স্থানীয় সংবাদ

যশোরে রাত হলে এসি’র তামার তার চুরি এখন নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার !

মোঃ মোকাদ্দেছুর রহমান রকি যশোর থেকে
যশোর শহর ও শহরতলী এলাকায় এসি’র তামার তার চুরির হিড়িক পড়ে গেছে। সংঘবদ্ধ চোরেরা প্রতিরাতে টার্গেট করে শতশত এসি’র তার চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। রাত হলে যশোর অঞ্চলের বাসা বাড়ির লোকজন চোর আতংকে রাত অতিবাহিত করছে। যশোর সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ও শহরের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, গত তিন মাসে কমপক্ষে কয়েকশ’ এসি’র তামার তার চুরির ঘটনা ঘটেছে। এসব চুরির ঘটনায় কোতয়ালি থানায় অভিযোগ করা হলেও পুলিশ তামার তার উদ্ধার কিংবা চোর সনাক্ত করতে সম্পূর্ন ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। যার ফলে এখন এসি’র তামার চুরি আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে,মাদক বেচাকেনা বন্ধ না করা হলে ছোটখাটো চুরির ঘটনা বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছেনা এমন মন্তব্য করেছেন,নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা। তাছাড়া,মব সৃষ্টি বন্ধ না করা গেলে এধরনের ছোটখাটো চুরি ঘটনা নিত্য নৈতিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে। সম্প্রতি যশোর জেলার সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রাম ও শহর এবং শহরতলীতে এসি’র তামার তার চুরি আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। রাত হলেও শোনা যাচ্ছে কোন না কোন বাড়ির এসি’র তামার তার চুরির ঘটনা ঘটছে। গভীর রাত ১টা থেকে ভোর রাত ৪টার মধ্যে এসব এসি’র তামার চুরির ঘটনা ঘটছে। চোরেরা এসি’র তার চুরির ক্ষেত্রে পুলিশ ও আনসার কিংবা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাউকে তোয়াক্কা করছেন না বলে মনে হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে,মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডে যশোরের মধ্যে ৬তলা ভবনের ২য় তলায় অবস্থিত সোনালী ব্যাংকের এজিএম মহোদয়ের কক্ষে লাগানো এসি’র তামার তার কুরবানীর ঈদের ছুটির মধ্যে চুরি হয়ে গেছে। অথচ বোর্ডে প্রতিনিয়ত প্রধান ফটক থেকে শুরু করে বোর্ডের বিভিন্ন পয়েন্টে ২০ জনের আনসার বাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্য রয়েছে। আনসার বাহিনীর ব্যারাক থেকে বোর্ডে অবস্থিত সোনালী ব্যাংকের দূরত্ব মাত্র কয়েকগজ দূরে। তাছাড়া,বোর্ডে সংরক্ষিত এলাকা। দিনে ও রাতে আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করে থাকেন। ব্যাংকের এজিএম মোস্তাফিজ চুরির বিষয়টি অভিযোগ করে বলেন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি সংরক্ষিত এলাকার ২য় তলায় অবস্থিত এসি’র তামার তার চুরি ব্যাংকের সকলকে হতবাক করেছে।অপরদিকে,যশোর সদর উপজেলার নতুন উপশহর ই ব্লকে গত দেড় মাসে প্রায় ৫০টি এসি’র তামার তার চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত সপ্তাহে উপশহর ই-ব্লক সংলগ্ন ১ নম্বর বাড়ির পাশে মৃত মিজানুর রহমানের ৩তলা ভবনের উপর থাকা এসি’র তামার তার সংঘবদ্ধ চোরেরা চুরি করে নিয়ে যায়। রাত হলে ওই এলাকায় যারা বসবাস করছেন তারা চোর আতংকে রাত অতিবাহিত করছেন। প্রতিনিয়ত এসি’র তার চুরি যে ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে থানা,ক্যাম্প ও ফাঁড়ি পুলিশে কর্মরত কর্মকর্তা ও সদস্য আছে কিনা এমন সন্দিহান প্রকাশ করেছেন অনেকে। পুলিশ থাকলেও বন্ধ হচ্ছেনা সম্প্রতি এসি’র তামার চুরির ঘটনা। এ ব্যাপারে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন যশোর অঞ্চলের ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সকল পেশার মানুষেরা।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button