রোগ নির্ণয়ে মেয়াদউত্তীর্ণ রি-এজেন্টের ব্যবহার, নেই স্বাস্থ্য বিভাগের তদারকি

# জরিমানা দিয়েই মুক্তি, নেই ফলোআপ
# প্রতিটা হাসপাতালের প্যাথলজি তদারকির আওতায় আনার দাবি নাগরিক নেতাদের
# বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মেয়াদউত্তীর্ণ রি-এজেন্ট ব্যবহারে ভুল রোগ নির্নয়ে রোগির মৃত্যু ঝুঁকি রয়েছে
# সাত মাসে ২০ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
কামাল মোস্তফা : অসুস্থ হলে মানুষ ছুটে যায় ডাক্তারের কাছে। ডাক্তার রোগির রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা দেন। রোগির চিকিৎসা নির্ভর করে রোগ নির্ণয়ের ওপর। রোগ নির্নয় ভুল হলে মারাত্বক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারেন রোগিরা। জেলা ভোক্তা অধিকারের নিয়মিত অভিযানগুলো থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত খুলনা মহানগরীতে অবস্থিত ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকে ভোক্তা অধিকারের অভিযানে ২০ টি প্রতিষ্টানে এসব মেয়াদউত্তীর্ণ রি-এজেন্ট পাওয়া যায়। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৫ লক্ষ ৮৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। মেয়াদউত্তীর্ণ রি-এজেন্ট পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো-ড্যাপস হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, এস এ ডায়াগনস্টিক এন্ড থাইরয়েড সেন্টার, ড্যাপস ডায়াগনস্টিক, সন্ধানী মেডিকেল কেয়ার এন্ড হসপিটাল, পরিচর্যা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, কমিউনিটি কেয়ার হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, আনোয়ারা মেমোরিয়াল হাসপাতাল, নার্গিস মেমোরিয়াল হাসপাতাল, সাউথ সিটি (প্রাঃ) হাসপাতাল, সুগন্ধা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বিশ্বাস ইনভেস্টিগেশন সেন্টার এন্ড ক্লিনিক, মা ডায়াগনস্টিক এন্ড কনসালটেশন সেন্টার, ইনসাফ হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক, সেইন্টমার্টিনস ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ব্রাইট ডায়াগনস্টিক সেন্টার, সানরাইজ ডায়াগনস্টিক এন্ড কনসালটেশন সেন্টার, একতা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, রহিমা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টি, মহানগর ডায়াগনস্টিক, কমিউনিটি কেয়ার হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক, ইনসাফ হাসপাতাল এবং ন্যাশনাল হাসপাতাল। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ডাঃ মোঃ নেওয়াজ নওশের বলেন, রোগির চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন রোগ নির্নয়ের। রোগির কি রোগ হয়েছে তা সঠিকভাবে নির্নয় করা না গেলে তার চিকিৎসা সম্ভব নয়। টেস্টের মাধ্যমে রোগির রোগ ধরা পড়বে। মেয়াদউত্তীর্ণ রি-এজেন্ট ব্যবহারের ফলে রোগির যে রোগ নেই সেই সেই রোগ শনাক্ত হতে পারে। আবার যে রোগ আছে সে রোগ শনাক্ত না হতে পারে। ফলে এটা রোগির জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। এমতাবস্থায় যে রোগ নেই ডাক্তার রিপোর্ট অনুযায়ী সেই রোগের চিকিৎসা দিয়ে দিতে পারেন, আবার যে রোগ আছে সে রোগের চিকিৎসা হচ্ছেনা। এজন্য মেয়াদউত্তীর্ণ রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ফলে ক্ষতিটা পুরোপুরি রোগির হয়। খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব এ্যাডঃ মোঃ বাবুল হাওলাদার বলেন, সুস্থ থাকার প্রয়োজনে মানুষকে হাসপাতালের শরনাপন্ন হতে হয়। আর সেখানেই যদি তাদের অনিয়মের কারণে রোগির জীবন বিপন্ন হয়, তাহলে মানুষ কোথায় যাবে! দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর আস্থা হারিয়ে মানুষ পাশ্ববর্তী দেশে চলে যাচ্ছে চিকিৎসার জন্য। এ বিষয়গুলো দেখার জন্য জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে টাস্কফোর্স সহ স্বাস্থ্য বিভাগ রয়েছে। কিন্তু তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছে না।এ ধরণের অনিয়ম ধরা পড়লে সেসব প্রতিষ্ঠানকে সিলগালা বা লাইসেন্স বাতিল করা উচিত। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে তদারকির আওতায় আনা বাড়ানো দরকার। খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডাঃ শেখ মোঃ মোশারফ হোসেন বলেন, আমি কিছুদিন হলো যোগদান করেছি। এখনো সব বিষয় গুছিয়ে উঠতে পারিনি। তবে মাস খানেকের মধ্যে আমরা বেসরকারি ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিকগুলোতে তদারকি বাড়াবো। কোন ধরণের অনিয়ম পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।



