খুলনা বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় ৬৭ জনের হাম শনাক্ত : সর্বোচ্চ কুষ্টিয়ায় ১৫

স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনা বিভাগে হাম সংক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের ১০ জেলায় ৬৭ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। তবে এ সময়ে হামে আক্রান্ত কোনো রোগী হাসপাতালে ভর্তি হননি এবং নিশ্চিত বা সন্দেহজনক হামে কোনো মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেনি।
শনিবার (১৯ জুলাই) সকাল ৮টা পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় কুষ্টিয়ায় সর্বোচ্চ ১৫ জন, খুলনায় ১৪ জন, ঝিনাইদহে ১১ জন, মাগুরায় ৯ জন, যশোরে ৮ জন, চুয়াডাঙ্গায় ৬ জন, মেহেরপুরে ২ জন এবং নড়াইলে ২ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। অন্যদিকে বাগেরহাট ও সাতক্ষীরায় নতুন করে কোনো নিশ্চিত রোগী পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ১৫ মার্চ থেকে ১৯ জুলাই সকাল ৮টা পর্যন্ত খুলনা বিভাগে মোট ৮,০৯৬ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ২৮৫ জনের শরীরে হাম সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে।
জেলাভিত্তিক মোট সন্দেহজনক ও নিশ্চিত রোগীর মধ্যে কুষ্টিয়ায় ২,১০৬ জন সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৩ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। খুলনায় ১,২৪৬ জন সন্দেহজনক রোগীর সবাইকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং ৪৪ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। মাগুরায় ১,১৩৫ জন সন্দেহজনক রোগীর মধ্যে ২৩ জন, যশোরে ৮১৮ জনের মধ্যে ৫৮ জন, ঝিনাইদহে ৬৭৪ জনের মধ্যে ১৭ জন, মেহেরপুরে ৫৩৫ জনের মধ্যে ১০ জন, নড়াইলে ৪৯২ জনের মধ্যে ৬৩ জন, চুয়াডাঙ্গায় ৪৬২ জনের মধ্যে কোনো নতুন নিশ্চিত রোগী নেই, বাগেরহাটে ৪১৫ জনের মধ্যে ৫১ জন এবং সাতক্ষীরায় ২১৩ জনের মধ্যে ১৬ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত বিভাগে সন্দেহজনক হামে ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে খুলনায় ১৫ জন, কুষ্টিয়ায় ১৩ জন, ঝিনাইদহে ২ জন, মেহেরপুরে ১ জন এবং চুয়াডাঙ্গায় ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। তাই জ্বর, শরীরে লালচে র্যাশ, কাশি, সর্দি বা চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে। পাশাপাশি শিশুদের নির্ধারিত সময়ে এমআর টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।



