জাতীয় সংবাদ

দিল্লিতে ককরোচ পার্টি-পুলিশ সংঘর্ষ : ১১৮ পুলিশ আহত, গ্রেপ্তার ৭০

বিক্ষোভ থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক
মোদির বাসভবন অভিমুখে কংগ্রেসের পদযাত্রা

প্রবাহ ডেস্ক : ভারতের প্রধানমন্ত্র নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে বিক্ষোভরত রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও অখিলেশ যাদবকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় তাদের আটক করা হয়।
এর আগে, ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকে সাড়া দিয়ে ভারতের সংসদ অভিমুখে যাত্রা করা শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগের দাবিতে তার বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা। মঙ্গলবার বিকেলে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা নয়া দিল্লির ৭ লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বসে পড়েন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, কে সি বেনুগোপাল, কেরলমের মুখ্যমন্ত্রী ভি ডি সতীশন ও কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার।
কংগ্রেস নেতাদের আচমকা এই পদক্ষেপ নিরাপত্তা রক্ষীদের হতচকিত করে ফেলে। তারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ছাড়াও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দিচ্ছিলেন।
দিল্লিতে ককরোচ পার্টি-পুলিশ সংঘর্ষ : ১১৮ পুলিশ আহত, গ্রেপ্তার ৭০ : ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তর ও তার সংলগ্ন এলাকাগুলোতে গতকাল সোমবার দিনভর দফায় দফায় ধাওয়া ও সংঘাত-সহিংসতা হয়েছে তরুণ-তরুণীদের ফেইসবুকভিত্তিক গ্রুপ ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং পুলিশের মধ্যে। এ সময় সিজেপি সমর্থকদের ছোড়া ইট-পাটকেলে আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১১৮ জনেরও বেশি পুলিশ।
এদিকে ‘পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলা, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সহিংস আচরণ, সরকারি যানবাহন ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি সাধনের’ অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকে অন্তত ৭০ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে এসব তথ্য।
ভারতের প্রধান তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি বা নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার তদন্ত এবং কেন্দ্রীয় সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ চেয়ে গত ৬ জুন থেকে রাজপথে আন্দোলনে নেমেছে ফেইসবুকভিত্তিক গ্রুপ ককরোচ জনতা পার্টি।
সোমবার দাবির সপক্ষে নয়াদিল্লির জন্তর মন্তর এলাকা থেকে পার্লামেন্ট অভিমুখে পদযাত্রার পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি ছিল সিজেপির। কিন্তু সকালে ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচি শুরুর অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে হামলা চালায় পুলিশ এবং পদযাত্রাকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় পুলিশ মৃদু লাঠিচার্জও করেছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষ্যদর্শীরা।
কিন্তু ‘ছত্রভঙ্গ’ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই ফের জন্তর মন্তর এলাকায় এসে জড়ো হন সিজেপি সমর্থকরা এবং তাদের কর্মসূচি ফের শুরু করার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ ফের বাধা দিতে এগিয়ে আসার পর শুরু হয় দু’পক্ষের সংঘাত।
৭০ জনকে গ্রেপ্তারের ব্যাপারে নয়াদিল্লি পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এই বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল, পাথর নিক্ষেপের পাশাপাশি বার বার পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করেছেন, সরকারি যানবাহন, সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি করেছেন এবং এত বড় মাত্রার সহিংসতা উস্কে দিয়েছেন, যা রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে গুরুতর হুমকির মুখে ফেলতে পারে।”
যে ১১৮ জনের অধিক পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে সাধারণ পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি নয়াদিল্লি পুলিশের স্পেশাল কমিশনার অব পুলিশ, জয়েন্ট কমিশনার অব পুলিশ, অ্যাডিশনাল কমিশনার অব পুলিশ, ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ, অ্যাডিশনাল ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ, অ্যাসিসটেন্ট কমিশনার অব পুলিশ এবং বেশ কয়েক জন নারী পুলিশ সদস্য রয়েছেন।
অবশ্য পুলিশের লাঠিচার্জে সিজেপি সমর্থকরা যে আহত হয়েছেন, তা ও স্বীকার করা হয়েছে বিবৃতিতে। নয়াদিল্লি পুলিশের তথ্য অনুসারে, সোমবারের কর্মসূচিতে ৬০ জন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন।
আহতদের মধ্যে কয়েক জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, বাকিদের অনেকে এখনও হাসপাতালে ভর্তি আছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মোদির বাসভবন অভিমুখে কংগ্রেসের পদযাত্রা : ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বে ভারতের সংসদ অভিমুখে পদযাত্রার একদিন পর রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেসের নেতাকর্মীরা নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবন অভিমুখে পদযাত্রা করেছেন।
মঙ্গলবার বিকেলে তারা এই পদযাত্রা করেন বলে জানিয়েছে এনডিটিভি অনলাইন। সোমবার ককরোচ জনতা পার্টির সংসদ অভিমুখে পদযাত্রার সময় বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশ এবং র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। নিট এবং অন্যান্য পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত দলটি জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর এই পদক্ষেপে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং তাদের শরীর থেকে রক্ত ঝরেছে।
অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ‘অবাধ্য, আক্রমণাত্মক ও হিংসাত্মক আচরণ’ প্রদর্শনের অভিযোগ করেছে শিক্ষার্থীদের হামলায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ১১৮ জন পুলিশ কর্মী আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার এক্স-এ লোকসভার বিরোধী দলের নেত রাহুল গান্ধী বলেছেন, কংগ্রেসের বিক্ষোভের উদ্দেশ্য ছিল বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ‘বর্বরতার’ জন্য সরকারের কাছ থেকে জবাবদিহি চাওয়া। সিজেপি থেকে আরও এক ধাপ এগিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করেন।
তিনি লিখেছেন, “গতকাল তরুণ ছাত্রদের ওপর হওয়া নৃশংসতার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জবাবদিহি চাইতে আমরা তার বাসভবনের দিকে মিছিল করেছি। সরকার কোনো দায় নিতে চায় না, কিংবা সংসদে এ নিয়ে কোনো বিতর্কও করতে চায় না। ভারতের যুবকদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করার জন্য প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত।”
কংগ্রেসের এই বিক্ষোভে অপ্রস্তুত হয়ে পড়া দিল্লি পুলিশ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে অতিরিক্ত বাহিনী পাঠায় এবং বিক্ষোভকারীদের আটক শুরু করেছে। বিজেপি কংগ্রেসের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলার অভিযোগ করেছে। কিন্তু ঘটনাস্থলে উপস্থিত কংগ্রেস নেতারা জোর দিয়ে বলেছেন যে বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
কংগ্রেস সংসদ সদস্য মণিকম ঠাকুর বলেন, “প্রধানমন্ত্রী সংসদে নেই। গতকালও তিনি খুব অল্প সময়ের মধ্যে সংসদ ছেড়ে চলে গেছেন। আমাদের কথা শোনাতে আমরা কোথায় যাব? বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।”

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button