খুলনার দৌলতপুরে লম্পট পিতা কর্তৃক ৯ বছরের শিশু কন্যা ধর্ষণ : গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ!

# মামলা দায়ের, আদালতে ভিকটিম ও সাক্ষীর জবানবন্দী প্রদান #
# আসামী গ্রেপ্তার, আদালতে সোপর্দ, সর্ব্বোচ শাস্তির দাবি এলাকাবাসীর
স্টাফ রিপোর্টার : খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর থানাধীন পাবলা খাঁন পাড়া এলাকায় গত, সোমবার (২৭ জুলাই) ভোরে লম্পট পিতা কর্তৃক ৯ বছরের এক শিশু কন্যাকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ওই নিকৃষ্ট, জঘন্যতম, মর্মান্তিক ঘটনাটি জানাজানি হয়ে গেলে বুধবার (২৯ জুলাই) বিকালে ওই এলাকার স্থানীয় জনতা লম্পট পিতাকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোর্পদ করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই অভিযুক্ত আসামীকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত আসামী হলেন- দৌলতপুর থানাধীন পাবলা খান পাড়া এলাকার বাসিন্দা মৃত: আনোয়ার খানের পুত্র মো. সোহেল খান (৫০)। ওই ঘটনায় বুধবার রাতে সংশ্লিষ্ট থানার এসআই আল ইমরান হোসেন বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন (মামলা নং- ১৯, তাং-২৯ জুলাই, ২০২৬)। সূত্রে জানা গেছে, ভিকটিমের মা বাসা-বাড়ীতে রাধুনীর কাজ করেন এবং পিতা নৈশ প্রহরীর (নাইট গার্ডের) কাজ করেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই লম্পট পিতা ইতোপূর্বেও ওই শিশুটিকে ধর্ষণের প্রচেষ্টা অব্যহত রাখেন এবং কাউকে কিছু বললে শিশুটিকে জানে মেরে ফেলার (হত্যার) হুমকি প্রদান করেন। এই জঘন্যতম ও নিকৃষ্ট ঘটনায় দৌলতপুর এলাকায় সর্বত্র চাঞ্চল্য ও নেতিবাচক প্রতিক্রীয়ার সৃষ্টি হয়েছে, পাশাপাশি সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গসহ এলাকাবাসী এ জঘন্য কাজে জড়িত আসামী লম্পট পিতার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে খুমেক হাসপাতালে ভিকটিমের ডাক্তারী পরীক্ষাসহ যাবতীয় কার্যক্রম শেষে খুলনার নারী ও শিশু আদালতে বিচারক মো. আসাদুর জামানের সম্মুখে ভিকটিমের ২২ ধারা ও স্বাক্ষীর (ভিকটিমের মায়ের) ১৬৪ ধারার জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়েছে এবং আসামীকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে, বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শাহবাজ নুসরাত।
পুলিশ জানায়, বুধবার বিকাল ৪ টার দিকে জরুরী সেবা ৯৯৯ কলের মাধ্যমে আমরা অভিযোগ পাই দৌলতপুর থানাধীন পাবলা খান পাড়া এলাকায় স্থানীয় জনতা এক ব্যক্তিকে মারধর করছে। ওই খবরে তাৎক্ষনিক আমরা ঘটনাস্থলে যায় এবং পিতা কর্তৃক ৯ বছরের এক শিশু কন্যাকে ধর্ষণের ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারি। পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই ওই এলাকার স্থানীয় জনতা ধর্ষক, লম্পট পিতাকে গণপিটুনি দেয় এবং আসামীকে (শিশু কন্যার পিতাকে) ঘটনাস্থল হতে গ্রেপ্তার করি।
একই দিন বিকালে গ্রেপ্তারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ আরও জানায়, বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে খুমেক হাসপাতালে ভিকটিমের ডাক্তারী পরীক্ষাসহ যাবতীয় কার্যক্রম শেষে খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে বিচারক মো. আসাদুর জামানের সম্মুখে ভিকটিমের ২২ ধারা ও স্বাক্ষীর (ভিকটিমের মায়ের) ১৬৪ ধারার জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়েছে এবং আসামীকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (২৭ জুলাই) ভোরে ভিকটিম তার নিজ বাড়ীর শয়ণকক্ষের বিছানায় শুয়ে ছিলো। ভিকটিমের মা একজন