স্থানীয় সংবাদ

খুলনা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি-এর দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন ২০২৬ প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি-এর দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন ২০২৬ প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে খুলনা ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে এম. বদরুল আনাম খান লিখিত বক্তব্যে বলেন, আমি খুলনা ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে খুলনা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র পরিচালনা পরিষদের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন ২০২৬ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় আপনাদের সামনে তুলে ধরব। আমাদের উদ্দেশ্য কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নয়; বরং খুলনা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র সকল বৈধ সদস্যের অংশগ্রহণে ও উৎসব মুখর পরিবেশে একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ, আইন সম্মত নির্বাচন নিশ্চিত করা।ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের পর গত ০২ জানুয়ারী ২০২৫ ইং তারিখে জনাব আব্দুল হাই মোঃ আনাস’কে খুলনা চেম্বারের প্রশাসক নিয়োগ করা হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁর দায়িত্ব ছিল ১২০ দিনের মধ্যে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন করে নির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। উপরন্তু একই সময়ে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়, যা খুলনা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র সংঘ স্মারক এবং সমিতির ধারা-বিধি’র সদস্যপদ সংক্রান্ত ৫ নম্বর ধারার সরাসরি লঙ্ঘন। এ বিষয়ে খুলনার ব্যবসায়ী সমাজের পক্ষে বারবার মৌখিক আপত্তি এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের কথা জানালেও তা কার্যকরভাবে বিবেচনা করা হয়নি। পরবর্তীতে প্রশাসক মহোদয়ের মেয়াদকাল বৃদ্ধি করা হলেও নির্বাচন সম্পন্ন হয়নি বরং নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির কার্যক্রম চলতে থাকে। চেম্বারে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিত্ব না থাকায় স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। যার প্রেক্ষিতে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও ব্যবসায়িক সংগঠন যেমন ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুড এ্যাসোসিয়েশন সহ বিভিন্ন সংগঠন থেকে প্রশাসক মহোদয় বরাবর চিঠি দিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় এবং দ্রুততম সময়ে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবি জানানো হয় কিন্তু নির্বাচন আয়োজনের কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। এরপর গত ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে জনাব বিতান কুমার মন্ডল নতুন প্রশাসক হিসেবে খুলনা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সদস্যপদ সংক্রান্ত প্রযোজ্য আইন লঙ্ঘন করে পূর্বের প্রশাসক মহোদয় কর্তৃক অন্তর্ভুক্ত ৪০০ সদস্যের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে নতুন প্রশাসক মহোদয় বরাবর ব্যবসায়ীবৃন্দ লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে যাচাই-বাছাইয়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সদস্যের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠে যা সমসাময়িক পত্র-পত্রিকায় গুরুত্ব সহকারে প্রকাশিত হয়েছিল। প্রশাসক মহোদয় জনাব মোঃ আরিফুল ইসলাম কে নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান নিয়োগ করে একটি নির্বাচন পরিচালনা বোর্ড গঠন করেন। ০৭ এপ্রিল ২০২৬ ইং তারিখে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য সংগঠন-১, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা নির্বাচন বোর্ডকে বাণিজ্য সংগঠন আইন ২০২২ এর ১৮ ধারা এবং বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা ২০২২ এর ১৯ ও ২০ ধারা মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে স্বচ্ছ ভোটার তালিকা প্রণয়নের মাধ্যমে নির্বাচন করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করে। বিভিন্ন অভিযোগ নিষ্পত্তি ও স্বচ্ছ ভোটার তালিকা প্রণয়ন সময় সাপেক্ষ হওয়ায় নির্বাচন পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান মহোদয় নির্বাচন স্থগিত করেন এবং পরবর্তী সময়ে পদত্যাগ করেন। পরবর্তী সময়ে গত ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ইং তারিখে জনাব আবু সাঈন মোঃ মনজুর আলম (অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার- সার্বিক) মহোদয় খুলনা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি গত ০৫ মে ২০২৬ ইং তারিখে জনাব মোঃ শাহীমুজ্জামান (পরিচালক- উপাচার্য, বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড, খুলনা) কে চেয়ারম্যান নিয়োগ করে একটি নতুন নির্বাচন বোর্ড গঠন করেন। নির্বাচন বোর্ড গত ২০ মে ২০২৬ ইং তারিখে দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন ২০২৬ এর তফসিল ঘোষণা করেন। তফসিলে নির্ধারিত তারিখে অভিযুক্ত সদস্যসহ সকল নতুন সদস্যদের ভোটার হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয় যা বাণিজ্য সংগঠন আইন ২০২২ এর ১৮ ধারা এবং বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা ২০২২ এর ১৯ ও ২০ ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে, প্রচলিত সরকারি বিধি-বিধান প্রতিপালন ও প্রয়োগ নিশ্চিতকরণ, ব্যবসায়ীদের ন্যায় সঙ্গত ভোটাধিকার আদায় এবং ন্যায় বিচারের স্বার্থে খসড়া ভোটার তালিকায় প্রকাশিত অভিযুক্তহীন সদস্যসহ নতুন সদস্যদের বিষয়ে আইনী প্রতিকারের উদ্দেশ্যে আমি এম. বদরুল আনাম খান মহামান্য হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দাখিল করি, যার নম্বর ৮৭৯১/২০২৬। পরবর্তীতে ইঞ্জিনিয়ার শেখ শফিকুল ইসলাম তুহিন সহ ১৫ (পনের) জন সদস্য নির্বাচন আপিল বোর্ডে আবেদন করেন। নির্বাচনী আপিল বোর্ড এতদসংক্রান্ত বিধি-বিধান যাচাই এবং পর্যালোচনা করে নতুন সদস্যদের নাম খসড়া ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়ে নির্ধারিত তারিখে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেন। সেই মোতাবেক খুলনা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র নির্বাচনী কার্যক্রম তফসিল অনুযায়ী পরিচালিত হতেও থাকে। উল্লেখিত রিট পিটিশনের ফলে মহামান্য হাইকোর্ট ০১ (এক) মাসের নির্বাচনী স্থগিতাদেশ সহ ০৪ (চার) সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচন বোর্ডকে কারণ দর্শানোর জন্য রুল নিশি জারি করেন। ইতিমধ্যে বিধি বহির্ভূতভাবে অন্তর্ভুক্ত যাদের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় প্রকাশিত হয়নি তাদের কেউ কেউ, কোন কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের প্ররোচনা ও প্রভাবে নির্বাচন বানচালের অসৎ উদ্দেশ্যে নির্বাচন আপিল বোর্ডের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এফ. বি. সি. সি. আই’র আর্বিট্রেশন বোর্ডে আপিল দাখিল করেন এবং একই সঙ্গে দাখিলকৃত রিট পিটিশনে পক্ষভুক্ত হয়েছেন। বর্তমানে রিট পিটিশনটি চূড়ান্ত শুনানীর অপেক্ষায় রয়েছে। মহামান্য হাইকোর্ট কর্তৃক ০১ (এক) মাসের নির্বাচনী স্থগিতাদেশের সময় অতিক্রান্ত হবার পর নির্বাচন বোর্ড গত ১১ আগস্ট ২০২৬ ইং তারিখে খুলনা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালনা পরিষদের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন ২০২৬ এর নির্বাচনী সংশোধিত তফসিল প্রকাশ করেন। নির্বাচনে আগ্রহী প্রার্থীগণের মনোনয়নপত্র সমূহ চূড়ান্ত বাছাইকালে ০৪ (চার) জন প্রার্থী ঋণখেলাপী হিসেবে চিহ্নিত হন এবং বিধি অনুযায়ী তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। তফসিল অনুযায়ী প্রার্থী প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল গত ১৯ আগস্ট ২০২৬ ইং তারিখ। যে সকল প্রার্থী একাধিক পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন, বিধি অনুযায়ী ঐদিনই তাদের অতিরিক্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে হবে। জানানমতে, ঐদিন কোন প্রার্থী যারা একাধিক পদের জন্য একাধিক মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন তারা কেউ তাদের অতিরিক্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে আমাদের বলতে হচ্ছে, সুস্পষ্ট আইন ও বিধি-বিধান থাকা সত্ত্বেও ঐ সকল নতুন সদস্যদের নানাবিধ কার্যক্রম, নির্বাচনে একাধিক মনোনয়নপত্র দাখিল এবং নির্ধারিত সময়ে অতিরিক্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করা, ঋণ খেলাপিদের নির্বাচনে যোগ্য ঘোষণার চেষ্টা ইত্যাদি নির্বাচন বানচালের সুগভীর ষড়যন্ত্রের আভাস দেয়। যার প্রতিফলন হিসেবে গত ২০ আগস্ট ২০২৬ ইং তারিখে নির্বাচন বোর্ড খুলনা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র পরিচালনা পরিষদের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন ২০২৬ স্থগিত ঘোষণা করেছেন। আমাদের দাবি, আদালত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন, আইনগতভাবে বৈধ ও নির্ভুল ভোটার তালিকার ভিত্তিতে নির্বাচন আয়োজন আমরা বিশ্বাস করি, খুলনা চেম্বার কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়; এটি খুলনার ব্যবসায়ীবৃন্দের প্রাণের সংগঠন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button