খুলনায় বেলা’র কর্মশালায় বক্তারা

# উপকূল থেকে ৩শ’ কিলোমিটার পর্যন্ত ছড়াচ্ছে লবণাক্ততা #
স্টাফ রিপোর্টার: উপকূলীয় এলাকার গ-ি পেরিয়ে যশোর জেলার কেশবপুর পর্যন্ত লবণাক্ততার বিস্তার ঘটছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন খুলনা বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সরদার শরীফুল ইসলাম। তিনি বলেন, উপকূল থেকে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার দূরের এলাকাতেও লবণাক্ত পানির অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখনই সমন্বিত ও সচেতন উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। বৃহস্পতিবার খুলনা নগরীর আভা সেন্টারে দিনব্যাপী “মিঠা পানির যোগান নিশ্চিতকরণ ও ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় অংশীজনের করণীয়” শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে লবণাক্ততা ক্রমেই নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে, যা কৃষি, মৎস্য, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। এ সংকট মোকাবিলায় মৎস্য বিভাগ ও কৃষি বিভাগকে সমন্বিতভাবে কাজ করার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও সম্পৃক্ত করতে হবে। সিডা সুইডেনের অর্থায়নে সিএনআরএসের উদ্যোগে ‘বায়োডাইভার্সিটি ফর রেজিলিয়েন্ট লাইভলিহুডস ইন দ্য চেঞ্জিং গ্যাঞ্জেস ডেল্টা অব বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) কর্মশালার আয়োজন করে। কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য দেন বেলা’র খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাহফুজুর রহমান মুকুল। প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে আলোচনা করেন অ্যাওয়ারনেস অ্যান্ড ক্যাম্পেইন অফিসার মো. মুজাফ্ফর ফয়সাল। পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা করেন ক্যাম্পেইন অফিসার শাফায়াত উল্লাহ। কর্মশালায় খুলনার কয়রা ও দাকোপ, সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার স্থানীয় অংশীজন, উদ্যোক্তা, সংবাদকর্মী, সিপিজি সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা উপকূলীয় এলাকায় মিঠা পানির সংকট, লবণাক্ততার বিস্তার এবং স্থানীয় পর্যায়ে টেকসই পানি ব্যবস্থাপনায় করণীয় বিষয়ে মতামত ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। আলোচকরা বলেন, নিরাপদ মিঠা পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনগণ এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সমন্বিত উদ্যোগই হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের প্রধান পথ।



