতিক সম্পাদক মোহাম্মদ মিলন, পাঠাগার, প্রকাশনা ও তথ্য প্রযুক্তি সম্পাদক বশির হোসেন, কার্যনির্বাহী সদস্য মোঃ মাকসুদুর রহমান (মাকসুদ), কাজী মোতাহার রহমান, মহেন্দ্রনাথ সেন, সোহেল মাহমুদ. মো. আনিস উদ্দিন, কে এম জিয়াউস সাদাত, আশরাফ-উল-হক ও মোহাম্মদ আলী।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাত সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর জাতিসংঘ শিশুপার্কের পশ্চিম পাশে জলিলের দোকানের সামনে বসে কয়েকজন সাংবাদিক গল্প করছিলেন। এ সময় একটি মোটরসাইকেল যোগে আসা দু’জন যুবক তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। একটি গুলি একটি চেয়ারে বিদ্ধ হয়। গুলি ছুড়ে মেরেই দুর্বৃত্তরা দ্রুত মোটরসাইকেলযোগে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এ ঘটনায় সাংবাদিক আওয়াল সামান্য আহত হলে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button