স্থানীয় সংবাদ

খুলনার আলোচিত ব্যাংক কর্মকর্তাা ও তার বাবা হত্যা-ধর্ষণ মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শুরু

# এক যুগ ধরে ন্যায় বিচারের অপেক্ষায় পরিবার #

স্টাফ রিপোর্টারঃ এক যুগ ছুঁইছুঁই সময়। তবুও শেষ হয়নি বিচারপ্রক্রিয়া। ১১ বছর ধরে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় প্রহর গুনছে একটি পরিবার, আর সেই সঙ্গে পুরো খুলনাবাসী। বহুল আলোচিত এক্সিম ব্যাংকের কর্মকর্তা পারভীন সুলতানা ও তাঁর বাবা ইলিয়াস চৌধুরী হত্যা ও ধর্ষণ মামলার ডেথ রেফারেন্স এবং আসামিদের আপিল শুনানি শুরু হয়েছে গত বৃহস্পতিবার থেকে । হাইকোর্টের ২৯ নম্বর বিশেষ বেঞ্চে অনুষ্ঠিত হয়। এ তথ্য নিশ্চিত করেন মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা খুলনার সমন্বয়কারী এড, মোমিনুল ইসলাম বলেন, গতকালও শুনানী হয়।
মামলাটি দ্রুত শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত হওয়ায় অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাড. রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা। ২০১৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে খুলনা নগরীর লবণচরা থানার বুড়ো মৌলভী (রহ.) দরগাপাড়া এলাকার ‘ঢাকাইয়া হাউস’-এ সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয় এক্সিম ব্যাংকের কালীবাড়ি শাখার ক্যাশ কর্মকর্তা পারভীন সুলতানা ও তাঁর বাবা ইলিয়াস চৌধুরীকে। হত্যার পর মরদেহ দুটি সেপটিক ট্যাংকে ফেলে গুমের চেষ্টা চালানো হয়। সেই বিভীষিকাময় ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। ঘটনার পর নিহত ইলিয়াস চৌধুরীর ছেলে ও পারভীনের একমাত্র ভাই রেজাউল আলম চৌধুরী বিপ্লব লবণচরা থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন হয়। পরে খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩-এর বিচারক (বর্তমানে মহানগর দায়রা জজ) মোহা. মহিদুজ্জামান পাঁচ আসামিকে হত্যা মামলায় মৃত্যুদ- ও ১০ হাজার টাকা করে অর্থদ- এবং ধর্ষণ মামলায়ও সকলকে মৃত্যুদ- ও এক লাখ টাকা করে জরিমানা করেন। দ-প্রাপ্ত পাঁচ আসামি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা শুরু থেকেই বিচারিক আদালত ও হাইকোর্টে বাদী পক্ষকে আইনগত সহায়তা দিয়ে আসছে। বর্তমানে মামলাটি ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলসহ হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। দীর্ঘ ১১ বছর পরও বিচারপ্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় নিহত পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা উচ্চ আদালতে দ্রুত ও ন্যায়সংগতভাবে মামলার নিষ্পত্তি হবে। পারভীন সুলতানা ও তাঁর বাবার হত্যাকা-ের বিচার সম্পন্নের মধ্য দিয়ে আইনের শাসনের প্রতি মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে এমন প্রত্যাশাই এখন সবার।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button