স্থানীয় সংবাদ

বৃষ্টিতে হলে নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়

# নেই নিরপদ আশ্রয়
# পলিথিনের ঝুঁপড়িতে ঝুঁকি নিয়ে প্রতিবন্ধী মা-মেয়ের বসবাস

রিয়াছাদ আলী কয়রা (খুলনা) ঃ বাংলাদেশের সর্ব দক্ষনের জনপদ খুলনার কয়রা উপজেলার এক অসহায় প্রতিবন্ধী মা ও মেয়ে মানবিক বির্পযয়ের মধ্যে দিয়ে বসবাস করে আসছে। তাদের বসত ঘরখানা একটি পলিথিনে মোড়ানো জরাজীর্ণ ঝুপড়ি ঘর। দূর থেকে দেখলে এটিকে মানুষের বাসস্থান বলে চেনার উপায় নেই। সামান্য বৃষ্টি হলে ঘরের ভেতরে পানি পড়ে, আর তীব্র রোদে অসহনীয় গরমে থাকতে হয়। বছরের পর বছর মানবেতর পরিবেশে বসবাস করলেও এখনো কোনো স্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা হয়নি তাদের। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের চোরামুখা খেয়াঘাটের পাশে কপোতাক্ষ নদের কোল ঘেঁষে তাদের বসবাস। এই অভাগী মায়ের নাম মোছিনা (৫৬) এবং তার মেয়ের নাম মিনারা (৩১)। মা মোছিনা বেগম মানসিক প্রতিবন্ধী এবং মেয়ে মিনারা শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার। দুই প্রতিবন্ধী মানুষের এই সংসারে আজ দীর্ঘ বছর ধরে উপার্জনের কোনো মানুষ নেই। মিনারা যখন মায়ের গর্ভে, ঠিক তখনই তাদের এই অসহায়ত্বের সাগরে ভাসিয়ে দিয়ে চিরতরে ফেলে চলে যান মোছিনার স্বামী। সেই থেকে শুরু হয় মা ও মেয়ের বেঁচে থাকার এক নির্মম যুদ্ধ। বৃষ্টি নামলেই বসে থাকতে হয় সব আসবাবপত্র একত্রে করে। এক কলস আর থালা-বাটিই যেন তাদের সম্বল। মা ও মেয়ে দুজনই শারীরিক প্রতিবন্ধী। শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে নিয়মিত কাজ করতে পারেন না। ফলে তাদের জীবিকা নির্বাহ অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে। প্রতিবেশীদের সহযোগিতা এবং মাঝে মধ্যে সরকারি ভাতার টাকায় কোনোভাবে দিন কাটে তাদের। সরেজমিনে দেখা যায়, ঝুঁপড়ি ঘরের কাঠামোর চারপাশে দেয়াল হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে শতছিন্ন রঙিন কাপড় ও প্লাস্টিকের চটের বস্তা, যা দারিদ্র্যের চরম সীমাকে নির্দেশ করে। ঘরটির চাল বলতে আছে কেবল কিছু পলিথিন, যা সামান্য বাতাসেই ওড়ার উপক্রম হয়। বর্ষার রাতে যখন আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামে, তখন ফুটো চালা গলে গলে পানি পড়ে ঘরের ভেতর কাদা জমে যায়। প্লাবিত এই ঝুপড়িতে মা-মেয়ের বসার কিংবা ঘুমোনোর মতো ন্যূনতম শুকনো জায়গাটুকুও অবশিষ্ট থাকে না। সারারাত ভিজেই পার করতে হয় তাদের। জানালা দরজাহীন এমন একটি ঝুপড়ি ঘরে ৩১ বছর বয়সী তরুনিকে নিয়ে একটি কালো পর্দায় যেন তাদের দরজা। মোছিনা বেগমে প্রতিবেশীরা বলেন, তার নামে একটি সরকারি বিধবা ভাতার কার্ড থাকলেও বর্তমান নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে সেই সামান্য টাকায় মা-মেয়ের তিন বেলার আহার তো দূরের কথা, কয়েকদিনের চাল-ডাল কেনাই অসম্ভব হয়ে পড়ে। আরও বলেন, তারা খুব কষ্টে আছে। বৃষ্টি হলে সারারাত জেগে থাকতে হয়। তাদের থাকার মতো একটা ঘর করে দিলে বাকি জীবনটা একটু শান্তিতে কাটাতে পারবে মা-মেয়ে । স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন , মোহছেনা বেগমের থাকার মত কোন ভিটেবাড়ি নাই। প্রতিবন্ধি মা মেয়ে বাধ্য হয়ে বেঁড়িবাধের পাশে পলিথিনে মোড়ানো ঝুঁপড়িতে থাকে। বহুবার বিষয়টি স্থানীয় জন প্রতিনিধিদের নজরে আনা হলেও এখনো স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা হয়নি। তাদের দ্রুত একটি নিরাপদ ঘর নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সামাজিক সংগঠন গুলোকে এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি। দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান ওসমান গনি বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। এই অসহায় প্রতিবন্ধী মা ও মেয়ের টেকসই আবাসনের জন্য সরকারি ‘আশ্রয়ণ প্রকল্প’ বা প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরের ব্যবস্থা করতে আমরা উপজেলা প্রশাসনের সাথে কথা বলে দ্রুত অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে । কয়রা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আব্দুল্লাহ আল বাকী বলেন, বিষয়টি জানা ছিলনা, আপনাদের মাধ্যমে জেনেছি। হতদরিদ্র এই পরিবারটির পূনর্বাসনের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button