খুলনায় ব্যাংকার ও তার বাবা হত্যা মামলায় ৫ আসামির মৃত্যুদ- হাইকোর্টে বহাল

# ধর্ষণ মামলায় মৃত্যুদ- কমে যাবজ্জীবন #
# দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি #
স্টাফ রিপোর্টারঃ খুলনার বহুল আলোচিত এক্সিম ব্যাংক কর্মকর্তা পারভীন সুলতানা ও তাঁর বাবা ইলিয়াস চৌধুরী হত্যা এবং ধর্ষণ মামলার দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে বৃহস্পতিবার একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের ২৯ নম্বর বিশেষ বেঞ্চে বিচারপতি বিশ্বদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে. এম. রাসেদুজ্জামান রাজা-এর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে দীর্ঘ শুনানি শেষে হত্যা মামলায় নি¤œ আদালতের দেওয়া ৫ আসামির মৃত্যুদ- বহাল রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ধর্ষণ মামলায় ৫ আসামির মৃত্যুদ- কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদ- দেওয়া হয়েছে। এই রায় নিঃসন্দেহে পারভীন সুলতানা ও ইলিয়াস চৌধুরীর পরিবার, স্বজন এবং দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় থাকা খুলনাবাসীর জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। এ তথ্য নিশ্চিত করেন মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা খুলনার সমন্বয়কারী এড. মোমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, ২০১৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বরের সেই মর্মান্তিক ঘটনা আজও খুলনাবাসীর স্মৃতিতে গভীরভাবে দাগ কেটে আছে। একই ঘটনায় এক্সিম ব্যাংকের কর্মকর্তা পারভীন সুলতানা এবং তাঁর বাবা ইলিয়াস চৌধুরীকে হারানোর বেদনা তাঁদের পরিবারকে বছরের পর বছর বয়ে বেড়াতে হয়েছে। প্রিয়জন হারানোর অসহনীয় শোককে বুকে ধারণ করে নিহতদের স্বজন রেজাউল আলম চৌধুরী বিপ্লব যে দীর্ঘ আইনি লড়াই চালিয়ে গেছেন, তা নিঃসন্দেহে এক কঠিন, ধৈর্যশীল ও বেদনাবিধুর পথচলা। ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় তাঁর এই অবিচল সংগ্রাম এই রায়ের মধ্য দিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ২০১৯ সালের ১৬ জুলাই খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩-এর বিচারক, বর্তমানে খুলনা মহানগর দায়রা জজ মো. মহিদুজ্জামান, দু’ মামলায় পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদ- প্রদান করেছিলেন। উক্ত মামলা দু’টি পি পি ছিলেন এড ফরিদ আহমেদ, বাদির পক্ষে আইনী সহযোগিতা দেন বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা খুলনা সমন্বয়কারি এড মোমিনুল ইসলাম ও এড কাজি সাব্বির আহম্মেদ। পরবর্তীতে ডেথ রেফারেন্স নং ৭৬/২০১৯ ও ৭৭/২০১৯ এবং আসামিদের আপিলের দীর্ঘ শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট এই রায় প্রদান করেছেন। এই গুরুত্বপূর্ণ মামলায় বাদীপক্ষের হয়ে আইনি লড়াই ও শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর এড. তাজুল ইসলাম, এড. আল আসাফুর আলী (রাজা). এড. তারিক ইমাম (ডি.এ.জি.)। আসামিপক্ষে ছিলেন এড. এস. এম. শাহাজাহান, এড. শেখ আতিয়ার রহমান। দীর্ঘ ছয় দিনের শুনানিতে উভয় পক্ষের আইনজীবীরা তাঁদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে গুরুত্বপূর্ণ আইনি যুক্তি উপস্থাপন করেছেন। একটি ন্যায়বিচারভিত্তিক বিচারব্যবস্থার সৌন্দর্যই হলো, প্রত্যেক পক্ষের বক্তব্য ও যুক্তি শোনার পর আদালত স্বাধীনভাবে আইন, সাক্ষ্য ও প্রমাণের আলোকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। আজকের (বৃহস্পতিবার) রায়ের মধ্য দিয়ে এই দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো। এই মামলার শুরু থেকে বাদীপক্ষকে আদালত ও হাইকোর্টে আইনগত সহযোগিতা দিয়ে আসছে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা। ন্যায়বিচারের এই দীর্ঘ যাত্রায় সংশ্লিষ্ট সকল আইনজীবী, আইনগত সহায়তাকারী এবং যাঁরা ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় পাশে থেকেছেন, আমরা কোনো প্রতিহিংসার বিচার চাই না। আমরা চাই নিরপেক্ষ বিচার। এ রায় তাই শুধু একটি মামলার রায় নয়; এটি একটি পরিবারের দীর্ঘ প্রতীক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিণতি। একই সঙ্গে এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়,ন্যায়বিচারের পথ কখনো কখনো দীর্ঘ হয়, কঠিন হয়, কিন্তু আইনের প্রতি আস্থা ও ধৈর্য ধরে সেই পথ চলতে হয়।