রাধুনী, তিনি রান্নার কাজে ওই সময়ে পাশর্^বর্তী ছাত্রাবাসে চলে যান এবং একই সময়ে ভিকটিমের পিতা নৈশ প্রহরীর (নাইট গার্ডের) ডিউটি শেষে বাড়ীতে আসেন এবং বিছানায় শুয়ে থাকা নিজের ৯ বছরের শিশু কন্যাকে ধর্ষণ করেন। সূত্রে আরও জানা গেছে, এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটার পূর্বেও লম্পট পিতা শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা অব্যহত রাখেন এবং ওই বিষয়ে কাউকে কিছু জানালে ভিকটিম শিশু কন্যাকে মেরে ফেলার (হত্যার) হুমকি প্রদান করেন। ভিকটিমের মা বাড়ীতে আসার পর ভিকটিম ওই ঘটনার বিস্তারিত তার মায়ের কাছে জানায়, কিস্তু লোকলজ্জা ও আত্মস¤œানের কথা ভেবে ভিকটিমের মা ওই ঘটনাটি থানা পুলিশকেও অবগত করেননি এবং বাড়ীর আশপাশের কাউকে কিছু না জানালেও প্রতিবেশীসহ স্থানীয়রা ধর্ষণের বিষয়টি জানতে পারে এবং এই নিকৃষ্ট, জঘন্য কর্মকা-ের জন্য অভিযুক্তকে বুধবার (২৯ জুলাই) বিকালে গণপিটুনি দেওয়া শুরু করলে ঘটনার এক পর্যায়ে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল হতে আসামীকে গ্রেপ্তার করে থানা হেফাজতে নেন এবং যাবতীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রাখেন বলে সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানা বিএনপির সভাপতি এম মুর্শিদ কামাল জানান, দৌলতপুরস্থ পাবলা খাঁন পাড়া এলাকায় পিতা কর্তৃক ৯ বছরের এক শিশু কন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগের ঘটনাটি অত্যন্ত জঘন্যতম, নিকৃষ্টতম, মর্মান্তিক ও দুঃখ জনক ঘটনা, এটি সামাজিক অবক্ষয় ছাড়া আর কিছুই নয়। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী, আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমান ক্ষমতা গ্রহন করার পর ধর্ষনের সর্ব্বোচ শাস্তি মৃত্যুদ- নিশ্চিত করেছেন। সুতারং, এ ঘটনায় জড়িতদের কোনো ছাড় পাওয়ার আইনি সুযোগ নেই। একই সাথে এই সামাজিক অবক্ষয়রোধে সরকারের নীতি নির্ধারকদের পাশাপাশি সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গকে সামাজিক সচেনতা বৃদ্ধি করতে হবে বলে আমি মনে করি।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ণ সংস্থার সমান্বয়কারী এড. মোমিনুল ইসলাম জানান, যে কোনো ধর্ষণই সর্ব্বোচ শাস্তিযোগ্য অপরাধ, আর শিশু ধর্ষণ এটি অপরাধের মধ্যে একটি সর্ব্বোচ নিকৃষ্ট, জঘন্যতম অপরাধ। এটি সামাজিক অবক্ষয়ের চরম পর্যায়ে পৌছালে সম্ভব। বিজ্ঞ আদালতে আসামীর অপরাধ প্রমানিত হলে আইনের বিধান ধর্ষণের সর্ব্বোচ শাস্তি মৃত্যুদ-।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শাহবাজ নুসরাত জানান, ঘটনার খবর শুনে ঘটনাস্থলে যায়, আসামীকে গ্রেপ্তার করি। ওই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় আসামীর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ৯ (১), সংশোধিত ২০২৬ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে ভিকটিমের ডাক্তারী পরীক্ষা শেষে আদালতে ২২ ধারা ও স্বাক্ষীর ১৬৪ ধারার জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়েছে। একই দিনে আসামী আদালতে সোর্পদ করা হয়। মামলার তদন্তের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোরাদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ধর্ষণের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে, ইতোমধ্যে ধর্ষণের অভিযোগে আটক আসামীকে আদালতে সোর্পদ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে ভিকটিমের সকল কার্যক্রম সম্পন্ন শেষে আদালতে ভিকটিম ও স্বাক্ষী জবানবন্দী প্রদান করেছেন। মামলার তদন্তের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।



