খুলনা বিভাগে এ পর্যন্ত হামে সন্দেহজনক রোগী ৯৪৮৮ : মৃত্যু ৩৩

স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনা বিভাগে হামের পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে ১৮ আগস্ট সকাল ৮টা পর্যন্ত বিভাগের ১০ জেলায় মোট ৯ হাজার ৪৮৮ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯ হাজার ৩৫ জন এবং চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৮ হাজার ৭৯৬ জন। খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তরের তথ্যানুযায়ী, এ সময়ে সন্দেহজনক হামে ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ৩৬৫ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। তবে নিশ্চিত হাম রোগে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর তথ্য নেই।
গত ২৪ ঘণ্টার চিত্র :
১৮ আগস্ট প্রতিবেদনের ২৪ ঘণ্টায় খুলনা বিভাগে নতুন করে ৫১ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫১ জন এবং চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৭৫ জন। এ সময়ে সন্দেহজনক বা নিশ্চিত হামÑকোনো ক্ষেত্রেই মৃত্যুর তথ্য নেই এবং নতুন করে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হওয়ার তথ্যও নেই।
গত ২৪ ঘণ্টায় কুষ্টিয়ায় সর্বোচ্চ ১৯ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এছাড়া খুলনায় ১৩ জন, মাগুরায় ৯ জন, নড়াইলে ৭ জন, ঝিনাইদহে ২ জন এবং সাতক্ষীরায় ১ জন শনাক্ত হয়েছেন। বাগেরহাট, চুয়াডাঙ্গা, যশোর ও মেহেরপুরে নতুন কোনো সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়নি।
জেলাভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে কুষ্টিয়ায়। জেলাটিতে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৪০৭ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তাদের সবাই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং ২ হাজার ৩৪০ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন। সন্দেহজনক হামে কুষ্টিয়ায় মৃত্যু হয়েছে ১৩ জনের। নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন ২৩ জন।
খুলনায় সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৫৩৯ জন। এদের সবাই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং ১ হাজার ৫০৬ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন। সন্দেহজনক হামে খুলনায় মৃত্যু হয়েছে ১৬ জনের। নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৪৭ জন। মাগুরায় সন্দেহজনক হাম রোগী ১ হাজার ৪৩০ জন, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩৭০ জন এবং ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ২৯৬ জন। জেলাটিতে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন ২৭ জন। যশোরে সন্দেহজনক হাম রোগী ৮৪৯ জন, হাসপাতালে ভর্তি ৬৫৫ জন এবং ছাড়পত্র পেয়েছেন ৬৬৫ জন। সন্দেহজনক হামে মৃত্যু হয়েছে ০ জনের এবং নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৫৮ জন। ঝিনাইদহে সন্দেহজনক হাম রোগী ৭৭৬ জন। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৬৬ জন এবং ছাড়পত্র পেয়েছেন ৭২৫ জন। সন্দেহজনক হামে মৃত্যু হয়েছে ২ জনের এবং নিশ্চিত হাম রোগী ১৭ জন। নড়াইলে সন্দেহজনক হাম রোগী ৬৩৬ জন। হাসপাতালে ভর্তি ৬০৭ জন এবং ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫৮৮ জন। সন্দেহজনক হামে মৃত্যু না হলেও নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৮৫ জন। মেহেরপুরে সন্দেহজনক হাম রোগী ৫৮০ জন, হাসপাতালে ভর্তি ৪৮৪ জন এবং ছাড়পত্র পেয়েছেন ৪৬৭ জন। সন্দেহজনক হামে মৃত্যু হয়েছে ১ জনের এবং নিশ্চিত হাম রোগী ১০ জন। চুয়াডাঙ্গায় সন্দেহজনক হাম রোগী ৫০৫ জন। হাসপাতালে ভর্তি ৪৯৮ জন এবং ছাড়পত্র পেয়েছেন ৪৯৯ জন। সন্দেহজনক হামে মৃত্যু হয়েছে ১ জনের এবং নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা শূণ্য। বাগেরহাটে সন্দেহজনক হাম রোগী ৫২২ জন। হাসপাতালে ভর্তি ৪৬৫ জন এবং ছাড়পত্র পেয়েছেন ৪৬৩ জন। সন্দেহজনক হামে কোনো মৃত্যু না হলেও নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৭৪ জন।
অন্যদিকে, সাতক্ষীরায় সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন ২৪৪ জন। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৪৪ জন এবং ছাড়পত্র পেয়েছেন ২৪৭ জন। সন্দেহজনক হামে কোনো মৃত্যু হয়নি। নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন ২৪ জন।



