স্থানীয় সংবাদ

দৌলতপুরে আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলার আসামী জামিনে বেরিয়ে নিহতের পিতাকে দেখে নেওয়ার হুমকি

# নিজ ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় জিডি #
# তদন্তপূর্বক বিষয়টির সত্যতা খুঁজে পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে : আইও #

স্টাফ রিপোর্টার : খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর থানাধীন দেয়ানা উত্তরপাড়া এলাকার কীটনাশক পানে নিহত ‘সৈকত’ এর পিতাকে আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলায় সম্প্রতি জামিনপ্রাপ্ত আসামী নুর মিয়া শেখ কর্তৃক মামলা তুলে নেওয়াসহ প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ ওঠেছে, নিহতের পিতা এ অভিযোগ করেন। ওই ঘটনায় নিহতের পিতা ছালাম নিজ ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে সংশিষ্ট থানায় সাধারন ডায়রী করেছেন (জিডি নং- ৬৪৯, তাং-১৫ আগষ্ট ২০২৬ ইং)। পুলিশ বলছে, আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম আদালতে চলমান রয়েছে। ওই মামলার এক আসামী জামিনে বেরিয়ে নিহত সৈকতের পিতাকে হুমকি প্রদান করেছেন বলে তিনি থানায় অভিযোগ করেছেন (জিডি)। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে, তদন্তে সত্যতা খুঁজে পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। নিহতের পিতা জিডিতে উল্লেখ করেন, ১. বিবাদী নবী, ২. নুর মিয়া শেখ , ৩. রুবেল শেখ, ৪. রাসেল ও ৫. জাহাঙ্গীর , সর্ব সাং- দৌলতপুর থানাধীন দেয়ানা মধ্যপাড়া, খুলনাগনের প্ররোচনায় আমার ছেলে সৈকত (২৮) আত্মহত্যা করে। ওই ঘটনায় আমার বড় ছেলে মোঃ সাগর গাজী বাদী হয়ে বিবাদীদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা করে। ইতেমধ্যে ওই মামলার এজাহার নামীয় আসামী রাসেলকে পুলিশ গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে। সম্প্রতি ওই মামলার আসামী নুর মিয়া শেখ ও জাহাঙ্গীর আদালত হতে জামিনপ্রাপ্ত হন। এছাড়া মামলার অন্য আসামীরা বিভিন্ন জায়গায় গাঁ ঢাকা দিয়ে আছে। উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগষ্ট) বিকালে দৌলতপুর থানাধীন দেয়ানা পাখির মোড় থেকে হাসপাতাল মোড়ে আসা মাত্র রাস্তার উপর জামিনে বের হওয়া আসামী নুর মিয়া শেখ আমাকে একা পেয়ে হুমকি দিয়ে বলে ‘জেলে থাকা বিবাদী রাসেল বের হওয়া মাত্র আমি ও আমার পলাতক ছেলেরা মিলে তোকে ও তোর বড় ছেলে মোঃ সাগর গাজীকে তোর মৃত ছেলে সৈকত (২৮) এর কাছে পাঠিয়ে দেবো’ বলে হুমকি দেয়। জামিনে বের হওয়া আসামীদ্বয়, পালাতক আসামীদ্বয়সহ সর্ব মিলে যেকোন সময় আমি, আমার বড় ছেলেসহ আমার পরিবারের সদস্যদের বড় ধরনের ক্ষতি সাধণ করাসহ আমাদের প্রাণে মেরে ফেলতে পারে বলে শঙ্কাবোধের পাশাপাশি চরম নিরাপত্তাহণীনতার মধ্য দিয়ে জীবন যাপন করছি। ইতোমধ্যে এ সংক্রান্তে আমি নিরাপত্তা চেয়ে এবং সার্বিক বিষয় উল্লেখ করে সংশিষ্ট থানায় জিডি করেছি। নিহত সৈকতের পিতা মো. ছালাম জানান, আমার ছোট ছেলে সৈকতকে আসামীরা বিনা অপরাধে চোর সাব্যস্ত করে মারধর করে। ওই ঘটনায় অভিমানে সে কীটনাশক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। ২৫০ বেডে টানা একমাস চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়। আমি ৩ লক্ষ টাকার উপর খরচ করেও ছেলেকে বাঁচাতে পারলাম না। ওর মৃত্যুর পর বড় ছেলে বাদী হয়ে ৫ জনকে আসামী করে মামলা করে। পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করে। বাকি দুই আসামী আদালতে আত্মসমার্পন করতে গেলে তাদের জামিন দেয় না আদালত। সম্প্রতি জামিনে বের হওয়া আসামী নুর মিয়া শেখ আমাকে মামলা তুলে নেওয়াসহ আমি ও আমার পরিবারকে দেখে নেওয়ার হুমকি-ধামকি প্রদান করেছে। আমি ও আমার পরিবারের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে ইতোমধ্যে থানায় একটি জিডি করি।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সাইফুল ইসলাম জানান, দৌলতপুর দেয়ানা এলাকায় শ্রমিক সৈকতের আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম আলাদতে চলমান রয়েছে। সম্প্রতি ওই মামলার দ্ইু জন আসামী জামিনপ্রাপ্ত হন। নিহতের পিতা অভিযোগ করেছেন (জিডিতে) সম্প্রতি জামিনপ্রাপ্ত এক আসামী তাকে মামলা তুলে নেওয়াসহ প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করেছে। তদন্তপূর্বক ঘটনার সত্যতা খুঁজে পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর থানাধীন দেয়ানা উত্তরপাড়া এলাকায় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী ছালামের পুত্র কীটনাশক (ঘাস মারা বিষ) পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। অতঃপর এক মাস খুলনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ২৪ জুন ২০২৬ ইং তারিখে বিকালে ৫ টার দিকে তার মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় নিহতের বড় ভাই বাদী হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখ করে দৌলতপুর থানায় আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলা করেন (মামলা নং-১৫, ২৪ জুন ২০২৬ ইং), বর্তমানে মামলাটি বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলে সূত্রে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button