জনগণের সম্পদ দখল করে রাখার অধিকার কারোর নেই-রূপসায় মৎস্য সপ্তাহ অনুষ্ঠানে এমপি আজিজুল বারী হেলাল

রূপসা প্রতিনিধি : খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত এই সরকার জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, কৃষি ও মৎস্যখাতের উন্নয়ন এবং দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে কাজ করে যাচ্ছে। কৃষক, জেলে ও সাধারণ মানুষের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। দেশের মৎস্যখাতকে আরও সমৃদ্ধ ও আধুনিক করতে যা যা করা প্রয়োজন, সরকার তা করবে। মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি, মাছের প্রজনন ও জলজ সম্পদ রক্ষা এবং মৎস্যজীবীদের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডসহ সরকারের বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি প্রকৃত যোগ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধার জন্য যারা যোগ্য, তাদেরই এসব সুবিধা দিতে হবে। যারা এসব কার্ডের জন্য জরিপ করবেন এবং কার্ড বিতরণের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন, তাদের অবশ্যই স্বচ্ছতা, সততা ও শতভাগ নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে। কে কোন দলের কৃষক, কার রাজনৈতিক পরিচয় কী এসব বিবেচনা করা যাবে না। যে ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে যোগ্য, তাকেই সরকারি সুবিধা দিতে হবে। জনগণের হক জনগণকেই দিতে হবে।তিনি বলেন, জলাশয়গুলোকে উন্মুক্ত রাখতে হবে এবং দখলমুক্ত করতে হবে। খাল-বিল, নদী ও জলাশয় কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, এগুলো সাধারণ মানুষের সম্পদ। তাই জলাশয় দখল করে কৃষক ও মৎস্যজীবীর অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না এবং জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন ব্যাহত করার সুযোগ দেওয়া হবে না। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার জলাশয় দখলমুক্ত রাখতে কঠোর পদক্ষেপ নেবে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এ বিষয়ে আরও কঠোর হতে হবে। যারা জলাশয় দখল করে, সন্ত্রাস সৃষ্টি করে কিংবা সাধারণ মানুষের অধিকার কেড়ে নেয়, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া যাবে না। আমরা উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছ ছাড়ব, মাছের উৎপাদন বাড়াব, আর কেউ সেই জলাশয় দখল করে সেই মাছ ভোগ করবে এটা হতে পারে না। জনগণের সম্পদ জনগণের জন্যই উন্মুক্ত রাখতে হবে। যারা জলাশয় দখল করে রাখবে, তাদের বিরুদ্ধে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবস্থা নিতে হবে। জনগণের সম্পদ দখল করে রাখার সুযোগ দেওয়া হবে না। সে যত বড় নেতা বা প্রভাবশালী ব্যক্তিই হোক, জনগণের সম্পদ দখল করে রাখার অধিকার কারোর নেই। এসব দখলবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকার কৃষি, মৎস্য ও জ্বালানি খাতসহ দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য যে পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, তার সুফল সাধারণ মানুষ পাবে। তবে শুধু সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয় খাল-বিল ও জলাশয় দখলমুক্ত রাখা এবং মৎস্য সম্পদ রক্ষায় বিএনপির নেতাকর্মীদেরও সোচ্চার থাকতে হবে। কৃষক, মৎস্যজীবী ও সাধারণ মানুষের স্বার্থে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। দেশের কৃষক ও মৎস্যজীবীরা আমাদের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। তাদের স্বার্থ রক্ষা করা মানে দেশের স্বার্থ রক্ষা করা। কৃষি ও মৎস্যখাতকে সমৃদ্ধ করতে হলে জলাশয় রক্ষা, নদী-খাল দূষণমুক্ত রাখা, দখল বন্ধ করা এবং প্রকৃত কৃষক ও মৎস্যজীবীদের সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। সরকার ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সমৃদ্ধ, উৎপাদনশীল ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।তিনি গত ১৬ আগস্ট (রবিবার) রূপসা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় ও জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদযাপন কমিটির আয়োজনে রূপসা উপজেলা মডেল মসজিদ অডিটোরিয়ামে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা, সফল মৎস্য চাষী, উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠানকে মৎস্য পুরস্কার প্রদান এবং সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য একথা বলেন। এরপর তিনি দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরের পুকুরে ও ঘাটভোগ ইউনিয়নের নড়নীয়া বিলে মোট ১২০ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত করেন। উপজেলা মডেল মসজিদ অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভায় রূপসা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ ইফতেখারুল ইসলাম শামীমের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তৃতা করেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জ্যোতিকনা দাস। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাখেন রূপসা থানা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আব্দুস সবুর খান, খুলনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক খান জুলফিকার আলি জুলু, মোল্যা খায়রুল ইসলাম, এনামুল কবীর সজল,উপজেলা আহবায়ক মোল্যা সাইফুর রহমান,বিএনপির সদস্য সচিব জাবেদ হোসেন মল্লিক, খুলনা জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের আহবায়ক আতাউর রহমান রুনু।অনুষ্ঠানে রূপসা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফারহানা ইয়াসমিনের সঞ্চালনায় বক্তৃতা করেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ খন্দকার হিমেল, শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাঃ আবুল কাশেম,সমাজসেবা কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম তরফাদর, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শেখ বজলুর রহমান, ইউআরসি ইনসট্রাক্টর এহতেশামুল হক,পূর্ব রূপসা চিংড়ি বনিক সমিতির সভাপতি রুবেল মীর, মৎস্যচাষী খন্দকার শরিফুল ইসলাম,সুজন বসু। এসময় উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য আনিসুজ্জামান আনিস,আরিফুর রহমান আরিফ, মোল্যা রিয়াজুল ইসলাম,আছাফুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক বিকাশ মিত্র,জেলা মহিলাদলের সাধারন সম্পাদক সেতারা বেগম, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক গোলাম মোস্তফা তুহিন, জেলা মহিলাদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহানাজ ইসলাম, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক রয়েল আজম, বিএনপি নেতা এসএম আঃ মালেক, খান আনোয়ার হোসেন, মহিউদ্দিন মিন্টু, শরিফুল ইসলাম বকুল, আজিজুর রহমান, দিদারুল ইসলাম, মিকাইল বিশ্বাস, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম নন্দু, জিয়াউল ইসলাম বিশ্বাস, ইলিয়াজ হোসেন,জেলা মহিলাদের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মনিরা বেগম, বাদশা জমাদ্দার, সাইফুল ইসলাম পাইক, আবুল কাশেম কালা, মহিতোষ ভট্টাচার্য, সৈয়দ মাহমুদ আলী, শামীম হাসান, প্রধান শিক্ষক চাঁদ সুলতানা, শাবানা,হাকিম কাজী, মোঃ সাজ্জাত হোসেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের দপ্তর সম্পাদক রেজাউল ইসলাম রেজা, সাবেক ছাত্রনেতা খান আলিম হাসান, মাসুদ খান, মুন্না সরদার, আরিফ মোল্যা, জাহিদুল ইসলাম রবি, কামরুজ্জামান নান্টু, জেলা যুবদলের সদস্য তরিকুল ইসলাম রিপন,স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মোঃ রয়েল, রহিমা আক্তার নয়ন, ছাত্রদল নেতা কাজী জাকারিয়া, মোঃ দাউদ শেখ, এসএম আবু সাঈদ, মাহমুদুল হাসান, নাঈম ইসলাম, মনিশংকর রায়, মিজানুর রহমান, সিহাবুল ইসলাম, মোল্যা দুরুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম মোল্যা, আসলাম লস্কর , রহিমা আক্তার নয়ন প্রমূখ।



