দিঘলিয়ায় ফুটবল খেলা ও এলাকায় চুরির বিষয়কে কেন্দ্র করে দু গ্রুপে সংঘর্ষ : আহত ৫

# থানায় মামলা গ্রেফতার ১ #
দিঘলিয়া প্রতিনিধিঃ
দিঘলিয়া উপজেলার হাসপাতাল মোড়ে ফুটবল খেলা, এলাকায় চুরি, থানায় অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া মারামারি, দোকান ভাঙ্গচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় দিঘলিয়া থানার সামনে থেকে হাসপাতালের মসজিদ পর্যন্ত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এক পর্যায়ে দিঘলিয়া থানা পুলিশ থানার প্রধান ফটক বন্ধ করে দেয়। পরিস্থিতি শান্ত হলে পুলিশ এক পক্ষের নেতৃত্বে থাকা দিঘলিয়া উপজেলার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ জাকির হোসেনকে পুলিশ গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে। আর দায়েরকৃত মামলায় আসামী দেখিয়ে পুলিশ তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে। এলাকাবাসী ও পুলিশের সূত্র থেকে জানা গেছে, গত শনিবার দিবাগত রাতে দিঘলিয়া উপজেলার হাসপাতালের নিকটবর্তী বালির মাঠে ৪৮ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্ট চলছিল। রাতব্যাপী পরিচালিত এ খেলা চলাকালীন ব্রহ্মগাতী গ্রামের কয়েক বাড়িতে চুরি সংঘটিত হয়। উক্ত চুরিকে কেন্দ্র করে একটা মহল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। উক্ত অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে বাক বিতন্ডা সৃষ্টি হয়। পরে দিঘলিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম সাইফুর রহমান মিন্টু বিবাদমান দুই গ্রুপকে নিয়ে বসে বিবাদ নিষ্পত্তি করে দেয়। পরবর্তীতে রাত সাড়ে ১০ টার সময় বিচ্ছিন্ন কথা কাটাকাটি, মারামারিতে আবার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে পড়ে। দুই পক্ষই সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে পড়ে। বিচ্ছিন্ন মারামারির ঘটনায় ৫ জন আহত হয়। এ সময় রফিকের ও মিঠুনের দোকান ভাঙ্গচুর করে। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মোঃ জাকিরকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে। এ সময় পার্শ্ববর্তী দোকানদারেরা ঠেকাতে এসেও হামলার শিকার হয়েছেন। হামলায় আহত ৩ জনকে দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রথমিক চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে।
গতকাল রবিবার এ ঘটনায় দিঘলিয়া থানায় ১৭ জন এজাহার নামীয় আসামিসহ অজ্ঞাত ৩০/৩৫ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী জাকির হোসেনের নেতৃত্বে উপজেলা সদরের একটি মাঠে ৪৮ দলীয় ইনডোর ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করে। দিবারাত্রি খেলার সময় পার্শ্ববর্তী ২/৩ বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। বিষয়টি দিঘলিয়া থানায় অবগত করা হলে খেলার আয়োজক জাকির হোসেনের সাথে স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দের সাথে তর্কবিতর্ক থেকে হাতাহাতিতে গড়ায়। একপর্যায়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম সাইফুর রহমান মিন্টু উভয় পক্ষকে ডেকে বিষয়টি সমাধান করে দেয়। এরপর রাত সাড়ে ১০টার দিকে জাকিরের নেতৃত্বে থানায় অভিযোগকারি রফিকের উপর হামলা করলে স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ প্রতিবাদ করলে হামলাকারীদের সাথে বিএনপির সংঘর্ষ বেঁধে যায়। একপর্যায়ে দু গ্রুপের সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। গোটা এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ঘটনাস্থল থানার সামনে হওয়া একপর্যায়ে পুলিশ থানার প্রধান ফটক বন্ধ করে দিয়ে দুগ্রুপের উপর ব্যাপক লাঠিচার্জ করে। এসময় বারাকপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাফি উদ্দিন সাফিসহ উভয় গ্রুপের কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে রফিক(৪৫) আসলাম(৫০) ও মাইনুল(২৭) দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে।
দিঘলিয়া থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ হাওলাদার সানোয়ার হোসেন মাসুম জানিয়েছেন গতকাল সংঘর্ষস্থল থেকে জাকির(৪৭) নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। এব্যাপারে আসলাম হোসেন বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন।মামলা নম্বর-০৬ তারিখ ১৬/৮/২০২৬ ইং। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অপরদিকে দিঘলিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম সাইফুর রহমান মিন্টু বলেন, ঘটনাটি মীমাংসিত। অথচ স্থানীয় জামায়াত-শিবির পরিকল্পিত ভাবে নিরীহ মানুষের উপর হামলা করেছে। আলোচিত জাকির হোসেন বিএনপির কোন নেতা-কর্মী এমনকি সাধারণ সদস্যও নয়।
উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা মুশফিকুর রহমান বলেন, এ ঘটনার সাথে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের দূরতম কোন সম্পৃক্ততা নেই। সংঘর্ষস্থল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে দিঘলিয়া সদর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারির বদিউজ্জামান আজাদ এর ভাইয়ের ঔষধের দোকান রয়েছে। একারণে তাদের উপর একধরণের ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলে আমি জানতে পেরেছি।



